somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ দুই রাজকুমার

১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্পের শুরুটা সেই আদি ও পুরাতন।এক যে ছিল রাজা,তার দুই রাণী, সুয়োরাণী আর দুয়োরাণী।সুয়োরাণীর পুত্র অরুণ কুমার,দুয়োরাণীর বরুণকুমার।রাজ জ্যোতিষি দুই রাজকুমারের ভাগ্য গণনা করে বললেন বরুণকুমারের নাম চিরঅক্ষয় হবে পৃথিবীতে,অরুণকুমারকে মনে রাখবে না কেউ।সবাই ভাবে নিশ্চয় বড় কোন যোদ্ধা হবে বরুণকুমার।
দিন যায়,রাজপুত্ররা বড় হয়।বরুণকুমার রাক্ষসের গল্প শুনে মায়ের আঁচলের নিচে লুকিয়ে পড়ে,আর অরুণকুমার বলে, ‘কোথায় থাকে সে রাক্ষস আমি তার মাথা কেটে আনব’।অরুণকুমার ভালবাসে অস্ত্রচালনা, সমরবিদ্যা আর বরুণকুমার বসে রঙিন কাগজের ফুল বানায়।সবাই ভাবে গণনায় তবে ভুল ছিল জ্যোতিষির।
রাজপুত্ররা তাদের যুবক বয়সে উপনীত হল।অরুণকুমার মস্ত যোদ্ধা, তার প্রতাপে আশেপাশের সব রাজ্যের রাজারা ভয়ে কাঁপে।যুদ্ধক্ষেত্রে অরুণকুমার একাই কচুকাটা করে শত সৈন্যকে।আর বরুণকুমার সখীদের নিয়ে বাগানে পাখিদের গান শোনে আর ফুলচাষ করে।
রাজা মহাখুশি অরুণকুমারের উপর।একদিন অরুণকুমারকে ডেকে রাজা বলেন ‘অরুণকুমার,দখল করে নাও আশেপাশের সমস্ত রাজ্য।তারপর আমার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিংহাসনে বসবে তুমি ।আমি চাই বাকি সমস্ত রাজ্যের রাজারা তোমাকে কুর্ণিশ করুক।তুমি সম্রাট হবে আর তারা হবে তোমার সামন্ত রাজা।’
অরুণকুমার সৈন্যবাহিনী নিয়ে আশেপাশের রাজ্য দখলে গেলেন।কিন্তু ফিরে আসলেন ব্যর্থ হয়ে।সকল রাজ্যে কঠিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।গুপ্তচর এসে খবর দিল বরুণকুমার চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল অন্যান্য রাজাদের।রাজা প্রচন্ড রেগে বিশ্বাসঘাতক বরুণকুমারকে নিক্ষেপ করলেন অন্ধকার কারাগারে।
এদিকে অন্যান্য রাজারা সম্মিলিত হয়ে বিশাল সৈন্যদল নিয়ে এল এই রাজার রাজ্য দখল করেতে।অরুণকুমার যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হলেন।অরুণকুমারের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে রাজা বুঝলেন তার পরাজয় নিশ্চিত।তিনি কারাগারে গেলেন বিশ্বাসঘাতক বরুণকুমারকে হত্যা করতে।বরুণকুমার রাজার পা জড়িয়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চাইলেন নিজের।রাজা বরুণকুমারের কাপুরুষতায় অত্যন্ত বিরক্ত হলেন, খাপ থেকে তলোয়ার বের করে আমূল বিঁধিয়ে দিলেন বরুণকুমারের বুকে।
বিজয়ী রাজারা রাজপ্রসাদ দখল করল।তারপর তারা খুঁজে বের করল বরুণকুমারের মৃতদেহ।দক্ষ এক কসাইকে খবর দিয়ে আনা হল।কসাই ধারালো ছুরি দিয়ে কাটতে থাকে বরুণকুমারের শরীর।একজন রাজা তখন বরুণকুমারকে দেখিয়ে বলে ‘দেখুন মৃত্যুর পরও কি শান্তি লেপে আছে পুরো চেহারা জুড়ে’, আরেকজন বলে ‘চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ওখানে যেন নবজাতক শিশুর বিস্ময়’,আরেকজন বলে ‘কত বড় কলিজাটা দেখেছেন, ওখানে দুঃসাহস রাখতে পারত কিন্তু সে রেখেছিল ভালবাসা’,কেউ একজন বলে ‘আস্তে ছুরি চালাও হে, যেন ব্যথা না পায়’,সমস্বরে সবাই বলে, ‘খবর্দার, যেন ব্যাথা না পায়।’
এরপর সবাই বরুণকুমারের একটি একটি করে টুকরা নিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরল।তারা রাজ্যের মাঝখানে পুঁতে দিল টুকরাটি আর তার উপরে একটি করে হাসনাহেনার গাছ লাগাল।স্মৃতিফলকে লিখে দিল ‘একদিন বরুণকুমার বেঁচেছিল এই পৃথিবীতে যে ভালবাসত জীবনকে’।বরুণকুমারের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই রাজারা আর কখনো যুদ্ধ করে নি।
যে রাতে আকাশে হাজার তারা ওঠে, হাসনাহেনার গন্ধে ভারী হয় বাতাস, শিশুরা বায়না ধরে গল্প শোনার-সেই রাতে মায়েরা গল্প বলে,বরুণকুমারের গল্প- ‘এক যে ছিল রাজকুমার, বরুণকুমার তার নাম..’।অরুণকুমারকে সবাই ভুলে গেছে কবেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×