somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গিন্নি বালাকে আমার প্রশ্ন : মানুষের পরিচয় গ্রহণের সূত্র কী এবং একজন পেশাজীবী সাংবাদিক আর একটি কুকুরের মধ্যে পার্থক্য কী?

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন নারী সাংবাদিক, শুধু বিতর্কিতই নন, ব্যাপক সমালোচিতও। অবশ্য বিতর্কিত ও সমালোচিত হলেই কেউ খারাপ হয়ে যান না। তার নামটি বলছি না লজ্জিত হতে পারেন ভেবে। প্রায় সবার কাছে তিনি সম্ভবত একটু পরিচিতই হবেন, আর পরিচিত মানেই ভালো- এমনও নয়। কাদের মোল্লা, এরশাদ শিকদার, হিটলার, এরাও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। পরিচিতি অর্জন করা অনেকের কাছেই কোনো কঠিন কাজ নয়। তো ধরা যাক তার নাম গিন্নি বালা। তিনি সেদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন, আমি আইনজীবী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হলাম সাংবাদিক। সাংবাদিক হয়ে ভালোই আছি। আমি চাই এ দেশে লাখ লাখ গিন্নি বালা তৈরি হোক। আপনারা সবাই গিন্নি বালা হয়ে যান।

হাসব না কাঁদব তাৎক্ষণিক বুঝে উঠতে পারিনি। এ স্ট্যাটাসেও রীতিমতো ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য : দুনিয়ার অনেক জায়গায় লেংটা পাগলেরও কিন্তু ভক্ত-মুরিদের অভাব হয় না। তো আমি জিজ্ঞেস করলাম, "গিন্নি বালা কে?" আমি আশা করিনি আমার মতো নগণ্য কারো প্রশ্নে তার মতো একজন ডাকসাইটে সাংবাদিক নিজ স্ট্যাটাস ডিলিট করবেন। আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে একটি উত্তর আশা করেছিলাম। কিন্তু পরে এসে এ স্ট্যাটাসটি আর খুঁজে পাইনি। তিনি বা তার ভক্তরা কোনো উত্তর দিয়েছিলেন কি না তাও জানতে পারিনি। তার স্ট্যাটাসটাও হুবহু মনে নেই।

যাহোক, আমি মূলত তার ব্যক্তিগত বা কর্মত পরিচয় জিজ্ঞেস করিনি, জানতে চেয়েছিলাম "মানুষের পরিচয় গ্রহণের সূত্র কি? রাস্তার একজন ফকির কিংবা আদুরীদের মতো ডাস্টবিনে পড়ে থাকাদের আমরা 'মানুষ' হিসেবে ভাবতে পারি কি না, অর্থাৎ এ যোগ্যতাটা এ যুগেও কারও মধ্যে অবশিষ্ট আছে কি না।

একজন পেশাজীবী সাংবাদিক, পেট পালাই যার ধর্ম, তার সঙ্গে একটি কুকুরের পার্থক্য কি আমার জানা খুবই প্রয়োজন। আমার জানামতে উভয়েই পেটপূজায় জীবন উৎসর্গ করে। বরঞ্চ কুকুরটিকেই আমার উত্তম মনে হয়। কারণ কুকুরের জন্য বিদ্যালয় লাগে না, হাসপাতাল, পুলিশ-র‌্যাব জেলখানা ইত্যাদি লাগে না। তারা দিব্যি সুখে-শান্তিতে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। কুকুর হয়ে তারা 'ভালোই' আছে। আর মানুষ, শুধু পেট পালার জন্য কামড়া-কামড়ি করলেও তেমন দোষের কিছু ছিল না। কিন্তু যখন অহংবোধ, প্রশংসাপ্রিয়তা আর কথিত ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে, তাদের প্রতিযোগিতা বড় বিশ্রী। তখন সদম্ভে ঘোষণা দিতে পারে, "আইন নিজের হাতে তুলে নেব।" কত ভয়ঙ্কর!

মানুষের পরিচয় গ্রহণের মূল সূত্র কি বা মানুষের পরিচয় কিসে? ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, কর্ম, আকৃতি? এইসব শ্রেণিভেদ? আজ যারা ধর্মের বিভক্তির কথা শুনলে ছিঃ ছিঃ করেন, তারাই "কর্ম" দিয়ে নিজের পরিচয় দেন- আমি সাংবাদিক, আমি লেখক, সুশীল, উপর তলার লোক ইত্যাদি। তাহলে সমাজের ফেলানী ও আদুরীদের পরিচয়টা আমরা কিভাবে নেব? হিন্দু না মুসলিম ওই জিজ্ঞাসে কোন জন এটা কবেকার কথা? কিন্তু আজও- সে পরিচিত মুখ, না রাস্তার কেউ- এ চর্চা চলে। কেন? অর্থ, ক্ষমতা ও কর্মের মানদণ্ডে মানুষের পরিচয় নেয়া যায়? মানুষ হিসেবে কি সবাই এক সারিতে নয়? প্রতিটি মানুষ দুর্গন্ধযুক্ত এক বিন্দু পানি থেকে সৃষ্টি হয়নি? আবার সবাআ মাটির সাথে মিশে যাবে না?

আজকের মূল সমস্যা এখানেই, "মানুষের" পরিচয় আমাদের জানা নেই। আমরা মানুষ চিনি না। সাংবাদিক চিনি, লেখক চিনি। যে চ্যানেল মালিকরা গরীব-দুঃখীদের টাকা মেরে আজ টিভি চ্যানেলের মালিক, তাদের টাকা খেয়ে যেসব সুশীল ও বুদ্ধিজীবীরা মানবতার আওয়াজ তুলেন, আমরা তাদের খুব ভালো করে চিনি, সম্মান করি, তাদের সামনে মাথা নিচু করি, তাদের প্রশংসা করি। সুতরাং সাংবাদিক নামের সেই গিন্নি বালাদের অহংকারে আমি বিন্দুমাত্র আশ্চর্যবোধ করিনি। যারা মনে করে ক্যামেরার সামনে কথা বলে, টকশো করে আর পত্রিকায় দিনের পর দিন বা রাতের পর রাত কলাম লিখে সমাজ পরিবর্তন করবেন, তাদের মুখে ছাই। বুদ্ধিজীবী পিয়াস করিম, মান্না, তুহিন মালিক, আরও কে কে যেন (আমি নাম জানি না, টকশো দেখিও না), তাদের বলব সব চ্যানেল ও পত্রিকা বয়কট করে অথবা তাদের কাছ থেকে এক পয়সাও না নিয়ে জনতার কাতারে আসুন। আমাদের সবার আদুরী বা ফেলানী হতে হবে, গিন্নী বালা নয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আজ একদল মানুষকে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মানুষের অধিকার, পরিচয় ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে "সংখ্যায়" আমি বিশ্বাসী নই। তাই 'সংখ্যালঘু' শব্দটি যেমন ব্যবহার করি না, 'সংখ্যাগুরুর' যুক্তিও দেখাই না। এ শব্দগুলো 'গণতন্ত্রের' দান। কথিত গণতন্ত্র যতদিন দুনিয়ায় থাকছে, এ দুটি শব্দও ততদিন থাকবে। আর এর সুযোগ নেবে একদল কুকুর, কিংবা তার চেয়ে নিকৃষ্ঠ এক প্রকার জীব। আমার ক্ষুদ্র প্রতিবাদের কোনো মূল্য কারও কাছে আছে কি না জানি না, তবুও বলছি, কোনো দলীয় বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, একান্তই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিতদের উপর যে বা যারাই এসব হামলা করছে, এর প্রতিবাদের ভাষা নেই। এটা চরম পাশবিকতা। এ থেকে উত্তরণে আমরা কে কী করতে পারি তা সাধ্যের সর্বোচ্চ মাত্রায় ভেবে তারপর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ শুধুই নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে চাই, আর কিছু নয়। কেননা মধ্য যুগের বিশেষ একটা সময়কে আমরা "আইয়ামে জাহেলিয়াত" বলে অভিহিত করি। কিন্তু এ যুগের মূর্খতাকে চিহ্নিত করার কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের দাবিদার, সর্বোচ্চ সভ্যতার দাবিদার আজকের বিশ্বে এ ধরনের পাশবিকতা চলতে পারে এটা কল্পনারও অতীত। এরপরও কেউ স্বীকার করবে না আজ মানুষের মূর্খতা কোথায় পৌঁছেছে। বুঝি না যে তাও বুঝি না।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×