somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিভ্রম

২৩ শে নভেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক.

“হ্যালো! হ্যালো, আপনি কি সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন? বলুন তো এখানে কয়টা আঙুল?” ডাক্তারের কথায় ঘুম থেকে জাগ্রত হলো স্টিফেন৷ ঠিক ঘুম থেকে নয়; কোমা থেকে উঠল। দীর্ঘ দশ দিন কোমায় থাকার পর নিজের সম্বিৎ ফিরে পেয়েছে ও৷ মার্চের এক তারিখ দেশ কাঁপানো ভয়াবহ একটা বিস্ফোরণের ভিক্টিম হিসেবে হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল স্টিফেন৷ মাথায় এতটাই চোট পেয়েছিল যে কেউ ধারণাই করেনি ও ফিরবে। ডাক্তারের কথার ভাসা ভাসা জবাব দিয়ে ইংরেজিতে বলল, “হ্যাঁ, ডক্টর৷ আমি বুঝতে পারছি না৷”

“আপনার নাম কী মনে আছে? বা এমন কোনো তথ্য যা থেকে আমরা আপনার ঠিকানা বের করতে পারি?” ডাক্তার জিজ্ঞেস করল।

“ডক্টর, আমি বুঝতে পারছি না আপনি কী বলছেন৷ আমি ফ্রেন্স জানি না৷ দয়া করে ইংরেজি জানে এমন কাউকে আনুন৷” বেশ বিরক্ত হয়েও স্টিফেন ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে বলল৷

“আচ্ছা, আমি জিজ্ঞেস করছিলাম আপনার নামটা কী? বা এমন কিছু মনে আছে কি যা থেকে আমরা আপনার পরিচয়টা জানতে পারি?” বিশুদ্ধ ব্রিটিশ উচ্চারণে ডাক্তারটি প্রশ্ন করল৷

“আমি স্টিফেন, স্টিফেন বার্গ৷ প্রফেসর ডক্টর স্টিফেন বার্গ৷ আমেরিকা থেকে এসেছি একটা কনফারেন্সে অংশ নিতে৷ কিন্তু আমি এখানে কীভাবে? আর আমার স্ত্রী কোথায়? আমি এখানে কেন? কী হয়েছে বলবেন দয়া করে?”, উত্তেজিত হয়ে স্টিফেন বলল।

“উত্তেজিত হবেন না। শান্ত হোন৷ বলুন তো সর্বশেষ আপনি কোথায় ছিলেন?”

স্টিফেন মনে করার চেষ্টা করল৷ কিন্তু স্মৃতিপটে ভাসা দৃশ্যগুলো কোনো হেভিওয়েট তথ্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়৷ অগত্যা মন মরা হয়ে ও বলল, “থাক, ডক্টর৷ আমার মনে হয় রেস্ট নেওয়াই ভালো৷”

“হ্যাঁ, সেটাই ভালো। তবে অবশ্যই কোনো কিছু মনে হলে আমাদের জানাবেন। আর আমরা অতি শীঘ্রই আমেরিকান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার স্ত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি৷


দুই.

বেলা তিনটা৷ ধীরে ধীরে স্টিফেনের স্মৃতিতে দুর্ঘটনার কথা উঠে আসতে লাগল। বিস্ফোরণের আগে স্টিফেন এবং ওর স্ত্রী একসাথেই ছিল৷ সেখানে ডক্টর স্ট্যানলির সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করতে চেয়েছিল ওরা৷ কিন্তু ডক্টরের সাথে দেখা হয়েছে কিনা সেটা মনে পড়ছে না। হয়তো হয়েছে অনেক আলাপ৷ আপাতত ডক্টরের চেয়ে ওর স্ত্রীকে খুঁজে বের করা বেশি জরুরি৷ অগত্যা নিজেই বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে ও।

“কেমন বোধ করছেন এখন? নতুন কোনো কিছু মনে পড়েছে?” দ্বিতীয় রাউন্ড দিতে এসে ডক্টর জিজ্ঞেস করল।

“তেমন কিছু মনে পড়েনি। একটা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ছিল ডক্টর৷ আপনি কি ডক্টর স্ট্যানলিকে চেনেন? যিনি অল্টারনেটিভ ট্রিটমেন্টের জন্য বিখ্যাত।”

“হ্যাঁ, কেন বলুন তো?” কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল ডাক্তার৷

“যতটুকু মনে পড়ছে আমি তার সাথেই কথা বলতে ওখানে গিয়েছিলাম৷ আমার সাথে রেবেকাও ছিল।”

“রেবেকা! ইনি কে?”

“রেবেকা আমার স্ত্রী৷ ওকে নিয়েই সেদিন বেরিয়েছিলাম।”

“আচ্ছা, এবার খুঁজতে সুবিধা হবে আপনার স্ত্রীকে৷ আপনার ভাষ্য সঠিক হয়ে থাকলে উনি হসপিটালের রোগী হিসেবেই থাকবেন আশাকরি৷ সেদিন ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল৷ মৃত্যের সংখ্যা পয়ষট্টি৷ তবে এদের মাঝে কেউ বিদেশি নাগরিক ছিল না৷ তাই সুতীব্র সম্ভাবনা আছে আপনার স্ত্রী এই হসপিটালের কোনো বেডেই আছে৷”

“দয়া করে, তাকে খুঁজে বের করুন ডাক্তার!” অনুযোগের স্বরে স্টিফেন৷

“অবশ্যই! আমি খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা করছি৷ তবে আপনি বলতে পারেন কি ডক্টর স্ট্যানলির সঙ্গে আপনারা মূলতঃ কোন কাজে দেখা করতে গিয়েছিলেন?”

“পড়াশোনায় আমি একজন বায়োলজিস্ট হলেও পেশায় একজন আইটি ফার্মের সিইও৷ স্যানলির জার্নাল পড়ে আমার অভূতপূর্ব কিছু ধারণার জন্ম নিয়েছে৷ তার অল্টারনেটিভ ট্রিটমেন্ট আরও যুগোপযোগী করে তৃতীয় বিশ্বের গরিব মানুষদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷ এই বিষয়েই মূলত তার সাথে দেখা করতে আসা।”

ডাক্তার দম নিলেন। যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন৷ এরপর বলতে লাগলেন,“আমার ধারণার থেকেও আপনি খুব দ্রুত রিকোভার করেছেন। আশাকরি, আপনার স্ত্রীকেও আমরা পেয়ে যাব৷ এবং খুব দ্রুত রিলিজ করতে পারব৷ তবে দুশ্চিন্তা করবেন না৷ আর আপাতত প্রেশার নিবেন না মাথায়৷”


তিন.

পরদিন বেলা নয়টা৷ ফার্স্ট রাউন্ডেই ডাক্তার এসে জানালো৷ সেই দুর্ঘটনার সর্বশেষ রোগী স্টিফেন। তাছাড়া সবাই রিলিজ পেয়েছে৷ কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, রিলিজ প্রাপ্ত, আহত কিম্বা নিহতদের মধ্যে কেউই রেবেকা নামধারী ছিল না৷ অর্থাৎ বলা যায়, স্টিফেনের মেমরি রিকোভার সুবিন্যস্তরূপে হচ্ছে না। বিপদ কাটেনি৷ এখনও দীর্ঘসময় বিশ্রাম নিলেই তার মেমোরি রিকোভার করা সম্ভব৷

ডাক্তারের কথা শুনে স্টিফেন খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বলল, “দুঃখিত ডক্টর! আমি আর থাকতে পারছি না৷ আমাকে বেরুতে হবে ওকে খুঁজতে৷ না জানি বেচারী কোথায় আছে?!”

“কিন্তু আপনার শরীরের কন্ডিশন ভালো না৷ এই অবস্থায় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ দয়া করে কয়েকটা দিন দিন বিশ্রাম নিয়ে বের হন৷”

স্টিফেন দমবার পাত্র৷ ক্ষুদার্থ ব্যাঘ্রের ন্যায় হুংকার ছাড়তে লাগল ও৷ অগত্যা একরম বাধ্য হয়েই রিলিজ করল ডাক্তার৷ তবে যাবার আগে তার একটা ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলল, “কোনো সময় কোনো জায়গায় সমস্যার সম্মুখীন হলে অবশ্যই এটা বের করে বলবেন আপনি অসুস্থ৷ এবং এই ঠিকানায় চলে আসবে৷”

“ধন্যবাদ ডক্টর। আপনার কথা আমি ভুলব না৷”

“কিন্তু আপনি আপনার স্ত্রীকে খুঁজতে যাবেন কোথায়?”

“আমরা হোটেল রিটজ প্যারিসে ওঠেছিলাম৷ আপাতত ওখান থেকেই শুরু করব৷”

“বেশ তো৷ তবে ভুলেও দূর্ঘটনার স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না৷ হাজার হলেও আপনি এখন কাজপত্র হারিয়ে বহিরাগত নাগরিক।”

কথাটায় যেন বাজ পড়ল ওর মাথায়৷ নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল ও৷


চার.

প্রায় ছয় কিলোমিটার ট্যাক্সি দাপিয়ে হোটেল রিটজ প্যারিসে পৌঁছাল স্টিফেন। প্যারিসের প্রথম ক্যাটাগরির বিখ্যাত হোটেলটা প্রথম দেখায় যে কেউ পুরোনো যুগের রাজপ্রাসাদ ভেবে ভুল করতে পারে৷ বড়সড় করিডর আর রাজকীয় কারুকার্য প্রশংসার সবখানি যেন বাস্তবায়ন করছে৷

ট্যাক্সির ভাড়া চুকিয়ে এক বুক আশা নিয়ে রিসিভশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে স্টিফেন৷ আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও ইন্টারনেট মারফত এটা নিশ্চিত হয়েছে যে সেদিনের বিস্ফোরণে কোনো বিদেশী নাগরিক মারা যায়নি৷ এবং ডক্টর স্ট্যানলিও বহাল তবিয়তে আছেন৷ বলা যায় আশার আলো এখনও জ্বলজ্বল করছে৷

রিসিভশনে দাঁড়াতেই রিভিশনিস্ট অভ্যর্থনা জানিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে সাহায্য করতে পারি স্যার?”

“আসলে আমার চাবিটা ফেলে রেখে গিয়েছি রুমে। আমি কি অতিরিক্ত চাবি পেতে পারি?”

“অবশ্যই। আপনার নাম এবং রুম নাম্বারটা প্লিজ।”

“আমার নাম প্রফেসর ডক্টর স্টিফেন বার্গ৷ রুম নম্বর ৮০২।”

“আইডি প্লিজ৷”

“আসলে ওটাও রুমে ফেলে আসছি৷ আপনি চাইলে রুমে গিয়েই দেখাতে পারব৷”

“স্যরি স্যার, আমাদের কিছু সিকিউরিটি পলিসি মেইনটেইন করার কারণে আপনাকে এভাবে চাবি হস্তান্তর করতে পারব না৷ গার্ড আপনার সাথে কথা বলবে৷”

স্টিফেনকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই রিসিভশনিস্ট পার্টি সেন্টারে চলতে থাকা পার্টি থেকে সিকিউরিটি হেডকে ডাকতে গেল৷ স্টিফেন সময় নষ্ট না করে তাকে অনুসরণ করল। গার্ডকে পেয়ে সমস্যাটা বুঝিয়ে বলার ব্যর্থ চেষ্টা করল ও। কিন্তু নাছোড়বান্দা গার্ড তার কাজটা যেন ভালো করেই জানে৷ স্টিফেনকে জব্দ করার জন্য প্রশ্নের ফুলঝুরি নিয়ে বসল। অবশেষে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে গার্ড বলল, “আচ্ছা, আপনার কথাই থাক৷ এবার আপনার স্ত্রীর ফোন নাম্বার দিন৷ আমরা কথা বলে নিশ্চিত হই৷”

এখান থেকেই ভাগ্য সঙ্গ দেওয়া ছেড়ে দিল স্টিফেন কে৷ স্মৃতিপাতা হাতড়ে রেবেকার ফোন নাম্বার পেল না। অগত্যা এখান থেকে হাল ছেড়ে এম্বাসি তে যাওয়ার সীদ্ধান্ত নিল ও। এমন সময় ওর চিরচেনা পরিচিত মুখটা ভেসে ওঠল৷ না, এটা স্বপ্ন না। বাস্তবেই দেখছে ও৷ রেবেকা অন্য কোনো পুরুষের সাথে হাসতে হাসতে লিফটের দিকে এগিয়ে চলছে৷ কালক্ষেপণ না করে ও এক দৌঁড়ে এসে রেবেকার হাত ধরল৷ গার্ডরাও তার পেছন পেছন দৌঁড়ে এসেছে৷ হাত ধরে স্টিফেন বলতে লাগল, “রেবেকা! তুমি কেমন আছ? তোমার কিছু হয়নি তো? সবকিছু ঠিকঠাক আছে? কোনো সমস্যা হয়নি তো? বিশ্বাস করো বিস্ফোরণের পর থেক আমি এতদিন কোমায় ছিলাম৷ আজকে বের হয়েই তোমাকে খুঁজতে বের হয়েছি৷ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তোমার কিছু হয়নি৷”

এক শ্বাসে কথাগুলো বলে ফেলল স্টিফেন। ওর কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, “আপনি কে? আর আমার নাম-ই বা জানলেন কীভাবে?”

রেবেকার পালটা প্রশ্ন শুনে থ মেরে গেল স্টিফেন৷ পালটা উত্তর করার আগেই গার্ড বলতে লাগল, “ম্যাম! আপনি একে চেনেন না? ইনি নিজেকে ডক্টর স্টিফেন বার্গ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আপনার স্বামী দাবী করছে৷”

“হাউ ফানি! আমাকে দেখে কি বিবাহিত মনে হয়? স্টিফেন বার্গ আমার হাজবেন্ড নয়; বরং ভাই হয়৷ আর আমার ভাই এই পাশের জনই৷ বিশ্বাস না হলে আইডি চেক করে দেখুন৷”

“দুঃখিত ম্যাম! আপনাদের বিরক্ত করার জন্য। আপনারা ফিরে যেতে পারেন৷ এই ব্যাটার শায়েস্তা করছি আমরা৷”

পুলিশী জিজ্ঞাসার পর এবার হাজতে যাবার পালা। সাক্ষ্য প্রমাণ সবকিছুই ওর বিরুদ্ধে৷ স্টিফেন মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে৷ এতবছর একসাথে থাকার পরেও কীভাবে রেবেকা তাকে অস্বীকার করতে পারল৷ না, এটা চোখের ভুল হতেই পারে না৷ পুরুষের একমাত্র ভালোবাসার পাত্রী যদি কখনও তার ভালোবাসা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেয়, আক্ষরিক অর্থেই তখন কোনো পুরুষের বেঁচে থাকার অর্থ হয় না৷ আর রেবেকা তো একেবারে চিনলোই না। কিন্তু স্টিফেন দমবার পাত্র নয়৷ পুলিশের গাড়িতে তোলার আগ মূহুর্তে স্টিফেন অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলল,“অফিসার আমি কি একটা কথা বলতে পারি?”

“জ্বী বলুন। আমি ডক্টর রেমি লুকাসের রোগী৷ এইযে তার কার্ড৷ ইমারজেন্সি কোনো সমস্যা হলে তিনি আশেপাশের কাউকে দেখাতে বলেছেন৷ আশা করি, আপনি বুঝতে পারবেন৷”

অফিসার কার্ডটি দেখে কিছু টাকা দিয়ে একটি ট্যাক্সিতে তুলে দিল৷ ওকে একজন মানসিক রোগী হিসেবে ছেড়ে দিল অফিসার।


পাঁচ.

“বিয়ে করেছিলেন কতদিন হয়েছে?” হাসপাতালের নার্স জিজ্ঞেস করল।

“পাঁচ বছর৷ পাঁচটা বছর আমরা একসাথে আছি৷ ও আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না। কিন্তু বুঝলাম না হঠাৎ কি হয়ে গেল। আমি নিশ্চিত ও কারও চাপে পড়ে এমন করছে৷ কোনো গোষ্ঠী অসৎ স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওকে ব্যবহার করছে৷ ওর সাথে আমার একাকী দেখা করা উচিৎ৷”

“সে না হয় করবেন৷ হয়তো জানেন না ইতিমধ্যে আপনি বড় ধরণের সমস্যায় পড়ে গেছেন। গত বিশ দিনের ভিতরে একজনই স্টিফেন বার্গ ফ্রান্সে প্রবেশ করেছে৷ আর সেটা আপনার দেয়া পরিচয়ের সাথে মিলে গেছে৷ তবে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে নয়; বরং পরিবারের সাথে এসেছেন৷ রেবেকা তার বোনের নাম৷ মজার ব্যাপার হলো, আপনি টাইমজোন আইটি ফার্মের সিইও এবং রেবেকা নাম্নী নারী যে সেটার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেটা বলেননি।”

“হলি শীট! এখন উপায়?! ওরা তো দেখি রাষ্ট্রীয় নথিপত্র থেকেও আমাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে।”

“আমার মনে হয় আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন৷ হয়তো বিস্ফোরণের পূর্বে আমি মিস্টার বার্গকে নিয়ে বেশি ভাবতেন৷ কোনোভাবে তার ভক্ত হতে পারেন৷ জ্ঞান ফেরার পর সেগুলোই আপনার মাথায় ঘুরঘুর করছে।”

“সিস্টার, আমি মজা করছি না। আমার রুমে প্রবেশ করার সিকিউরিটি কোডও মনে পড়ছে৷ আর আপনি বলছেন আমি ধান্ধায় আছি! সিস্টার, ২৭ ফেব্রুয়ারী আমরা সুপার ভিন্টেজে শপিং করতে গিয়েছিলাম। সকালের দিকে। আপনি ওদের সিসি টিভি ফুটেজ চেক করলেই বুঝতে পারবেন।”

“হোটেলের সিসি টিভির বদলে আপনি দোকানের টা চেক করতে বলছেন কেন?” কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করল নার্স৷

“যাদের রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে হাত চালানোর ক্ষমতা আছে তাদের কাছে হোটেল মামুলী বিষয়৷ কিন্তু মার্কেট বা সুপার শপগুলো নজরে পড়ার মতো না। ফুটেজ ডিলিট করতেও সময় লাগবে।”

“আপনার মাথায় বুদ্ধি আছে, স্বীকার করতে হয়৷ কিন্তু আমি এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারছি না৷ এই কার্ডটি রাখুন৷ এটা সাবেক ডিজিএসই এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ড৷ আপনি যেহেতু মানুষ খুঁজছেন আশাকরি তিনি সাহায্য করতে পারবেন।” নিজের পকেট থেকে একটা পুরাতন ভিজিটিং কার্ডে নিজের সিগনেচার করে বলল৷


ছয়.

DGSE ফ্রান্সের ফরেন ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ যা ১৯৮২ সালে ২রা এপ্রিল ব্রিটিশ মিলিটারী ইন্টেলিজেন্স সেকশন ৬ এবং আমেরিকা পরিচালিত সিআইএ কর্তৃক গঠিত হয়৷ সুতরাং এর প্রাক্তন কর্মকর্তা মানে প্রভাবশালী কেউ৷ যে এখন অফিসিয়ালী কাজ ছাড়লেও প্রফেশনালি করে এখনও। কালক্ষেপণ না করে স্টিফেন তার কাছে সিগনেচার করা কার্ড টি নিয়ে চলে গেল৷

নক নক...

“কে?” কর্কশ কণ্ঠে ভেতর থেকে আওয়াজ এল।

“আমি স্টিফেন বার্গ৷ এন্ড্রু লুইসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি৷”

কথা শুনে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ একজন লোক দরজা খুলে ওকে ভালো করে দেখে নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে?”

“সিস্টার শেলী আমাকে পাঠিয়েছেন৷ বলল, আমার কাজে নাকি আপনি সাহায্য করতে পারবেন৷ এই নিন তার সাইন।” পকেট থেকে নার্সের সাইন করা কার্ডটি এগিয়ে ধরে বলল।

“আপনি ওর সাথে দেখা করেছেন! বেশ তো৷ খুব ভালো একটা মেয়ে৷ এবার বলুন আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?”

“আসলে আমি একজনকে খুঁজছি৷ তবে নিখোঁজ না৷ কিন্তু আমাকে চিনতে পারছে না।” স্টিফেন ভূমিকা ছাড়াই পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করল লুইসকে৷

লম্বা নিশ্বাস ছেড়ে লুইস বলল, “হুম, বেশ সন্দেহজনক বিষয়টা৷ এর আগে বলুন তো আপনি কখনও ডক্টর স্ট্যানলির সঙ্গে দেখা করেছেন? সে কি আপনাকে সত্যায়িত করতে পারবে?”

“তার সাথে আমি বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছি৷ কিন্তু এখানে এসে দেখা করতে পারিনি৷ তার সাথে দেখা করার তারিখও চলে গেছে৷ তবে আমি নিশ্চিত সে আমার সাথে কথা বললেই চিনে ফেলবে৷”

“তার সাথে এই মুহুর্তে দেখা করতে হলে যে পরিমাণ প্রটোকল মেইনটেইন করতে হবে তা আপনি পারবেন না৷ অবৈধ বিদেশি নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি আপনি একজন ত্রুটিপূর্ণ চরিত্রের সাথে মিশে গেছেন৷ পুলিশের সন্দেহ হওয়া মাত্রই আপনার হাজতবাস হয়ে যাবে।” লুইস বলল৷

“তাহলে এখন উপায়?” ভারাক্রান্ত মনে স্টিফেন প্রশ্ন করল।

“আমি দেখছি কী করা যায় আপনার জন্য৷ তার আগে বলুন আমেরিকার কেউ আপনার পরিচয় সত্যায়িত করতে পারবে কিনা? এমন কেউ যার বয়ানে বিশ্বাস রেখে আইনী প্রক্রিয়ায় আগানো যায়।”

“আমার পরিচয় আমেরিকা থেকে সত্যায়িত করতে হবে কেন?! আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্চ করুন প্রফেসর ডক্টর স্টিফেন বার্গ লিখে৷ আমার ডিটেইলস চলে আসবে৷”

লুইস কথার ফাঁকেই ইন্টারনেটে তার ব্যাপারে সার্চ করল। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে থাকায় খুব দ্রুতই পেয়ে গেল সে। স্টিফেনের বলা সকল কিছুই সত্য৷ এবং স্ট্যানলির সাথে হতে যাওয়া চুক্তি বেশ জোরেশোরেই প্রচার করছে তারা৷ কিন্তু বাধ সাধলো ব্যক্তি নিয়ে৷ লুইসের সামনে বসে থাকা স্টিফেন বার্গ দাবীদার ব্যক্তিটি আর টাইমজোনের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত স্টিফেন এক ব্যক্তি নন৷ কালক্ষেপণ না করে লুইস বলল, “এই ব্যক্তিই আপনি কিনা?”

ছবি দেখে স্টিফেনের চক্ষুচড়ক গাছে৷ যেন আকাশ থেকে পড়ল ও৷ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “হলি শীট! এটা তো সেই হারামী যে আমার স্ত্রীকে নিজের বোন বলে দাবী করছে। এবং সে নিজেকে স্টিফেন দাবী করছে৷”

“আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি৷ আপনি দূর্ঘটনার পর এমনেশিয়ায় ভুগছেন। আপনার কল্পনার কাউকে নিজের চরিত্র বলে করছেন৷ আপনার৷ চিকিৎসা প্রয়োজন৷”

“বিশ্বাস করুন৷ আমি অসুস্থ নই৷ অন্ততঃ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অসুস্থ নই৷ আর আপনিই বলুন আমি যদি তার ব্যক্তিত্বকেই নিজের বলে মনে করি তাহলে তার বোনকে আমার স্ত্রী ভাবব কেন?! ”

“তা কথা সত্য৷ কিন্তু এখন অপনার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত আমি কিছু করতে পারছি না৷ দুঃখিত।”

“আচ্ছা, আপনি দয়া করে ডিস্ক মাল্টিমিডিয়ার সিইও এর কন্টাক্ট নাম্বার বের করুন৷ সে আমার বন্ধু৷ আমাকে বেশ ভালো করেই চিনবে।”

স্টিফেনের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে লুইস নেমে পড়ল মাঠে৷ মিনিট দুই খোঁজাখুঁজির পর খানেকটা বিজয়ের হাসি নিয়ে ও প্রশ্ন করল, “সিইওর নাম কী?"

“জেমস হারকার।”

“ওয়াও, ইনিও দেখছি প্রফেসর৷ একটা বিষয় বুঝলাম না। আপনার উভয়ই আইটি ফার্মে আছেন৷ তা সত্ত্বেও প্রফেসর কীভাবে?”

“আসলে আমরা দুইজনই খণ্ডকালীন প্রফেসর। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়া হয় না৷”

“বুঝলাম৷ এবার তাহলে আগানো যাক৷” স্টিফেনকে ভরসা দিয়ে লুইস একটা পুরোনো টেলিফোনে জেমসের নাম্বারগুলো চাপল৷ তিন চারবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে ফোনটা রিছিভ করল৷ কিন্তু কোনো উত্তর নেই৷ অগত্যা লুইস আগ বাড়িয়ে ফ্রেন্স সুরে ইংরেজিতে বলল, “আপনি কি জেমস হারকার? আমি ফ্রান্স থেকে বলছি। আপনার বন্ধুর ব্যাপার কিছু জানার ছিল....।”

লুইসের কথা শেষ হওয়ার আগেই স্টিফেন ফোন কেড়ে নিয়ে বলল, “হ্যালো, জেমস! আমি স্টিফেন বলছি৷ তুমি কেমন আছ? আমি সত্যিকার অর্থে বিশাল বিপদে আছি৷ আমাকে রক্ষা কর প্লিজ৷”

“স্টিফেন! তুমি ভালো আছো? অনেকদিন যাবত তোমার খোঁজ পাইনি৷ একটু অপেক্ষা কর৷ আমি ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি৷ পৌঁছে তোমার সাথে যোগাযোগ করব।”


সাত.

একদিন পর।

নক নক নক..
“কে?” কর্কশ কণ্ঠে প্রশ্ন করল লুইস।

“আমি জেমস হারকার। স্টিফেনের ব্যাপারে এসেছি৷”

“ওহ হ্যাঁ, আসুন।” দরজা খুলে দিয়ে ভেতরে আসতে বলল লুইস৷

“ধন্যবাদ৷”

“তা আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?”

“নাহ, জার্ণিটা ভালো ছিল।”

“এবার কি অফিসিয়ালি কথা বলবে নাকি আনঅফিসিয়ালি?”

“বোধহয় সব জেনেই গেছ!”

“জানাটা বিষয় না৷ অভিজ্ঞতাটাই বিষয়৷ শেষ পর্যন্ত আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। স্টিফেনকে এমনেশিয়ার রোগী হিসেবেই দেখছিলাম। ঐযে কৌতূহল বলে একটা কথা আছে না? সেটাই এখানে কাজ করেছে৷ অন্যের চরিত্র নিজের মধ্যে ধারণ করলেও বোনকে কেন বউ মনে করবে? ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক না? বাদবাকি দেখতে চাইলাম শেষ পর্যন্ত কী হয়? বড় ধরনের চক্র কাজ করছিল বুঝতে পারছিলাম৷ কিন্তু ধরতে পারছিলাম না কারণ আমি রিটায়ার্ড৷ এরপর স্টিফেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তোমার ছবিটা পেলাম৷ তাও একজন প্রফেসর হিসেবে তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না৷ আমার বোধহয় সিআইএর সবচেয়ে নিম্নমানের প্ল্যান বিতে তোমরা এগিয়েছ৷ প্ল্যান এ-তে যে বউ থাকে প্ল্যান বি-তে সে বোন হয় কীভাবে বুঝলাম না। আমার কথা মনে আছে কিনা সেটাই তো জিজ্ঞেস করলাম না। চিনতে পেরেছ আমায় মিস্টার ড্যানিয়েল লোগান?”

“হুম।” দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলতে লাগল ড্যানিয়েল, “তোমাকে না চিনে কোথায় যাব বল? তুমি ছিলে আমাদের টিমের সবচেয়ে ধুরন্ধর চৌকস গোয়েন্দা। আফগানিস্তানে ন্যাটোর ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে তুমিই সেরা ছিলে। তোমার মতো বুদ্ধিমান হওয়া অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল৷ তোমাকে না চিনে কি আর পারা যায়! অনেকদিন পর দেখা হলো৷ ভাবতে পারছি না জীবন সায়াহ্নে এমন একটা পরিস্থিতিতে তোমার সাথে দেখা হবে।”

“সে যাই বল। দেখা হয়ে আমার ভালোই লাগছে৷ কিন্তু আমার কৌতূহল সিআইএ ডক্টর স্ট্যানলির পিছনে কেন পড়ল?"

“এতটুকু যখন বের করতে পেরেছ, তখন বুঝেও গেছে সিআইএ খামাখা কারও পিছে পড়ে না। মজা ব্যাপার কী জানো? প্ল্যান এ কাজ করলে ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পেত না আমাদের কথা৷ প্ল্যান বিও যদি ঠিকঠাক কাজ করত তাও সমস্যা হত না৷ আমাদের ধারণা ছিল স্মিথ মানে যাকে তোমরা স্টিফেন নামে জানো সে যদি ঠিকঠাক কাজ করতে অক্ষম হয়, তাহলে প্ল্যান বি ঠিকঠাক কাজ করবে৷ শারীরিক ক্ষমতা কমে যাওয়া কিম্বা আটক হওয়াই অক্ষমতা হিসেবে দেখেছিলাম আমরা৷ কিন্তু বাস্তবে বিপরীত হলো৷ জানো, স্মিথ আমার ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ধুরন্ধর ও ঝানুলোক। পেশিশক্তি আর বুদ্ধিমত্তায় অতুলনীয়৷”

“সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু স্ট্যানলির মতো সহজসরল মানুষ কী এমন ক্ষতি করল তোমাদের যে হত্যা করে ফেলতে হবে তাকে?”

“সে ভালো মানুষ। এটাই তার সমস্যা৷ সে মানবজাতিকে বিকল্পধারার চিকিৎসা উপহার দিতে চাচ্ছে৷ যা প্রচলিত চিকিৎসার থেকে অনেক বেশি উন্নত, কার্যকরী এবং সাশ্রয়ী৷ সোজা কথায় পুঁজিবাদীদের মাথায় আগুন লেগে গেছে এটা দেখে। আর মার্কিন সরকার কখনও পুঁজিপতিদের মন্দ চায় না।”

“তাহলে তাকে হত্যা না করে তোমরাও এটা বানিজ্যিকভাবে ডেভেলপ করতে পার তো৷”

“জানোই তো কোনো জিনিস তৈরি করার চেয়ে ধ্বংস করা সহজ৷ আর স্ট্যানলি একা মানুষ৷ পক্ষান্তরে তার বিরুদ্ধে বিশাল একটা শ্রেণি দাঁড়িয়েছে৷”

“বুঝলাম।”

“দাঁড়াও৷ তোমার জন্য একটা উপহার এনেছি৷” পকেট থেকে প্রায় আট ইঞ্চি লম্বা একটা পিস্তল বের করে লুইসকে উদ্দেশ্য করে বলল, “দেখ তো এটা কী?”

“ওয়াও, এটা তো MAC50৷ এটা Modèle 1935A এবং Modèle 1935S থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়েছিল ১৯৫০ সালে। ফ্রেন্স মিলিটারিতে অনেক জনপ্রিয় একটা সেমি অটোমেটিক পিস্তল। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ পিস তৈরি হয়েছে৷ তবে তোমার হাতেরটা দেখে অন্যরকম কিছু মনে হচ্ছে৷ কারণ, উপহার বলেছ৷”

“ঠিক ধরেছ৷ এটা আমার বাবার। তিনি ফ্রেন্স সরকার থেকে ১৯৫০ সালে উপহার পেয়েছিলেন। এর থেকে মজার ব্যাপার হলো প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধে এটা ব্যবহৃত হয়৷ প্রথম এডিশন হওয়ার পাশাপাশি এটা একটা ঐতিহাসিক মিলিটারি সরঞ্জাম৷ বুঝতেই পারছ এটা একটা বড় মাপের এন্টিক।”

“ওয়াও, দারুণ জিনিস।”

“এখানেই শেষ নয়। এটার মধ্যে এখনও দুইটা পুরোনো বুলেট আছে। তাজা থাকার কথা। দাঁড়াও দেখি৷” তাই বলে ড্যানিয়েল পিস্তলটা লোড করে লুইসের বুকের ডান দিকে তাক করল৷ লুইস কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকট শব্দে গুলি চালিয়ে দিল লোগান৷ বুকে হাত দিয়ে মেঝেতে পড়ে কাতরাতে আরম্ভ করল সে৷ লোগান গুণে গুণে পা ফেলে তার কানের কাছে গিয়ে বলল, “দুঃখিত বন্ধু। আমি কখনও এমনটা করতে চাইনি৷ কিন্তু আমার পেশা করতে বাধ্য করেছে৷”

বড় বড় দম ফেলে লুইস বলল, “কিন্তু স্মিথ জানলে কখনওই তোমাকে ছাড়বে না৷”

“বন্ধু এটা সি আই এ। আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স৷ বিপদকে কখনও প্রশ্রয় দেয় না এরা৷ আর স্মিথ! ও তো এখন আটক।” পথে আসলে ভালো নইলে তোমার সাথে ওপারে শীঘ্রই দেখা করতে আসছে৷” ড্যানিয়েল কথা শেষ করে পিস্তলটা তার মাথার উপর ধরল৷ দ্বিতীয়বার লোড করে ট্রিগার চাপল। বিকট শব্দে বুলেট বেরিয়ে গেল তার মাথার খুলি এফোঁড়ওফোঁড় করে৷ সেই ঐতিহাসিক পিস্তলটা সাদা রুমাল দিয়ে ঢেকে লাশের বুকের ওপর রেখে আসল ড্যানিয়েল।


আট.

একটা বদ্ধ রুমে হাত-পা বাধা অবস্থায় চেয়ারে বসে আছে স্মিথ৷ ভাঙাচোরা চেহারা দেখে ঠাহর করা যাচ্ছে ওর ওপর দিয়ে বয়ে চলা নির্যাতনের মাত্রা। নাক মুখ দিয়ে টপটপ করে রক্ত পড়ছে৷ অজ্ঞান অবস্থায় ওকে পেয়ে ড্যানিয়েল পানির ছিটা দিয়ে জ্ঞান ফেরাল৷

ড্যানিয়েলকে দেখে ভয়ে চুপসে গেল ও। আতংকিত হয়ে বলতে লাগল, “আমার ভুল হয়ে গেছে স্যার। আমাকে ক্ষমা করে দিন৷ আমাকে বাঁচতে দিন স্যার৷ আমার সবকিছু মনে পড়ছে৷”

“স্মিথ, তুমি ছিলে আমার সেরা কর্মীদের একজন৷ কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেছে৷ সত্যি বলতে তোমাকে হারাতে চাই না আমি৷ কিন্তু ভাগ্যে যদি লিখা থাকে তাহলে আমার কিছু করার নেই? তুমি বললে তোমার সবকিছু মনে পড়ছে৷ তোমার নামের কোড নাম্বারটা বল তো তাহলে৷”

“কোড? কীসের কোড? আমার মনে আসছে না।”

“আপদ মাথায় নিয়ে ঘুরেবেড়ানো উচিত না। আমায় ক্ষমা করে দিয়ো তুমি৷ লুইসের সাথে মিলিত হও গিয়ে ৷ খুব দ্রুতই ডক্টর স্ট্যানলি তোমাদের সাথে মিলিত হবেন। তাকে বলো আমাকে ক্ষমা করে দিতে৷ বিদায় স্মিথ।” স্মিথ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ড্যানিয়েল নিজের পকেট থেকে একটা Glock 18 অটোমেটিক পিস্তল বের করে চার রাউন্ড গুলি চালিয়ে দিল। বুলেটগুলো ওর বুকটা এফোঁড়ওফোঁড় করে বেরিয়ে গেল৷ স্মিথের নিথর দেহটা মেঝেতে পড়ে রইলো৷ এবার ডক্টর স্ট্যানলির পালা।

সমাপ্ত



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:১১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×