somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্রাটদের গ্রেফতার ই যথেষ্ট না

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অবশেষে ঢাকার মুকুটবিহীন সম্রাট ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হলো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ক্লাব পাড়ার ক্লাব গুলিতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর থেকেই আলোচনার হাইলাইটে আসেন সম্রাট। সম্রাটের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি ছিলেন ঢাকামহানগর দক্ষিন যুবলীগের সভাপতি। যদিও তিনি ছিলেন ঢাকামহানগর যুবলীগ দক্ষিনের সভাপতি কিন্তু ক্ষমতা আর দাপটে তিনি ছিলেন পুরো ঢাকারই অঘোষিত সম্রাট। ঢাকার প্রতিটে সেক্টর থেকেই চাঁদা ভাগ যেত সম্রাটের পকেটে। সম্রাটের ছিল বিশাল বাহিনী ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের যে কোন সভাসমাবেশের লোকের যোগান দিতেন এই সম্রাট। আর সম্রটের যে কোন ছোট খাটো অনুষ্ঠানে ও ছুটে যেতেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বড় বড় নেতারা। আর বিশেষ কিছু কারনেই হয়তো তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ অনেক বড় বড় নেতার প্রিয় হয়ে উঠেন। সেই সাথে সম্রাটের অবৈধ অর্থের ভাগ ও নাকি যেত দলের অনেক বড় বড় নেতা সহ সরকারের অনেক মন্ত্রী এমপি ও আমলাদের পকেটে। তার প্রমান যখনই ঢাকার ক্লাবগুলিতে জুয়া নিয়ে তোরপাল মানীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যখন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্লাবে ক্লাবে হানা দিয়ে ক্যাসিনো সামগ্রী মদ ও জুয়ার টাকা উদ্ধার করে হোতাদের গ্রেফতার করছে তখন ই যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী তাদের সাফাই গেয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে প্রকাশ্যে বাজে মন্তব্য করে চলমান শুদ্ধি অভিযানকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলেন। যাদিও আমাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্লাব পাড়ার এই অপকর্মের দায় এড়াতে পাড়ে না। কারন ক্লাব গুলিতে শত শত কোটি টাকার জুয়া সহ এত ধরনের অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছিল অথচ তারা কিছুই কি জানতেন না? যদিও আমরা সংবাদমধ্যম থেকে জানতে পারি ক্লাব পারার এই অপকর্মের টাকার ভাগ কম বেশি অনেকের পকেটেই নাকি গিয়েছে। কথায় আছে পাপা নাকি বাপকে ও ছাড়ে না লোভ ও সাহসে যখন মানুষকে বেপরোয়া করে তুলে তখন মানুষ অনেক হিতাহিত বুদ্ধি হারিয়ে ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে যায়। সম্রাটের বেলায় ও এর ব্যতিক্রম হয় নি। ক্ষমতার দাপটে তিনি এতটাই মাতাল হয়ে গিয়েছিলেন যে বাংলাদেশের বেওয়ারিশ লাশ দাফনের দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম যেই সংস্হাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ব্যক্তিগত ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেন কাকরাইলে সেই আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নিজস্ব ভবন নির্মানের কাজে ও মোটা অংকের চাঁদা দাবী ও কাজ বন্ধ করেদেন যুবলীগের এই নেতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌছায় এই চাঁদা দাবি ও কাজন্ধের কথা। এই কথা শুনে ভীষন ক্ষুব্ধ মননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি সাথে সাথে যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্বদেন। ওমর ফারুক চৌধুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সেই সময় কি তথ্য ও রিপোর্ট দিয়েছেন তা আমরা কেউ তেমন অবগত না। তবে তার বর্তমান কর্মকান্ড এমনটা ই প্রমান করে যে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্রাট নির্দোষ এটা প্রমানের ই চেষ্টা করেছেন এবং যেই সকল সংবাদ মাধ্যম সম্রাটের বিরুদ্ধে এমন খবর প্রকাশ করছে তারা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ভাল চায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন অত্যন্ত রাজনৈতিক বিচক্ষণ ব্যক্তি তিনি হয়তো কারো তোসামদিতে তেমন কান দেন না। সেই সাথে তার দলের ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের দ্বারা সাধারন মানুষের কেউ কেউ যে বিশেষ নির্যাতনের শিকার তা ও তিনি অবগত বিধায় শেষ পর্যন্ত দেশে শুদ্ধি অভিযানের পদক্ষে নিয়েছেন যার শুরুটা তার ঘড়ের ভেতর থেকেই। যদি সম্রাট বা শামীমদের গ্রেফতার আওয়ামীলীগের ভিতরের ই অনেক প্রভাবশালী ভাল চোখে দেখছেন না। অনেক প্রভাবশালীই সম্রাট শামীমদের রক্ষায় আদাজল খেয়ে নামলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নৈতিকতার কাছে তা মুল্যহীন। ইতোমধ্যে নানান অভিযোগে অতিষ্ট হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কে পাদছাড়া করে বিশেষ প্রশংসার অধিকারী হয়েছেন। এর পর যুবলীগের ভিতর। আর এই শুদ্ধি অভিযানে যে চিত্রফুটে উঠেছে তা সত্যিকারেই জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। সম্রাট শামীম সেলিমরা এক দিনে জন্ম হয়নি। বিশেষ ব্যক্তিদের বিশেষ স্বার্থ হাসিলের জন্যই এদের জন্ম। এই এদের দ্বারাই আজ আমাদের রাজনীতি কুলষিত। দেশের সাধারন মানুষ আজ আর রাজনীতিবিদের বিশ্বাস করতে পারেন না। শুধু সম্রাটদের গ্রেফতার করলেই কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই শুদ্ধি অভিযান স্বার্থক হবে? না মোটেও না এর আগে ও আমরা এমন অনেক অভিযান দেখেছি যার কোন সুফল ই দেশের মানুষের ভাগ্যে জুটেনি। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে শুধু দল নিয়ে ভাবলেই চলবে না তাকে ভাবতে হবে পুরো জাতি নিয়ে। কারন তার দলের ভিতর সম্রাটদের মত সন্ত্রাসীরা যেমন জায়গা করে নিয়েছে আবার মরহুম সৈয়দ আশ্রবের মত সাদাসিধে নেতার ও অভাব নেই। যদিও আজ রাজনীতিতে ব্যবসায়ীরা অনুপ্রবেশ করে আসল রাজনীতিবিদদের মাথায় ও ব্যবসার ঘুনপোকা ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর ঘুনপোকার কামড়েই সম্রাট খালেদ শামীমদের মত সন্ত্রাসীদের জন্ম হয়। সম্রাট খালেদ শামীদের নিয়ন্ত্রন করতে হলে প্রথমেই নিয়ন্ত্রন করতে হবে যারা এদের জন্ম দিয়েছে যারা এদেরকে ক্ষমতাশীন করেছে। যত দিন এই দেশে সন্ত্রাস গুন্ডা মাস্তান তৈরির সুতিকাগার ধ্বংস করা না যাবে ততোদিন কোন অভিযান ই স্বার্থক হবে না। তাই মাননীয় এবারের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান স্বার্থক করতে হলে দেশের সাধারন মানুষের আকাংখার কথা মাথায় রেখে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মুল হোতাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে পারলেই এমন অভিযান স্বার্থক হবে। আর জাতির জনকের কন্যা মানীয় প্রধানমন্ত্রী এবারের শুদ্ধি অভিযানে সেই কাজটি করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।


২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নানান রকম মানুষ, নানান রকম তাদের ভাবনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৫



১। উপরে আল্লাহ্‌ একজন আছেন। আর তিনি সবকিছু দেখছেন এবং শুনছেন। একদিন সব কিছুর উপযুক্ত প্রতিদান দিবেন কর্মফল অনুযায়ী।

২। ফেব্রুয়ারির বই মেলায় ৪০০০/৫০০০ বই বেরুবে। নিজের এক দুইটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সস্তা ভালোবাসা আর বিকৃত মানসিকতা - ১ [প্রেম ভালোবাসার নামে নির্লজ্জতা]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫২



প্রেম, ভালোবাসা নামের এখনকার সম্পর্কগুলো আজকাল খুবই সস্তা, যেন হুটহাট করেই হয়ে যায়। যত্রতত্র প্রথম দেখা, মোবাইলে অপরিচিত কারও হঠাৎ মিস কল, ফেসবুকে কিংবা ম্যাসেঞ্জারে অপরিচিত মেসেজ, এইসব দেখেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী মানুষ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৩



সকাল নয়টা।
বাসা থেকে বের হয়েছে শাহেদ জামাল। সে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার ইচ্ছা সে আজ যাবে ইজতেমাতে। অনেক ছবি তুলবে। কিন্তু অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পরেও সে কোনো বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

» শীত ঋতুর ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

১। শিশির ভেজা শিম ফুল।



প্রতিবছর শীত সিজনে গ্রামে যাওয়া পড়ে। এবার যেতে পারিনি । কারণ বড় ছেলের পরীক্ষা। শীত সিজন এবার মিস করলাম গ্রামের। সকালে ঘর থেকে বের হয়েই সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট সমস্যার বদনাম কিভাবে ঘুচবে, সমাধান কিভাবে হবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৪



ঢাকার মেয়র ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হবে; তখন শুরু হবে ভোট নিয়ে সমস্যার কথা: ভোট আগেই বাক্সে ঢুকানো হয়েছে, অন্যেরা সীল মেরেছে, ভোট দিতে দেয়নি, রিপ্রেজেন্টটেটিভদের বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×