somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যময় প্রাচীন চায়না সভ্যতা এবং অমিমাংসিত কিছু প্রাকৃতিক রহস্য সম্পর্কে।

১৩ ই মে, ২০১২ রাত ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রহস্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ সীমাহীন।সৃষ্টির সেই আদিকাল থেকে মানুষ ছুটেছে রহস্যের পিছনে। সৃষ্টির শুরুতে সকল কিছুই ছিল রহস্যে ঘেরা।আস্তে আস্তে মানুষের প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে আর মানুষ খুজে বের করেছে তার কারন।৫০বছর আগে যা আমরা কল্পনা করতে পারতাম না বর্তমানে প্রযুক্তির কারনে তা এখন ডালভাত।তবুও এমন কিছু রহস্যময় ঘটনা আছে যে গুলোর কারন সম্পর্কে আজও ভালভাবে জানা যায়নি বা অন্য ভাবে বলতে গেলে ব্যখ্যাতীত তবুও বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য কিছু ব্যখ্যা দিয়েছেন তাও অতটা স্পস্ট নয়।এগুলো সাধারনত সুপার ন্যাচারাল বা অতিপ্রকৃত ঘটনা হিসাবে পরিচিত।আজ আমি আপনাদের তেমনই কিছু রহস্যের কথা বর্ননা করব।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য


বারমুডা ট্রায়াঙ্গল পৃথিবীর রহস্যময় স্থানগুলোর অন্যতম। কিন্তু ইতোমধ্যেই যে প্রমাণিত হয়েছে, কিছু প্রকৃতিগত ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ছাড়া এই ট্রায়াঙ্গল অন্য সব এলাকার মতোই স্বাভাবিক- সেই খবর বোধকরি খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেনি।

এটা ঠিক, পৃথিবীর সবচাইতে অভিশপ্ত স্থানগুলোর মধ্যে বারমুডা টায়াঙ্গল বা ত্রিভুজকে চ্যাম্পিয়ন বলে মনে করা হয়। কারণ এ যাবৎ এখানে যতো রহস্যময় ও কারণহীন দুর্ঘটনা ঘটার কথা শোনা গিয়েছে, অন্য কোথাও এতো বেশি এরকম দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়। এ জন্যে স্থানীয় অধিবাসীরা এ এলাকাটির নামকরণ করেছে পাপাত্মাদের ত্রিভুজ।

বারমুডা ত্রিভুজের অবস্থান হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগরে। মোট তিনটি প্রান্ত দ্বারা এ অঞ্চলটি সীমাবদ্ধ বলে এর নামকরণ করা হয়েছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল বা বারমুডা ত্রিভুজ। এ অঞ্চলটি যে তিনটি প্রান্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ তার এক প্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোরিডা, একপ্রান্তে পুয়ের্টো রিকো এবং অপর প্রান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুদা দ্বীপ অবস্থিত। ত্রিভুজাকার এই অঞ্চলটির মোট আয়তন ১১৪ লাখ বর্গ কিলোমিটার বা ৪৪ লাখ বর্গ মাইল। এটি ২৫-৪০ ডিগ্রি উত্তর আংশ এবং ৫৫-৫৮ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

এ অঞ্চলের রহস্যময়তার একটি দিক হলো, কোনো জাহাজ এই ত্রিভুজ এলাকায় প্রবেশ করার কিছুণের মধ্যেই তা বেতার তরঙ্গ প্রেরণে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং এর ফলে জাহাজটি উপকূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়। একসময় তা দিক নির্ণয় করতে না পেরে রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। মার্কিন নেভির সূত্র অনুযায়ী, গত ২০০ বছরে এ এলাকায় কমপে ৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০টি বিমান চিরতরে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালের মে মাসে হারিয়ে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের ঘটনাটি সারা বিশ্বে সবচাইতে বেশি আলোড়ন তুলে।

১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই পাচটি বোমারু বিমান প্রশিক্ষণ চলাকালীন হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাবার মুহূর্তে বৈমানিকদের একজন অতি নিম্ন বেতার তরঙ্গ পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার এই বেতার বার্তাতে বারবার একটি কথাই বলা হচ্ছিলো, ‘সামনে প্রচণ্ড কুয়াশা। আমরা কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কোথায় যে যাচ্ছি তাও বুঝতে পারছি না। আমাদেরকে উদ্ধার কর।’ এ বার্তা পাওয়ার পরপরই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী টিম এ অঞ্চলের দিকে রওয়ানা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে তারাও নিখোঁজ হয়ে যায়। এভাবে এ এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে বলে মনে করা হয়। সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয় হলো, হারিয়ে যাওয়া এসব যানগুলোর কোনো ধ্বংসাবশেষ পরবর্তীকালে অনেক খুঁজেও পাওয়া যায় নি।

এর রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন সময়ে বেতার তরঙ্গের অনুপস্থিতির কথা বলা হলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ এলাকায় বেশ কিছু গবেষণা চালিয়েও তেমন কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি। অনেকে মনে করেন, নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী এ এলাকায় মাঝে মাঝে বেতার তরঙ্গ হয়তো হারিয়ে যায়, তবে তা সবসময়ের জন্য নয়। কারণ পৃথিবীর কোনো এলাকায় স্বাভাবিক বেতার তরঙ্গের প্রবাহ হারিয়ে যেতে বা নিশ্চিহ্ন হতে পারে না। তা হলে সারা পৃথিবীর বেতার সিস্টেমই ধ্বংস হয়ে যাবে।

তবে গবেষকরা হারিয়ে যাওয়া যানের ধ্বংসাবশেষ না পাওয়ার যে ব্যাখ্যাটি তারা দিয়ে থাকেন সেটি হলো, আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে একটি অন্যতম গভীর স্থান হচ্ছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। এমনকি আধুনিক ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি সরঞ্জাম দিয়ে এই অঞ্চলে উদ্ধার কাজ চালানো এখনো দুরূহ। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কারণে ধ্বংসাবশেষ কোথায় আছে তা হয়তো জানা সম্ভব, কিন্তু সেগুলো উদ্ধার করা ততোটাই কঠিন। ফলে এ এলাকায় কোনো ধ্বংসাবশেষ নাও পাওয়া যেতে পারে।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালো পাথর

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



এক সুন্দর সকালে হিমু রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো।
হঠাত সে ফুটপাতে এক টুকরো পাথরের সাথে উষ্ঠা খায়। উষ্ঠা খেয়ে হিমু মাটিতে পরে যায়। পাথরের পাশে এক ভিক্ষুক ভিক্ষা করছিলো। পাথর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১:২৫


সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটো স্ট্যাটাস পড়লাম। দুজনই বিএনপি সমর্থক।
প্রথমজন লিখেছেন, গতকালকের গরম খবর ছিল আওয়ামী লীগরে ঝুলায় মারছে বিএনপি বা জামায়াত শিবির। তারপরে প্রথম আলো নিউজ করলো পদ্মার পাড়ে কৃষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত....

অনেকেই “ব্যারেজ” এবং “ব্রিজ”কে একই ধরনের স্থাপনা মনে করেন। বাস্তবে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। তাই প্রথমেই ব্রীজ এবং ব্যারেজের পার্থক্য-

ব্রিজ (Bridge) কী?
ব্রিজ বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমানার ওপারে মৃত্যু: একটি আরিয়ান ইনভেস্টিগেশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৫

শহরের এক কোণে কাঁচঘেরা ক্যাফে 'ব্ল্যাক মেমোরিজ'। বাইরে বৃষ্টির ঝিরঝিরে শব্দ, ভেতরে হালকা জ্যাজ মিউজিক। পিবিআই-এর তুখোড় ইনভেস্টিগেটর আরিয়ান টেবিলের এক কোণে বসে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিচ্ছিলেন। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকিয়ে যাওয়া গাছে মালি বদলালেই ফুল ফোটে না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮


২০২৩ সালের আগস্ট মাস। আওয়ামী লীগ সরকার সবে সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, "আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের পকেট থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×