লেখার শুরুতেই হুমায়ূন আহমেদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
গুলতেকিন আহমেদের বড় ভাই "অবাক" ভাই ছিলেন আমার সিনিয়র ভাই এবং বন্ধুর মতো। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ধানমন্ডি রোড-৩/এ তে আমার নিজের অফিস ছিল। ঘটনাক্রমে অবাক ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় এবং সেই থেকে প্রায় প্রতিদিন দক্ষিন হাওয়া থেকে অবাক ভাই সন্ধ্যা বেলায় আমার অফিসে আসতেন। এসেই বলতেন জহির এক গ্লাস পানি খাওয়াবে...? আমি আমার স্টাফকে বলতাম গ্লাস পরিস্কার করে পানি দিতে (অবশ্য আমার স্টাফরা ততদিনে বুঝে গেছে যে তিনি আসলেই পানি দিতে হবে)। এবং সিগারেট ধরানোর জন্য অনুমতি চাইতেন ( আমি তার বয়সে ছোট হলেও তিনি ছিলেন খুবই বিনয়ী)। আমি অনুমতি দিতাম না কারণ আমার অফিসে ধুমপান নিষিদ্ধ ছিল।
তিনি "ওকে ফাইন বাইরে গিয়ে খাবো" বলতেন।
অবাক ভাই ছিলেন খুবই স্পটভাষী,সদালাপী, শিক্ষিত এবং একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ( যদিও তার কিছুটা মানুষিক সমস্যা ছিল, তবে কেউ বেশী মেলেমেশা না করলে বুঝা মুশকিল)।
তিনি প্রায় এসে আমার সাথে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গল্প করতেন তিনি কিছুটা মাত্রাতিরিক্ত কথা বলতেন তারপরও শুনতাম কারণ তার কাছ থেকে অনেক কিছু জানার বা শেখার ছিল।
আমার অফিস থেকে প্রায়ই হুমাযূন আহমেদ ও শাওনকে দেখা যেতো তারা এক সাথে "দক্ষিন হাওয়া" থেকে একটি স্কাই লাইট মাইক্রো দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
হুমাযূন আহমেদ প্রসংগ আসলে অবাক ভাই বড়ই আফসোস ও দূঃখের সহিত আমাকে বলতে "হুমাযূন আহমেদ আজ এই জায়গায় এসেছেন আমাদের পারিবারিক সহায়তায় আর এই দক্ষিন হাওয়ার জমি আমার দাদার সম্পত্তি (অবশ্য হুমাযূন আহমেদ নিজেও এই রূপ কথা তার অনেক বইয়ে লিখেছেন)। তিনি আরও বলতেন জহির "হি ইজ জিনিয়াস"। হুমাযূন আহমেদের তুলনা হুমাযূন আহমেদ নিজেই। এই ক্ষেত্রে তাকে আমি সন্মান করি।
পরিশেষে একটি কথা বলি.....(কথাটি তার মুখ থেকে শুনা)
অবাক ভাই বলতেন শাওন হুমাযূন আহমেদকে বিয়ে করেছে তার খ্যাতি ও সম্পত্তি দেখে, তুমি দেখো শাওন একদিন এগুলি কব্জা করে ভেগে যাবে।
আজ মনে হচ্ছে অবাক ভাইয়ের কথাটি একদিন সত্য প্রমানিত হতেও পারে.....
নিম্নোক্ত বিষয় গুলি লক্ষ্য করুন.....
যেমন-১
শাওন জানালো, জীবীত পিতার কেউ খবর রাখেনি,মৃত লাশ নিয়ে কেন তাদের এতো টানাটানি?নূহাশ পল্লীতে যেতে ভিসা লাগে না। ভালবাসা থাকলে তখন তখন যে কেউ যেতে পারে । হুমায়ূনের অসুস্থতায় যারা কোন খবর নেন নি, বা গত ৬ বছর যাদের কেউ তার পাশে থাকেনি আজ তাদের মায়াকান্না মানায় না।হুমায়ূনের যে ছেলে মেয়েরা তাদের পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত করেনি, তাকে পরিত্যাগ করেছে তাদের আজকের এ দাবীকে আমি হাস্যকর মনে করি। অযৌক্তিক মনে করি। জীবীত হুমায়ূনের চেয়ে তাদের কাছে মৃত হুমায়ূন বেশি দরকার ছিল। বাস্তবে আজ তাই প্রমাণিত হলো।
যেমন-২
মনে হচ্ছে লাশ মাটিতে রেখে দুই পরিবারের মধ্যে নুহাশ পল্লী নিয়ে লড়াই শুরু হয়েছে......ওখানে লাশ দাফন করতে পারলে নুহাশ পল্লীতে খুটি গেড়ে বসতে পারবেন শাওন...আর এটা ঠেকাতে মরিয়া শীলা-নোভা-নুহাশ-জাফর ইকবাল। কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়ের পক্ষে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন তার মা তহুরা আলী এমপি
তবে..........
হুমায়ুন আহমেদের দাফন কোথায় হবে এটা নিয়ে বলার কিছু নাই। তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাওন একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে (মনে হয়)। নুহাশ পল্লী তে দাফন হলে হুমায়ুন স্মৃতির অন্তরালে চলে যাবেন। কে যাবে সেইখানে তাকে দেখতে? আর কাজী নজরুলের পাশে সমাহিত করা হলে হুমায়ুন এক ধাক্কায় জাতির কেন্দ্রস্থলে জায়গা করে নিবে। না হলে আজ থেকে ৫ বছর পরে হুমায়ুন আহমেদ কে নিয়ে কিছুই হবে না। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলের জন্মের ১০০ বছর, ১৫০ বছর পালন করা হয়। কিন্তু ২০৫০ সালে হুমায়ুন এর নাম কয়জনের মন থাকবে এটাই চিন্তার বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সমাহিত করা হলে নতুন প্রজন্ম অনেকেই তার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। যে পিচ্চি বইমেলায় ২০২০ সালে যাবে, একবার হলেও জিজ্ঞেস করবে এটা কার কবর, উনি কে ছিলেন। যেমনটা নজরুল, রবীন্দ্র নাথের বেলায় হয়। আর পাঠ্য পুস্তকেও তার লেখা অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এসএসসি , এইচএসসি তে মানিক, জহির রায়হানের উপন্যাসের পাশাপাশি হুমায়ুনের একটা উপন্যাস ও অন্তর্ভূক্ত করা হোক।
পরিশেষে নুহাশ পল্লীতে দাফন করা হলে আজ থেকে ১০ বছর পরে ওই জায়গায় কোন এক সাংবাদিক গিয়ে রিপোর্ট করবেন হুমায়ুন আহমেদ এর মত একজন জনপ্রিয় লেখকের কবরের ভগ্নদশা আর চার পাশের পরিবেশ নিয়ে। এটা একটা চরম সত্য কথা। আর লালনের মত গাঞ্জার আখড়াও হতে পারে। সময়ের সাথে সাথে মানুষ বদলে যায়। তাই এখনই তাকে জাতীয় কবির পাশে সমাহিত করা হোক। না হলে হুমায়ুন নামের অস্তিত্ত্ব থাকবে না এই দেশে।
(শেষের তিনটি প্যারা সংগ্রহিত)
লাশ দাফন নিয়ে শাওনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তোলপাড়
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


