সবাই জেনে গেছে বিডিআর এর সদর দপ্তর পিলখানাতে বিডিআররা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। চলছে গোলগুলি। সমর্থিত অসমর্থিত বিভিন্ন সূত্রের নিউজ থেকে জানা গেছে এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছে। আহত হয়েছে বেশ কিছু। বিডিআর দের ডিজির সর্বশেষ কোন নিউজ জানা যাচ্ছেনা। শোনা গিয়েছিলো উনি গুলিবিদ্ধ।
বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল গুলো সকাল থেকে ঘটনার সরাসরি প্রচার করলেও এখন হয়তো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একটু লাঘাম ধরেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে এ ঘটনা আল জাজিরা, বিবিসির ওয়েবসাইটের সৌজন্যে সারা বিশ্ববাসীদের কাছে চলে গেছে। ফলে অবদারিতভাবেই বলা যায় তাতে দেশের ভাবমূর্তির মোটেও কোন উজ্জল্য ছড়াবেনা এ ঘটনা।
যতদূর জানা গেছে - গতকালকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরবার হলের এক অনুষ্টানে বিডিআর দের দাবিদাবা শোনেনি। বহুদিন যাবৎ সাধারন সৈনিকদের অনেক দাবিদাবা জমে ছিলো। তথাপি বিডিআর দের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুযোগ সুবিধা বাড়লেও সাধারণ সৈনিকদের ততটা সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। ফলে তাদের সে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটা। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেউই কেন বুঝতে পারলোনা এ ধরণের একটা বিদ্রোহ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় সেনাবাহিনী সাথে সাথে হেলিকোপ্টার নিয়ে গিয়েছিলো। সেই কপ্টারকে লক্ষ্য করে বিডিআররা কামানের গোলাও নাকি ছুঁড়েছে। অনেকেই হয়তো এখানে সেনাবাহিনীর দাম্ভিকতার প্রকাশ দেখাতে চাইবে। কিন্তু ঘটনার আকস্মিকতায় হয়তো সেনাবাহিনীর মাথায় এর চেয়ে ভালো কোন বুদ্ধি আসেনি। সেটা খুব অস্বাভাবিকও না।
গুজব ছড়িয়েছিলো যে সেনাবাহিনী পিলখানা দখল করার ঘোষণা দিয়েছিলো। আর বিডিআর রাও যে কোন মূল্যে সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করবে বলে ঘোষণা দেয়। তখনি আমার মনে একটা অজানা শঙ্কায় কেঁপে উঠে। বিডিআররা কোন অবস্থাতেই সেনাবাহিনীর সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবেনা। সেই চিরন্তন সত্যটা আমি আমরা সবাই জানি। ফলে পরিস্থিতি যায় হোক আমি বিশ্বাস করি এ ঘটনা হয়তো আর বেশীদূর এগোবেনা। আবার সেনাবাহিনীও অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব রাখছে বলে একটা সূত্র থেকে জানা গেছে। অন্য একটা পক্ষ থেকে জানা গেছে সেনাবাহিনী হার্ডলাইনে চলে গেছে।
আমরা জানি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী একটা চেইন অফ কমান্ডের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ফলে বিডিআরের প্রধানের স্থলে এখন কে কলকাঠি নাড়ছে তা জানা না গেলেও যদি উনারা আবার গো ধরে থাকে যে কোন অবস্থাতেই ব্যারাকে ফিরে যাবেনা (যেহেতু এখন সাধারণ সৈনিকদের মাঝে একটা ভয় কাজ করতেছে যে ব্যারাকে যাওয়ার পর এদের ভবিষ্যত কি হবে?) তাহলে এর পরিণতি কতদূর যাবে তা একমাত্র আল্লাহই জানে।
আমরা জানি, বাংলাদেশের সীমান্ত অতন্দ্র প্রহরীদের মতো পাহাড়া দিচ্ছে এই বিডিআর। সেই সব বিডিআরদেরই বা মনের অবস্থা কি তাদের ভাইদের বিদ্রোহের কথা শুনে? তারা কি বিচলিত হয়ে উঠেছে? সেই সুযোগ টা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত প্রহরীরা নেয়। তারা যদি সীমান্তে কোন গলযোগ সৃষ্টি করে?
আরেকটা বিষয় হলো বিডিআররা যদি এইবার সেনাবাহিনীর এ হস্তক্ষেপকে অন্যভাবে নিয়ে নেয়। তাহলে আরেকটা সমস্যা সৃষ্টি হবে। তারাও সেনাবাহিনীর মতো অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা চাইবে। অস্ত্রের মজুদ চাইবে। সেনাবাহিনীর সাথে মনতাস্থিক একটা দ্বন্ধে নিজেদেরকে জড়িয়ে রাখবে। ফলে সে সুযোগে বিদেশী বেনিয়ারা এ দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গুলার বাংলাদেশকে তখন ডায়মন্ড ট্রায়াঙ্গুলার বাংলাদেশ বানিয়ে ফেলতে চাইবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

