

ছবিতে যাদের দেখছেন তারা যেনোতেনো কেউ না বিরাট বড় হনু...। মর্দা যে মানুষটাকে দেখছেন তিনি একজন বিচারক। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকায় জাতীয় আইন সহায়তা প্রদান সংস্থার উপপরিচালক (প্রশাসন) রকিবুল ইসলাম এবং তিনার স্ত্রী শামীমা ইসলাম। আর ইনসেটে ও দ্বিতীয় যে ছবিটা দেখছেন সে মাগুরার ১২ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা। বন্ধুরা বুঝতে বাকী নেই এনাদের সম্পর্ক। খাদিজা এই বিচারকের বাসার কাজের মেয়ে। আর এই ছোট্ট মেয়েটিকে কিনা এই দম্পতি দীর্ঘ ১৫ মাস আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে। যা কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া ক্রিকেটার শাহাদাতের বাসার কাজের মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
শিশুটির মা ডালিম বেগম জানান, অভাব-অনটনের কারণে দেড় বছর আগে গ্রাম্য প্রতিবেশী আবুল বাশারের মাধ্যমে ঢাকায় বিচারক রকিবুল ইসলামের বাসায় মাসিক এক হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করতে পাঠান। তার পর থেকে মেয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। রকিবুল ও তা স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করলেও তারা কখনও ফোন ধরতেন না। প্রতিবেশী আবুল বাশারের কাছে মেয়ের খোঁজ নিতে গেলে তিনি শুধু বলতেন, 'খাদিজা ভালো আছে।' এভাবে ১৫ মাস যোগাযোগহীন অবস্থায় থাকার পর খাদিজা অসুস্থ অবস্থায় পালিয়ে শনিবার ভোরে বাড়ি ফেরে।
খাদিজা সাংবাদিকদের জানায়, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে উত্তরায় রকিবুলের ও বসুন্ধরায় তার শ্বশুরের বাসায় তাকে রান্না ছাড়া সব ধরনের কাজ করতে হত। রকিবুল ও তার স্ত্রী নানা অজুহাতে প্রতিদিন তাকে চড়, থাপ্পড়, শরীরে গরম খুনতির ছ্যাঁকা ও গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করত। দিনে একবেলা খেতে দিত, তা-ও পচা-বাসি খাবার। অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা করতো না। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরার বাসার গার্ডকে ১০ টাকা দিয়ে একটি পাউরুটি কেনার জন্য পাঠিয়ে কৌশলে আমি পালিয়ে আসি। প্রায় দুই মাস আগে রকিবুলের স্ত্রী শামীমা ইসলাম বটি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। পরে সাভার হয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশের সহায়তা নিয়ে বাসে করে শনিবার ভোরে সে বাড়ি পৌঁছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



