somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমাদের জন্য ঘৃণা...

০২ রা জুলাই, ২০১১ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে সাঝে বিবেক নামের একটি সত্তা বড়ই জ্বালা ধরায়।

বংশ পরিচয় এবং কর্মকান্ডে নিজেকে মুসলিম মনে করি, মুসলিম হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। অত্যল্প কিছু কুরআন হাদীস পড়ার ভিত্তিতে একধরণের ঢিলাঢালা প্রচেষ্টা ছিলো আচার ব্যবহার এবং কাজে কর্মে আল্লাহর নির্ধারিত সীমাকে সংরক্ষণ করার। এখন থেকে প্রায় এক দশক আগে বুয়েট জীবনের তৃতীয় বর্ষ পেরুবার কালে সচেতনভাবে আল্লাহর নৈকট্যলাভের যে প্রচেষ্টা শুরু করেছিলাম, সময়ের পরিক্রমায় তাতে অনেক চড়াই উৎরাই পার হতে হয়েছে।

কিন্তু, আল্লাহর সুন্নত এমনই, মানুষের দূর্বলপদ প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতা, যেটুকুই থাকে- তার রাজসিক বিনিময় তিনি দান করেন, দুনিয়াতেই... তাই, জীবন এবং জীবিকায়, উপচে পড়ার মত তিনি দিয়েছেন। জীবনে দিয়েছেন প্রতিনিয়ত অনূভব করার মত প্রশান্তি, দিয়েছেন অর্জিত রিজিকে তৃপ্ত মন আর বিপদআপদ থেকে নিরাপত্তার ছায়া। প্রতিনিয়ত নতজানু কৃতজ্ঞ হয়ে থাকাটাও যেনো যথেষ্ট নয়, এ নিয়ামতের বিনিময়ে...

তবুও, আমরা যে আদমের বংশধর। ভুলে যাওয়া আমাদের মজ্জাগত।
তাই সুখের সময়ে আল্লাহর স্মরণে গাফলতি চলে আসে। চলে আসে অলস ঝিমুনি। পেশাগত ব্যস্ততা আর রিজিকের অন্বেষণে অবলীলায় এড়িয়ে চলি সমাজ সংসারের প্রতি একজন মুসলিমের দ্বায়িত্বগুলো। এই দেশ, আমার দেশ, কোথায় গড়িয়ে চলে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে, কারা নিয়ে যাচ্ছে, এর গন্তব্য এবং পরিণামই বা কি- এ সব কিছু থেকে নির্বিকার এক নির্লিপ্ত বোধ নিয়ে জীবনের নিয়ামতগুলো উপভোগেই ব্যস্ত আছি- খুব বেশীই! পাশের ঘরটি জ্বলছে, জ্বলুক না, আমার গায়ে আগুনের আঁচটি না লাগলেই হলো, এ ধরণের একটি চরম স্বার্থপর মানসিকতা নিয়ে বেশ বেঁচে বর্তে আছি...

তারপরও, গায়ে ফোসকা পড়ে যাওয়ার উপক্রম প্রায়!

সীমিত জ্ঞান বুদ্ধিতে যেটুকু বুঝি, এ দেশটির উপরে আল্লাহর রহমতের আঁচ পাই! আমাদের শত দূর্বলতা, হাজারো অনৈতিকতা আর অজাচার সত্ত্বেও, যেটুকু শাস্তি এ জনপদের পাওনা, মনে হয় আল্লাহ দয়া করে তা হালকা করে দেন। এটা আমার একান্ত অনুভবমাত্র, এর সাথে একমত হওয়ার কোন বাধ্য বাধকতা নেই। তার একটা কারণ হিসেবে আমার মনে হয়, আমাদের সংবিধানে আপাত কথার কথা হিসেবে হলেও, "মহান আল্লাহর প্রতি আস্হা এবং বিশ্বাস" কে... কতিপয় তথাকথিত আলোকপ্রাপ্ত মুক্তমনা'রা যতই বাছা বাছা শব্দবাচ্যে তাদের বিদ্বেষ প্রসূত হলাহল উদগীরণ করুক, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনসাধারণ আজো এ আস্হা এবং বিশ্বাসের পক্ষের শক্তি। প্রতিদিনের প্রতিটি কাজে হয়তো সচেতনভাবে এর যথার্থ প্রতিফলন ঘটেনা, হয়তো ভুলে বেভুলে ছুটে যায় অনেক কিছুই, তবুই এদেশের অধিকাংশ জনগণ আশা এবং আকাংখায়, সুখে এবং দুঃখে আল্লাহর কাছেই নতজানু হয়...

আজ কতিপয় অর্বাচীন স্বার্থান্ধ বিদ্বেষের বশে, কিংবা সচেতন জ্ঞানপাপে, দুঃসাহসে মুছে ফেলেছে এ লাইনগুলো। আশ্চর্য আশ্চর্য, তাদের অনেকেই রীতিমত নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, মুসলমান বলে দাবী করে এবং ভিত্তি প্রস্তর স্হাপনের পরে হাত তুলে দোয়াও করে...

রাষ্ট্রীয় সংবিধানে কোন স্বার্থবুদ্ধিতে কে কবে এ লাইনগুলো যোগ করেছিলো, সে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো কিনা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা, সে ইতিহাস ঘাঁটতে অনিচ্ছুক। আমার সোজাসাপ্টা বুঝ হলো, মাথার উপরে জাতির পিতার ছবি না টাংগানো যতটুকু অপরাধ, টাংগানোর পরে নামিয়ে মুছে ফেলা, তার চেয়ে অনেক বড়মাপের অপরাধ। সে হিসেবে গোটা বিশ্বজগতের রব্বের সাথে প্রকাশ্য বিদ্রোহের মত একটি গুরুতর অপরাধে আজ গোটা জাতিকে অপরাধী করার বন্দোবস্ত করেছেন, কতিপয় কুলাংগার। জাতির ম্যান্ডেট নিয়ে, যাচ্ছেতাই করার সার্টিফিকেট পেয়ে, ক্ষমতার গরবে গরবিনী হয়ে, অতিসহজেই ভুলে গিয়েছেন, মুসলিম বিশ্বাসমতে একদিন তাদের এ বিষয়ে জবাবদিহী করতে হবে...

হে আল্লাহ, একজন দূর্বল ঈমানদার এবং তোমার কাছে আত্নসমর্পিত মুসলিম হিসেবে, আমি এদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করছি, সম্পর্কচ্ছেদ করছি, সম্পর্কচ্ছেদ করছি। তোমরা যারা, ক্ষমতার মদমত্তে ধরাকে সরা জ্ঞান করে, এ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছ, তোমাদের এ কাজের প্রতি, এবং তোমরা ফিরে না আসলে, তোমাদের প্রতিও রইলো আমার নিরংকুশ ঘৃণা...
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×