somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ যেন সেই শক্তি বা সামর্থ্য যেন আমাকে দেই ! আবার আমি ফিরতে চাই !

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন খারাপ থাকলে কুষ্টীয়া সদর হসপিটালের পাশে পুকুর পাড়ে বসে থাকতাম।
মাঝে মাঝে এমনিতেও যেতাম, বসে থকতাম পুকুর পাড়ে।
১৩ই র্মাচ ২০১১ বিকালে একটু মন খারপ ছিলো পুরোনো দিনের মত সেই পুকুর পাড়ে বসেছিলাম।
সন্ধ্যার কিছু আগে এক মহিলা এসে বলছিলো বাবা আমাকে কেউ রক্ত দিতে পারবা? ওহ সেদিন পাশে আমার এক বড় ভাই ছিলেন। তো আমরা জিগেস করলাম কি হয়েছে আপনার?
মহিলাঃ আমার মেয়ের অপেরেশন হচ্ছে , এখনো রক্ত লাগবে ২ ব্যাগ । ম্যনেজ করছিলাম ডক্টর বলছে এখনো রক্ত লাগবে, আমি গরিব মানুষ মেয়ে ছাড়া আমার কেউ নেই।

বললাম আর কেউ নেই আপনার সাথে?
মহিলাঃ আমি আমার মেয়ে ছাড়া কেউ নেই। কিছু দিন আগে আমার সামি এক্সিডেন্টে মারা গেছে।

সাথে থাকা বড় ভাই বললো চলে আমি রক্ত দিবো। কি রক্ত?
বললো এ পজেটিভ। বড় ভাইয়েরও ও পজেটিভ ছিলো

সো আমরা গেলাম ওনার সাথে হস্পিটালের ভিতর। বাট অপেরেশন তখন শেষ। শুনলাম পেসেন্ট মারা গেছে বাঁচাতে পারেনি।

জানি না সেদিন সেই ঘটনার পর আমার ভিতর কি লাইটমেন্ট হয়েছিলো ! অনেক কিছু ভাবছিলা তারপর। ২ দিন পর সিধান্ত নিলাম যে একটা ব্লাড ডোনার গ্রুপ করবো আশে পাশের মানুষ গুলো কে নিয়ে। বড় ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে সিধান্তে গেলাম যে আমরা আগামিকালই একটা ব্যবস্থা করবো।

নতুন একটা গ্রুপ করলাম। নাম দিয়েছিলা বি,ডি,পি - ব্লাড ডোনার র্পাটি। গ্রুপের জন্য তারপরের দিনই মেম্বার শিপের ফরম তৈরি করেছিলাম। শুরুতে ১০ জন হয়েছিলো। পরে মোট ৮৪ জনের একটা টিম হয়েছিলো।

খুব ভালো ভাবেই কার্যক্রম চলছিলো। কিন্তু গ্রুপ চলতেও তো কিছু টাকা পয়সার দরকার ছিলো। যার জন্য ৮ মাস পরেই সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছিলো। কজ টিমের প্রায় সব টাকা আমিই বেয়ার করতাম। খরচ টা একটু বেশি ছিলো কারন - যাকে রক্ত দেওয়া হত মেক্সিমাম সবাই গরিব। আর এমনিতেও অবস্থা ভালো এমন কাওকে রক্ত দেওয়া নিয়ম ছিলো না। শুধু মাত্র অসহায়ের জন্য।

যাই হোক আর আর তারপরেও সবাই প্রায় কুষ্টীয়া ত্যাগ করছিলাম। আমরা ওখানে পড়াশুনার জন্য ছিলাম।

এখনো সেই ফরম গুলো পড়ে আছে। রেজিট্রেশনের সেই ফাইল গুলো আজ দেখলাম যখন রুম পরিষ্কার করছিলাম।


যাই হোক ইচ্ছা আছে এ বছরের শুরুতে একটা আবার টিম করবো। জুন মাসে লন্ডন চলে যাবো ইনশাআল্লাহ । প্লান করেছি র্পাট টাইম যা কাজ করবো নিজের খরচ বাদে যা টাকা থকবে পুরোটা এর পিছনে খরচ করবো।
যে টিমে কাজ হবে -

* ব্লাড ডোনেট !
*পথ শিশুদের কে পড়ার জন্য স্কুল !
* ক্যম্পেইন করে মানুষকে সচেতন করা !
* সাময়িক দূর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো !




এটা কিছুদিন আগের একটা ছবি। উত্তরাতে একটা স্কুল ছিলো যেখনে পথ শিশুদেরকে পড়ানো হতো। সন্মানিত ব্লগার বাকের ভাই ঐ স্কুলের ভলেন্টিয়ার ছিলেন। র্দুভাগ্য বসত স্কুলটা এখন আর নেই। ভলেন্টিয়ার + ডোনেটেশন।

ইচ্ছা আছে আমি এদের কে নিয়ে কিছু করবো। ইনশাআল্লাহ এই বছরের শুরুতে এমন দু একটা স্কুল করবো। দোয়া করবেন যেন মনে ইচ্চা গুলো সফল করতে পারি। বড় একটা ফান্ড নিয়ে স্টার্ট করবো এবার , যেন কার্যক্রম সফল হয়। ভলেন্টিয়ারের জন্য কিছু কিছু র্ভাসিটিতে ক্যম্পেইন করবো যদি ইচ্ছুক কিছু মানুষ পাই।

আজ অনেকের সাথে বিষয় গুলো নিয়া আলোচনা করলাম। ইনশাআল্লাহ কিছুদিনের ভিতর আস্তে আস্তে এগোবো !

দোয়া করবেন !! যেন মানুষের পাশে দাড়াতে পারি আবার !

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১২:০৯
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×