somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের শেষ গল্প

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুবি বেগম এবং সন্ধা রানী বৃদ্ধাশ্রমের ঘড়টাতে
পাশাপাশি থাকে।একদিন কৌতুহল নিয়ে সন্ধা রানী রুবি
বেগমকে বললেন,আপা আপনার ছেলে শুনলাম কোটিপতি একটাই
মাত্র ছেলে আপনার তাহলে আপনি এই বয়সে এখানে কেনো?
রুবি বেগম:সবটাই নিয়তি
সন্ধা রানী:যদি কিছু মনে না করেন আমাকে বলতে পারেন রুবি বেগম:একাত্তরে যখন যুদ্ধ চলেছিলো তখন বাবলু(আমার
ছেলে)আমার পেটে ছিলো।ওর বাবা যুদ্ধে শহীদ হয়।
বাহাত্তরে ওর জন্ম হয়।ছেলের আমার চেহারা হয়েছিলো
রাজপুত্তুরের মতো(চোঁখে কোনে পানি)
সন্ধা রানী:তারপর?
রুবি বেগম: ঘড়ে যেগেতু উপার্যন করার মানুষ ছিলোনা তাই আমি নিজেই মানুষের দারে দারে ভিক্ষা করে খাবারের
জোগার করি,এরকম তো আর চলেনা তাই গ্রামের এক মুরুব্বির
কথায় ঢাকায় তার ছেলের বাসায় কাজ নেই।দিনগুলো ভালো
ছিলো সারাদিন খাটুনির পরে মানিক যখন আমার বুকে ঘুমাতো
তখন সব কস্ট দূর হয়ে যেত
সন্ধা রানী:আপনার হাতের পোড়া দাগটা কিসের? রুবি বেগম:আমার বাবলু একদিন মজা করে বল মেরে ছিলো
(একটু মুচকি হাসি) আমি তখন রান্না করছিলাম,বলটা গরম
তেলে পরাতে তেল আমার হাতে ছিটকে পরে
সন্ধা রানী:ও.....হ্যাঁ তারপর বলুন
রুবি বেগম:ওখানে কাজ করেই ছেলেকে বি এ পাস
করাই,যাদের বাসায় কাজ করতাম তারাও অনেক সাহাজ্য করে বাবলুর পড়াশুনার জন্য।এরপর ও একটা কোম্পানিতে ভালো
বেতনে চাকরি পায় আমিও কাজ ছেরে দেই শরীরেরও বয়স
বেড়েছে কাজ করতেও অক্ষম হয়ে গেছি।বাবলুকে নিয়ে
ভালোই ছিলাম
সন্ধা রানী:তারপর কি হলো ভালোই তো চলছিলো
রুবি বেগম:ছেলে আমার রাজপুত্র ছিলো,দেখার মতো।একদিন কোম্পানির মালিক রফিক সাহেব বাবলুকে দেখলো এবং তাকে
দেকে পাঠালো
রফিক সাহেব:বাবলু তোমার কে কে আছে?
বাবলু:স্যার শুধু মা
রফিক সাহেব:বাবলু তোমাকে আমার অনেক পছন্দ,আমি তোমাকে
কিছু কথা বলতে চাই বাবলু:জ্বী স্যার বলুন
রফিক সাহেব:বাবলু আমার একটা মাত্র মেয়ে আছে মেরিনা
আমি চাই তুমি ওকে বিয়ে করো,তবে তার জন্য তোমাকে কিছু
শর্ত মানতে হবে
বাবলু:বলুন স্যার(কিছুটা লোভি দৃস্টি)
রফিক সাহেব:আমার যেহেতু একটি মাত্র মেয়ে তাই আমি চাই যে আমার মেয়েকে বিয়ে করবে সে সারাজীবন আমার কাছেই
থাকবে এবং আমার সব বিজনেস সে পরিচালনা করবে।এখন
কথা হলো তুমি যদি আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাও তাহলে
আমার কথাগুলো মানতে হবে
বাবলু:স্যার তাহলে আমার মা এর কি হবে
রফিক সাহেব:বাবলু তুমি এখনও মধ্যযুগেই রয়ে গেছো,তুমি হয়তো যানোনা এই শহরে এমন কিছু যায়গা আছে যেখানে
শতশত বৃদ্ধ মানুষ একসাথে থাকে।ওখানে পাঠিয়ে দাও
মাসেমাসে দেখা করবে খরচ দিবে আর কি চাই
বাবলু:স্যার আমি ভেবে যানাবো(চিন্তাযুক্ত স্বরে)
রফিক সাহেব:ওকে তাহলে এখন আসতে পারো।
সেদিন বাবলু ঘড়ে এলো খাবার দিলাম বলল মা এখন খিদে নেই পড়ে খাবো(চিন্তিত ভংগি)
রুবি বেগম:কি হয়েছে তোর?শরীর খারাপ নাকি?অফিসের
কেনো ঝামেলা?
বাবলু:না মা তেমন কিছু নয়
রুবি বেগম:কিছু তো হয়েছে মাকে বল কি হয়েছে
বাবলু:একে একে সব কথাগুলো বললো রুবি বেগম:সব শুনে ধুর পাগল আমি আর কয়দিনই বা বাঁচবো
তোর তো জীবন শুরু,রফিক সাহেব যা বলেছে মেনে নে আমিও
মানিয়ে নেবো!
সন্ধা রানী এতক্ষন চুপ করে ছিলেন,এবার একটা বড়
দীর্ঘশ্বাষ ছেরে বললেন আপনি মা আপনি সন্তানের জন্য
সবকিছু ছারলেন কিন্তু সন্তান কিভাবে আপনাকে ছেরে দিলো রুবি বেগম:বাবলু বলেছিলো আমাকেও তাদের সাথে রাখবে
কিন্তু ওর বউ রাজী হয়নি,সে বলেছে মানিয়ে নিতে
পারবেনা আমার আর তাদের সমাজ অনেক আলাদা
সন্ধা রানী:আপনি কি সুখি?
রুবি বেগম:হ্যাঁ আমি অনেক সুখি কারন আমার ছেলে এখন
সমাজের দশজনের একজন সন্ধা রানী:আর আপনার ছেলে সে কি সুখি?
রুবি বেগম:সারারাত কাঁদলেন এবং উত্তর খুজলেন,তার বাবলু
কি সুখি?যে সব ছেলেরা মা বাবাকে ছেরে আলাদা থাকে
তারা কি আসলেই সুখি???
প্রশ্নটা আমারও রইলো সমাজের এই ধরনের মানুষগুলোর কাছে
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×