(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বহিষ্কৃত বোনদের জন্য একটি লজ্জিত রিপোস্ট)...
বেশ কিছুদিন যাবত ন্যাচারাল ডকুমেন্টারি মুভি দেখছি।
একটা হাইস্পিড সার্ভারের সাথে সংশ্লিষ্টতার সুবাদে, নেট জগৎ থেকে অসাধারণ সব ডকুমেন্টারি ডাউনলোড করে গিলছি। হাই ডেফিনিশন ছবির ঝকঝকে জগতে প্রকৃতির অসাধারণ, অনন্যসাধারণ দৃশ্যাবলী দেখতে গিয়ে বার বার আপ্লুত হয়েছি। আল্লাহর এ সৃষ্টিজগত যে কত বৈচিত্রময় তার খুব কমই জানা ছিলো বলে মনে হয়েছে। সমূদ্রের অতল গহীন অন্ধকার আর তার বৈচিত্রময় প্রাণের প্রকাশ থেকে শুরু করে শুভ্রসমুজ্জ্বল তুষারে মোড়া পর্বতচুড়ার প্রতিফলিত আলোকরশ্মি মনের মাঝে একটি গভীর ভাব জাগিয়ে তোলে।
তবে, সকল ডকুমেন্টারিগুলোই একটা হাহাকারকে উপজীব্য করে তোলে। পৃথিবীর এই সূবর্ণ রূপ আজ ক্ষয়িষ্ণু। হারিয়ে যাচ্ছে গাছ মাছ আর পশুপাখীরা। মানুষের অন্তহীন লোভের থাবায় বিপন্ন আজ সকলেই...
তবে কাল রাতে একটি খবর পেয়ে মনে হলো, আমাদের আশার জায়গাটি পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়নি।
বনের পশু পাখি আর জানোয়ারেরা হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু নীরবে নিভৃতে মনুষ্য সমাজের মাঝেই অমানুষ জানোয়ারদের মেটামরফসিস ঘটছে। চতুষ্পদেরা হয়তো কালে কালে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে, কিংবা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে, কিন্তু দ্বিপদ জানোয়ারেরা আরো বহু বহুকাল যাবৎ প্রবল প্রতাপে শাসন করে যাবে বিশ্ব।
চিংড়ি মাছ নাকি পঁচন ধরে মাথা থেকে। শোনা কথা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ততটা নেই। কিন্তু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলে একপাল মেয়ে যখন খুঁজে খুঁজে বেড়ায়- ক্লাসমেট, রুমমেট কিংবা হলমেটদের মধ্যে, কারা কারা বোরকা পরে, কিংবা বিকেল বেলায় সহপাঠিদের সাথে মল চত্বরে আড্ডা দেয়না অথবা কিংবা নামাজ পড়ার মত "গো'বধতুল্য" মহাপাপ করে, তখন কেন যেন মনে হয় এ নষ্ট সময়ে এটাই স্বাভাবিক। ছেলেরা তো সহপাঠীদের মেরেই ফেলছে, কিংবা হলের বারান্দা দিয়ে শুন্যে ভাসিয়ে দিচ্ছে। অথবা ধারালো কিরিচ দিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে। সে তুলনায় রাত তিনটার সময় ঘুম ভাংগিয়ে হল থেকে বহিষ্কারের নোটিশ ধরিয়ে এককাপড়ে বিদায় করাতো একেবারেই নস্যি...
কিন্তু, পঁচনের কথা তখনই মনে আসে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব লেখাপড়াজানা পিতৃসম আচার্য যখন জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়টি সমর্থন করেন, আর সদাব্যস্ত এবং খুব কর্মঠ প্রক্টর সেই "বোরকাওয়ালীদের" একটি বিশেষ রাজনৈতিক রং লাগিয়ে সব উচ্ছেদকে একটি বৈধতার প্রলেপ লাগিয়ে দেন।গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি বের করতে চান, কারা, আর কারা এদের ছোঁয়াচে নৈতিকতায় আক্রান্ত হয়েছে...
শেষ খবর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ১৩জন ছাত্রীর হল জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন। আমরাও দেখছি ক্ষমতার আস্ফালন। মদমত্ত কর্তৃপক্ষ হয়তো নিভৃতে বেশ একটা পাশব তৃপ্তি পেয়েছেন এভাবে... অথবা গোপনে আশা করছেন উপরওয়ালাদের করুণামিশ্রিত অনুকম্পা, খরগোশ শিকার করে যেভাবে জুল জুল করে চাউনি দেয় পোষা চতুষ্পদটি...
ধুর ছাই, কে বলে জানোয়ারেরা হারিয়ে যাচ্ছে?
যারা বলে, তারা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুক...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


