somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

রূপার বিয়ে-শেষ পর্ব

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীর কোন নামী-দামি ক্লিনিক না। হাসপাতালে চাকরি করা এক নার্সের বাসা। এ ধরণের কেইসে কোনো হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে গেলে অনেক ঝুঁকি-ঝামেলা পোহাতে হয়, অনেক সময় পুলিশ কেইস হয়ে যায়। এসব ভেবেই ইয়াসমিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে এই নার্সের ঠিকানা পেয়েছে। তার সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার দফা-রফা হয়েছে। সবকিছু ঠিকই ছিলো, সফলভাবে এম.আর সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুহিত যা আশঙ্কা করেছিলো তাই হয়েছে। ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছে না।
নার্স বলেছিলো কিছুক্ষণ পরই ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু কয়েক ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও ব্লিডিং বন্ধ হলো না। মুহিত বেশ চিন্তায় পড়লো। সে বার বার করে ইয়াসমিনকে জিজ্ঞেস করলো, দেখো আর মনে হয় দেরি করা ঠিক হচ্ছে না। নাকি কোনো ক্লিনিকে নিয়ে যাবো?
কিন্তু শেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইয়াসমিন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় মুহিত আর ইয়াসমিনের কথা শুনলো না। ফোন করে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এলো কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম, এম্বুলেন্স এগোচ্ছে খুব ধীর গতিতে আর রূপার অবস'ার অবনতি হচ্ছে দ্রুতগতিতে। আর কয়েক’শ ফুট দূরেই ক্লিনিক, রূপা একবার চোখ তুলে তাকালো, ইয়াসমিন রূপার মাথার চুলগুলো পেছনের দিকে এলিয়ে দিয়ে বললো, এখন ভালো লাগছে মা?
ঢাকা শহর কত বড়, এখানে কত বিচিত্র মানুষ, চোখের সামনে বিল্ডিংগুলো কীভাবে তরতর করে বেড়ে উঠছে। ব্রহ্মপুত্রের চর থেকে ঢাকা আসার সময় ক্ষুধার্ত রূপার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিলো এক থালা ভাত আর একদিন চিলমারীতে রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে টি.ভি’তে দেখা ঢাকা শহর। খুব সুন্দর আলো ঝলমলে রূপকথার মতো শহর ঢাকা। ঢাকায় এসে সেই স্বপ্নের এক থালা ভাত পেয়েছে, ক্ষুধা কী তা এই ক’বছরে সে টেরও পায় নি। রূপার ক্ষুধা নিবারণ হয়েছে, ক্ষুধার জ্বালা থেকে মুক্তি পেয়েছে কিন্তু ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে গিয়ে সে যা হারিয়েছে তা তার জীবনের অমূল্য সম্পদ। নিজের ওপর রূপার ঘৃণা হলো।
আর তার কাছে রুপকথার মতো ঝলমল ঢাকা শহর! তার কাছে ঢাকা শহর আবার আলাদা কী? সেতো সেই যে চার দেয়ালে বন্দী বাসায় ঢুকেছে আর বেরোতে পারেনি। এই ক’বছরে রূপা বাসা থেকে বেরিয়েছে হাতে গোনা কয়েকবার। সে ঢাকা শহর দেখেছে জানালায় দাঁড়িয়ে। আগে বাসা থেকে দূরে দেখতে পেত অন্তত: কয়েক’শ ফুট দূরে, তারপর কাছাকাছি অনেক বড় বড় বিল্ডিং গড়ে উঠলো। রূপা আগে বাসার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে যে ঢাকা শহর দেখতো তা আর দেখা হলো না।
এই তো কয়েক মাস আগে ইয়াসমিন একবার রূপাকে মার্কেটে নিয়ে গিয়েছিলো। মাকেট কী? না, মার্কেট না, মেলায়। আসলে ইয়াসমিন তাকে নিয়ে গিয়েছিলো মেলায় কিছু কেনাকাটার জিনিস ক্যারি করার জন্য। এই যেমন: ঝাড়-, বালতি, পিঠা বানানোর বেলন ইত্যাদি। রূপার চোখ ঝলসে গেছে সেই আলোক সজ্জায়। এটা যেন মেলা না, রূপার কাছে অন্য এক পৃথিবী।
হ্যাঁ সত্যি রূপার কাছে অন্য এক পৃথিবী! চরে আমাবস্যার চেয়ে অন্ধকারেও মানুষগুলোকে আপন মনে হয় আর এখানকার অনেক কাছের মানুষগুলোও যেন একেবারে অপরিচিত। এই যে ইয়াসমিন রূপাকে খালাম্মা বলে ডাকে সে কি রূপাকে কোনোদিন আপন করে নিয়েছে? প্রথম থেকেই রূপাকে তুই তুই বলে সম্বোধন করেছে। আজ রূপা যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখন রূপাকে মা বলে সম্বোধন করেছে এটা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত না? রূপার চোখের সামনে ভেসে উঠলো প্রতারক তমালের ছবি, সে একবার চোখ মেলে তাকালো, তার চোখের সামনে বসে আছে ইয়াসমিন। রূপা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলো। দু’চোখ বন্ধ করতেই স্নেহময়ী মায়ের ছবি ভেসে উঠলো, ভেসে উঠলো এক নৌকা বরযাত্রীসহ এক অপরিচিত বরের ছবি। রূপা একটা জোরে নি:শ্বাস নিলো, যেন কষ্টের শেষ নি:শ্বাস। তারপর মেহেদি মাখা হাত দু’টো ছড়িয়ে পড়লো এ্যাম্বুলেন্সের সিটে।
চলবে...
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×