দেওবন্দী মাওলানাদের কাছে হারাম বলতে কিছু নেই তাদের কাছে সবই জায়েয। প্রয়োজনে মাজুরের দোহাই দিয়ে সবকিছু জায়েয ফতওয়া দেয়। নাউযুবিল্লাহ!
এবার পড়ুন দেওবন্দী মাওলানা কিভাবে হাফিজে কুরআন শরীফ হওয়ার পরও হারাম ইয়াবার সাথে জড়িত হয়।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ (২৫)। পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি ও মুখে দাড়ি। শুধু তাই নয়, পবিত্র কোরআনের ৩০ পারার হাফেজ। ২৫ বছরের জীবনে কখনও ধূমপান করেনি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সুলতান একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। এতোসব গুণের আড়ালে সহজেই সে ইয়াবা পাচার করে থাকে
গত ৫ বছর ধরে সে টেকনাফ থেকে রাজধানীতে ইয়াবার চালান নিয়ে এসেছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজধানীর পল্লবী থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার বাউনিয়া বাঁধে বায়তুল আমান কুয়েতি মসজিদে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করেছে। একইসঙ্গে তার আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সুলতানের কক্ষে রক্ষিত পবিত্র গ্রন্থ ও ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে ১৪৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত বলেন, সুলতানের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফে। সেখানে তার পরিবারের লোকজন মিয়ানমার থেকে টেকনাফে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। ওই চালান বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে রাজধানীতে সুলতানের মসজিদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। কখনও কখনও সে সরাসরি কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে গিয়ে ওই চালান নিয়ে আসে। পরে ইয়াবার খুচরা ব্যবসায়ীরা মুসল্লিবেশে তার মসজিদে প্রবেশ করে। নামাজ শেষে তাদের কাছ থেকে টাকা বুঝে নিয়ে চালান সরবরাহ করে থাকে। গোয়েন্দারা জানান, গ্রেপ্তারের পরপরই সুলতানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে আনা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ইয়াবা ব্যবসার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কাফরুল, যাত্রাবাড়ী, গুলশান ও মতিঝিল সহ বিভিন্ন এলাকার ২৫ জন ইয়াবা ডিলারের নাম বলেছে। প্রতি মাসে তিন থেকে চারবার তাদের কাছে ইয়াবার চালান বিক্রির কথা স্বীকার করেছে। হুজুর বেশে প্রতিবারই সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়েছে। মসজিদে বসে ইয়াবার গোপন ব্যবসার খবর ফাঁস হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মসজিদের ইমামসহ নামাজিরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তার বিচার দাবি করেছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সুলতান ছোট বেলা থেকে ওই এলাকার মাদরাসায় পড়াশোনা করেছে। একইসঙ্গে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছে। এ কারণে তার ব্যাপারে কেউ সন্দেহ করেনি। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েযন্দা পুলিশ। তারা হলো- আফতাব মিয়া ওরফে আরিফ (৫৪) ও শাহিন মিয়া (২১)। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনের (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করার পর মসজিদের দোতলায় রক্ষিত মুয়াজ্জিনের নিজস্ব ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে ১৪৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যবসার সঙ্গে তার আপন ছোট ভাই জড়িত। সে আরও বলে, সুলতান ৬ বছর আগে হাফেজি পাস করেছে।
এরপর কওমি মাদরাসা থেকে ডিগ্রি নিয়ে পল্লবীর ওই মসজিদের মুয়াজ্জিনের চাকরি নেয়। দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় ছোট ভাই সাইফুলের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত দিয়ে টেকনাফে ইয়াবা নিয়ে আসে। এরপর ইয়াবার চালান সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস ও এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠায়। প্রতি সপ্তাহেই টেকনাফ থেকে তার কাছে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার পিসের ইয়াবার চালান আসতো। ওই চালান তার দুই সহযোগী আরিফ ও শাহিনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকয় পাঠিয়ে দিতো। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানায়, এক বন্ধুর মাধ্যমে সুলতানের সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর সে সুলতানের সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা পেতো। তার কাছ থেকে ২২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র- এখানেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


