somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষঃ ইউ হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল অনলি টু বি কাইন্ড...

২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন অফিসে বেশ দেরী হয়ে গিয়েছিলো কাজ শেষ করতে করতে।

রাত ন'টার দিকে, ডি ও এইচ এস-এর সিএনজি স্টান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিগুলোর একটা খুব সাধাসাধি ব্যাতিরেকেই যখন রাজি হয়ে গেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে আসার জন্য, তখন মনটা অনাকাংখিত প্রাপ্তিতে বেশ খুশী হয়ে গেলো। একেতো সিএনজি পাওয়া ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় এভারেস্ট জয়ের মত ব্যাপার, তার উপরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কথা শুনলে, বিশেষতঃ একটু রাতের দিকে- এমনকি রিকশাও আসতে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী যে কারোই এ তিক্ত অভিজ্ঞতাটা খুব কমন। কেন তার কারণ বোঝা খুব দুরুহ নয়... কিছুটা নিরাপত্তার ব্যাপারে আশংকা, আর কিছুটা চালকের স্বার্থবুদ্ধিসংশ্লিষ্ট, এতো রাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে খুব একটা ফিরতি যাত্রী পাওয়া যায় না।

খুশী খুশী মন নিয়ে সিএনজিতে উঠে সোনারগাঁ শেরাটন পেরিয়ে শাহবাগের মোড়ে এসে পড়লাম। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসার যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন যে রেলক্রসিং এর মতো দশাসই বেশ কিছু ক্রসিং আগলে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারগুলো। সিগনাল ক্রস করে ঢোকার মুখেই সার্জেন্টের ইশারায় সিএনজি থেমে যেতে হলো। ব্যাপারটা একেবারে আনকমন নয়, তাই খুব একটা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্হ হইনি। সিএনজিকে বললাম ঘুরে নিলক্ষেত দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করতে। মনে একটা ক্ষীণ আশা, হয়তো সে দিকের পথটা বন্ধ করা হয়নি। অফিসফেরত ক্লান্ত শরীরে হাঁটতে ইচ্ছা করছিলো না। কিন্তু হা হতোস্মি, নিলক্ষেত গেটের কাছেও গেট বন্ধ করে রাখা। ইচ্ছা না থাকলেও সিএনজি বিদায় করে হাঁটা ধরলাম।

আমাদের কৈশোরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ রাস্তা জুড়ে এককালে হাজার রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে কিংবা রাতে, বেঘোরে মারা পড়েছে উৎসুক রিকশাওয়ালা আর সাধারণ মানুষ। সে তুলনায়, বলতেই হয় এ ক্যাম্পাস বেশ আলুনি হয়ে গিয়েছে, আজকাল মারামারির দৃশ্যে পেপারে কাটা রাইফেল হাতে ক্রলিং করা ছাত্রদের পরিবর্তে লাঠিসোঠা হকিস্টিক নিয়ে ধাওয়া করা ছাত্রদের ছবি ছাপা হয়। যে যাই বলুক, আমার কাছে ব্যাপারটা ইতিবাচক পরিবর্তন বলেই মনে হয়। মানুষজনকে বেশ সাবলীল ভাবে হেঁটে যেতে দেখে বুঝলাম ভেতরে যাই ঘটে থাকুক, মূল রাস্তায় এর প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। বোধকরি গন্ডগোলটি হলের ভেতরের, তবুও প্রশাসনের অতিসতর্কতায় গেট আটকানোটাকেও মনে মনে সমর্থক করলাম।

মনের মাঝে খানিকটা কৌতুহল জেগেছিলো কি হলো তা জানার জন্য, কিন্তু বাসায় গিয়ে তা একসময় ভুলেই গিয়েছিলাম। মনে করিয়ে দিলো পরদিনের পত্রিকাগুলো। প্রথম পাতা জুড়ে সোনার ছেলেদের দু'গ্রুপের হতাহত ছেলেদের সারি, ইনসেটে মধ্যযুগীয় একগাদা "উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্র"। ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের ফলে তাদের দলভুক্ত ছাত্রদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল থাকা যারপরনাই কঠিন, তার উপরে আদর্শিক দিক থেকে তাদের বিপরীত মেরুতেই অবস্হান, তারপরও ছবিগুলো দেখে আক্ষরিক অর্থেই গভীর বেদনাবোধে আক্রান্ত হলাম। পত্রিকার বরাত মতে, বেশীরভাগই প্রথম বর্ষের ছাত্র... ছাত্রজীবনের শুরুতে মফস্বল থেকে আসা অনেক ছেলেকেই শুধুমাত্র সিট পাওয়ার জন্য ছাত্ররাজনীতির সাথে তাল মেলাতে হয় ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, সে সত্যটা জানা থাকায়, আমার বুঝতে অসুবিধা হলো না, এদের অনেকেই স্রেফ ভিকটিম, তাদের আর কিচ্ছু করার ছিলনা।

মনের মধ্যে একটি গভীর হতাশাবোধ এবং তিক্ত স্বাদ নিয়ে দিনটা শুরু হলো, এবং কিছুতেই মাথা থেকে ব্যাপারটা সরিয়ে ফেলতে পারলাম না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অজস্র ঘটনা ঘটেছে, যার অনেকগুলোই বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছে। নেহায়েৎ যেগুলো পত্রিকার পাতায় চলে আসে, পত্রিকাওয়ালারা খবরের কাটতি বাড়ার জন্য কিংবা সাংবাদিকতার নীতিমালার খাতিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরওয়ালাদের ভাষ্য নেয়, তারা গদবাঁধা বলে যান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি তদন্তকমিটি গঠন করা হবে, এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্হা নেবে... একটি শব্দও এদিক ওদিক হয়না। তারপরে আর কিছু হয় কিনা, কিংবা কি হয়, তা জানার সুযোগ আমাদের মত আমজনতার নাই... কিছুতো নিশ্চয়ই হয়, না হলে এত বিদ্যাবুদ্ধিওয়ালা লোকজন কিছু করার কথা বলেন, প্রতিশ্রুতি দেন, তা'তো আর মিথ্যা হতে পারেনা। তবে তাতে কাজের কাজ যে কিছুই হয়না তা বোঝা যায় সপ্তাহ কিংবা মাস ঘুরতেই তাদের আবার সেই বিবৃতিগুলো দিতে হয়, নতুন কোন ঘটনা পরিপ্রক্ষিতে...

অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি স্রেফ বহিঃস্কারাদেশ ক্ষমতাটির যথার্থ ব্যবহার করতেন, আর হাতেগোণা কিছু "ব্যাড এপল"-কে ঝুড়িতে না রাখার শক্ত সিদ্ধান্তটি নিতে পারতেন, তাহলেও এধরণের ঘটনা অনেক কমে আসতো। সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো প্রশ্রয়। রংবেরংয়ের রাজনৈতিক ভেদবুদ্ধিতে আজকাল শিক্ষকদের নৈতিক অবস্হান প্রশ্নবিদ্ধ, আর লেজুড়বৃত্তিতে যে যত পারঙ্গম, প্রশাসনে তার অবস্হান ততই পোক্ত। তাই পত্রিকার সাংবাদিকদের সমুখে বিবৃতি দেয়া ভিসিকেই হয়তো পরমুহুর্তে ছাত্রনেতাদের সেলফোনে মিঠে মিঠে কথা বলে অভয় দিতে হচ্ছে...

ক্যান্সার চিকিৎসার একটা পর্যায়ে আক্রান্ত কোষগুলোকে সরিয়ে দিতে হয়। গোটা দেহকে বাঁচাতে এমপিউটেশন করতে হয়। আপনারা গুটিকতেক ক্যান্সারকে বিশ্ববিদ্যালয় অংগনের অযোগ্য ঘোষণা করুন, দরকার হলে সরাসরি ফোন তুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলুন নেতা পাতি নেতাদের রাজনৈতিক প্রেসার মোকাবেলা করার জন্য। আর না পারলে সরাসরি খোলাখুলি সবকথা জানিয়ে দিয়ে দ্বায়িত্বটি বরং সারেন্ডার করুন... আর কারো না হোক, অজস্র ছাত্র ছাত্রী, তাদের মা বাবা আর আম জনতার স্যালুট পাবেন...

উইল এনি অফ ইউ ডেয়ার?
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×