মাঝে সাঝে বিবেক নামের একটি সত্তা বড়ই জ্বালা ধরায়।
বংশ পরিচয় এবং কর্মকান্ডে নিজেকে মুসলিম মনে করি, মুসলিম হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। অত্যল্প কিছু কুরআন হাদীস পড়ার ভিত্তিতে একধরণের ঢিলাঢালা প্রচেষ্টা ছিলো আচার ব্যবহার এবং কাজে কর্মে আল্লাহর নির্ধারিত সীমাকে সংরক্ষণ করার। এখন থেকে প্রায় এক দশক আগে বুয়েট জীবনের তৃতীয় বর্ষ পেরুবার কালে সচেতনভাবে আল্লাহর নৈকট্যলাভের যে প্রচেষ্টা শুরু করেছিলাম, সময়ের পরিক্রমায় তাতে অনেক চড়াই উৎরাই পার হতে হয়েছে।
কিন্তু, আল্লাহর সুন্নত এমনই, মানুষের দূর্বলপদ প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতা, যেটুকুই থাকে- তার রাজসিক বিনিময় তিনি দান করেন, দুনিয়াতেই... তাই, জীবন এবং জীবিকায়, উপচে পড়ার মত তিনি দিয়েছেন। জীবনে দিয়েছেন প্রতিনিয়ত অনূভব করার মত প্রশান্তি, দিয়েছেন অর্জিত রিজিকে তৃপ্ত মন আর বিপদআপদ থেকে নিরাপত্তার ছায়া। প্রতিনিয়ত নতজানু কৃতজ্ঞ হয়ে থাকাটাও যেনো যথেষ্ট নয়, এ নিয়ামতের বিনিময়ে...
তবুও, আমরা যে আদমের বংশধর। ভুলে যাওয়া আমাদের মজ্জাগত।
তাই সুখের সময়ে আল্লাহর স্মরণে গাফলতি চলে আসে। চলে আসে অলস ঝিমুনি। পেশাগত ব্যস্ততা আর রিজিকের অন্বেষণে অবলীলায় এড়িয়ে চলি সমাজ সংসারের প্রতি একজন মুসলিমের দ্বায়িত্বগুলো। এই দেশ, আমার দেশ, কোথায় গড়িয়ে চলে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কারা নিয়ে যাচ্ছে, এর গন্তব্য এবং পরিণামই বা কি- এ সব কিছু থেকে নির্বিকার এক নির্লিপ্ত বোধ নিয়ে জীবনের নিয়ামতগুলো উপভোগেই ব্যস্ত আছি- খুব বেশীই! পাশের ঘরটি জ্বলছে, জ্বলুক না, আমার গায়ে আগুনের আঁচটি না লাগলেই হলো, এ ধরণের একটি চরম স্বার্থপর মানসিকতা নিয়ে বেশ বেঁচে বর্তে আছি...
তারপরও, গায়ে ফোসকা পড়ে যাওয়ার উপক্রম প্রায়!
সীমিত জ্ঞান বুদ্ধিতে যেটুকু বুঝি, এ দেশটির উপরে আল্লাহর রহমতের আঁচ পাই! আমাদের শত দূর্বলতা, হাজারো অনৈতিকতা আর অজাচার সত্ত্বেও, যেটুকু শাস্তি এ জনপদের পাওনা, মনে হয় আল্লাহ দয়া করে তা হালকা করে দেন। এটা আমার একান্ত অনুভবমাত্র, এর সাথে একমত হওয়ার কোন বাধ্য বাধকতা নেই। তার একটা কারণ হিসেবে আমার মনে হয়, আমাদের সংবিধানে আপাত কথার কথা হিসেবে হলেও, "মহান আল্লাহর প্রতি আস্হা এবং বিশ্বাস" কে... কতিপয় তথাকথিত আলোকপ্রাপ্ত মুক্তমনা'রা যতই বাছা বাছা শব্দবাচ্যে তাদের বিদ্বেষ প্রসূত হলাহল উদগীরণ করুক, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনসাধারণ আজো এ আস্হা এবং বিশ্বাসের পক্ষের শক্তি। প্রতিদিনের প্রতিটি কাজে হয়তো সচেতনভাবে এর যথার্থ প্রতিফলন ঘটেনা, হয়তো ভুলে বেভুলে ছুটে যায় অনেক কিছুই, তবুই এদেশের অধিকাংশ জনগণ আশা এবং আকাংখায়, সুখে এবং দুঃখে আল্লাহর কাছেই নতজানু হয়...
আজ কতিপয় অর্বাচীন স্বার্থান্ধ বিদ্বেষের বশে, কিংবা সচেতন জ্ঞানপাপে, দুঃসাহসে মুছে ফেলেছে এ লাইনগুলো। আশ্চর্য আশ্চর্য, তাদের অনেকেই রীতিমত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, মুসলমান বলে দাবী করে এবং ভিত্তি প্রস্তর স্হাপনের পরে হাত তুলে দোয়াও করে...
রাষ্ট্রীয় সংবিধানে কোন স্বার্থবুদ্ধিতে কে কবে এ লাইনগুলো যোগ করেছিলো, সে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো কিনা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা, সে ইতিহাস ঘাঁটতে অনিচ্ছুক। আমার সোজাসাপ্টা বুঝ হলো, মাথার উপরে জাতির পিতার ছবি না টাংগানো যতটুকু অপরাধ, টাংগানোর পরে নামিয়ে মুছে ফেলা, তার চেয়ে অনেক বড়মাপের অপরাধ। সে হিসেবে গোটা বিশ্বজগতের রব্বের সাথে প্রকাশ্য বিদ্রোহের মত একটি গুরুতর অপরাধে আজ গোটা জাতিকে অপরাধী করার বন্দোবস্ত করেছেন, কতিপয় কুলাংগার। জাতির ম্যান্ডেট নিয়ে, যাচ্ছেতাই করার সার্টিফিকেট পেয়ে, ক্ষমতার গরবে গরবিনী হয়ে, অতিসহজেই ভুলে গিয়েছেন, মুসলিম বিশ্বাসমতে একদিন তাদের এ বিষয়ে জবাবদিহী করতে হবে...
হে আল্লাহ, একজন দূর্বল ঈমানদার এবং তোমার কাছে আত্নসমর্পিত মুসলিম হিসেবে, আমি এদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করছি, সম্পর্কচ্ছেদ করছি, সম্পর্কচ্ছেদ করছি। তোমরা যারা, ক্ষমতার মদমত্তে ধরাকে সরা জ্ঞান করে, এ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছ, তোমাদের এ কাজের প্রতি, এবং তোমরা ফিরে না আসলে, তোমাদের প্রতিও রইলো আমার নিরংকুশ ঘৃণা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


