একটি তীব্র শীত জেঁকে বসেছে সারা দেশে। সে শীতে মোটামুটি সবাই কাবু। আমাদের দেশের গড়পরতা জলবায়ুতে এরকম ঠান্ডা সাধারণতঃ পড়েনা, তাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্হা যতটা চোখে পড়ে, উষ্ণতা দেয়ার বন্দোবস্ত সে তুলনায় খুব কমই দেখা যায়।
বন্ধ করার মত দরজা জানালা সমেত, মাথার উপরে একটি ছাদ হিমশীতল শীতকে কিছুটা দমিয়ে দিয়েছে সত্য, তারপরও প্রতিদিন রাতে, কম্পিউটারে কিছু কাজ সেরে, হিম আক্রান্ত হাত পা নিয়ে কম্বলের উষ্ণতার নীচে আশ্রয় নেয়ার সময় আগ্রাসী বিবেকের এ প্রশ্নের জবাব হাতড়াতে থাকি, একটি সুরক্ষিত কক্ষে থেকেও যদি শীতের তীব্রতাকে অসহনীয় মনে হয়, তবে যাদের মাথার উপরে ছাদ নেই তারা কি করে তাদের রাতটি পার করছ...
এ প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক জবাব আমার কাছে নেই।
একজন ব্লগারের একটিমর্মস্পর্শী আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজের সীমিত সামর্থ্যের কিঞ্চিত সহযোগিতা ব্যতীত আপাততঃ বিবেকের তীব্র দংশনকে প্রবোধ দেয়ার মত আর কিছু আমার সঞ্চয়ে নেই। কিন্তু হায়, সে সহায়তা যে চাহিদার সমূদ্রে শিশির তুল্য...
এবার কিছুটা অন্য প্রসংগ।
পেশাগত কারণে, একটি প্রায় সুরক্ষিত আবাসিক এলাকায় মোটামুটি দশাসই সাইজের একটি অফিস মেইনটেইন করতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায়, একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝারি মানের এপার্টমেন্টের যা স্কয়ারফিট, সে হিসেবে এ অফিস মোটামুটি পাঁচটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। আর, শুধুমাত্র রাতযাপন আর শোয়ার জায়গাটুকু আমলে নিলে, জনা পঞ্চাশেক খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই রাত কাটাতে পারে। এ আবাসিক এলাকার আবাসিক ট্যাগটিকে উপেক্ষা করে আরও অনেকগুলো অফিস গড়ে উঠেছে, রাতের বেলায় দু একজন অফিস সহযোগী ব্যতীত প্রায় খালিই পড়ে থাকে। এ' দেশে কমার্শিয়াল স্পেস নামে এক বিপুল সংখ্যক স্হাপনা গড়ে উঠেছে এবং উঠছে, যার প্রায় শতভাগই রাতের বেলায় অব্যবহৃত পড়ে থাকে।
বুদ্ধিমান এবং সচেতন পাঠক নিশ্চয়ই আমার ইশারাটা বুঝতে পারছেন। এবং সেই সাথে বুঝতে পারছেন কেনো শিরোনামে ইউটোপিয়ান বা রুঢ়ার্থে অবাস্তব বলা হয়েছে... আজকের বাস্তবতায় এ জাতীয় ভাবনা চিন্তার কোন অবকাশ নেই, আমার জন্যও নয়! আমরা হয়তো মাঝে সাঝে আমাদের অজস্র নিউরনের কয়েকটিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষণিকের জন্য এটাকে একটা আইডিয়া হিসাবে চিন্তা রাজ্যে জায়গা দেই, তার পর পরই নেমে আসি বাস্তবতার ভূবনে, যেখানে নিজের অসুবিধা করে কারো পরোপকার করাটাকে মূঢ়তার সমার্থক ধরা হয়!
আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে, কোন এক যাদুস্পর্শে মানবেতিহাসে অনন্য এধরণের একদল জনগোষ্ঠি তৈরী হয়েছিলো, যারা নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অপরের কল্যাণ করার জন্য আগ্রহী ছিলো।
তাই, স্বয়ং তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রশংসা করেছেন!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


