somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ১২: অপরাজেয় বাংলা

০৭ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বার.

এ যাবত যে পরিমান কাজ করেছি তা মুলত ক্যামেরা সামনে স্মৃতিচারন। যে জার্নিটা করতে চেয়েছি তা প্রায় সম্পন্ন। এখন ভাবনা হচ্ছে সম্পূর্ন ব্যাপারটা আমি উপস্থাপন করবো কি ভাবে? কোন চিত্রনাট্য ত আগ থেকে নেই, কেবল যেখানে যাকে পাওয়া গেছে তার কথা গুলোই ধারন করেছি সচিত্র। তো এখন এই কথা গুলো দিয়েত মালা গাথতে হবে! আমি মোটেই চাইছি না আমার এ কাজটি যারা দেখবেন তারা দেখে এটাকে টেলিভিশনের একটা অনুষ্ঠান মনে করুক। ছবি তোলার কাজ আরো কিছু বাকী আছে, কিন্তু পোষ্ট প্রডাকশনে কেমনে কি করবো তাই ভেবে ভেবে কুল কিনারা করতে পারছিলাম না কিছু। ইন্টারভিউ গুলো ছাড়া হাতে আছে কেবল মঞ্জুলী দি'র কাছথেকে পাওয়া মিশুক ভাই'র তোলা স্টিল ছবি গুলো। হন্যে হয়ে খোজা শুরু করলাম অপরাজেয় বাংলার পুরোনো ফুটেজ। জানতাম নির্মান সময়ের কোন সচল ছবি নেই তবুও খোজ লাগালাম। ব্লগে পোষ্ট মারলাম কয়েকটা। তেমন কোন সাড়া পেলাম না। ব্লগের বাইরে খালাত ভাই ইমু তার এক বান্ধবী'র বাবা'র কাছ থেকে আর্কাইভ হাতরাইয়া ইনফরমেশন আনল না কোন মুভি বা স্টিল নেই। ভাবলাম তখনকারটা নেই তার পরের যদি কোন সচল ছবি পাওয়া যায়! এডিটিং এ বসবার আগে যত রকমের মালমশলা নিয়ে বসা যায় সে চেষ্টা করছিলাম। অনলাইনে খুজে ও একটা দুইটা ষ্টিল ছাড়া আর কিছুই পেলাম না!

কোথাও কিছু না পেয়ে ইমু কে বললাম, এক জন তরুন আবদুল্লাহ খালিদ আর এক জন বদরুল আলম বেনু দরকার। আমার কাছে যে সকল স্টিল আছে তার থেকে ক'একটা ফ্রেম সচল করতে চাই। ইমু আমার দিকে তাকায়। আমি বলি ছবি গুলান দেখ, দেইখা আমারে এই চেহারা এই প্রোফাইলের দুই পাবলিক আইনা দেও। আমি অপরাজেয় বাংলা নির্মান কালীন কিছু কিছু দৃশ্য পুনর নির্মান করবো। খুব টাইট ফ্রেমে কিছু কিছু শট নিব দেখতে ইন্টারেষ্টিং লাগবে। মিনিমাম যেটুকু খরচ লাগে না হয় করমু। ইমু কয়দিন দৌড় ঝাপ করে আমাকে কিছু পোলাপানের ছবি দেখাল। কোন ছবির মধ্যেই আমি খালিদ ভাই কিংবা বেনু ভাই এনাদের খুজে পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে এই খোজাখুজিতে উৎসাহ হারালাম।

এক দিন দুপুরে নিউইয়র্ক থেকে ফোন করলেন এনায়েত করিম বাবুল। নিউইয়র্ক সময় যখন রাত তিনটা তখন বাংলাদেশে বাজে দুপুর একটা, বাবুল ভাইয়ের জন্য তখন প্রাইম টাইম। কানাডা থাকতে ও ঠিক সেই টাইমটা হলেই বাবুল ভাই আমাকে পাকড়াও করেন নিয়মিত। আমি শুনতে না চাইলেও একবার ফোনে ধরা খাওয়ার পর পরবতী আধঘন্টা তার সাথে আমার জগত উদ্ধারে নামতে হয়। এই বাবুল হচ্ছেন বাংলা দেশ থেকে সিনেমা পড়তে যাওয়া প্রথম দিগকার পুনে ফেরত। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক। ফিল্ম বানাতে জার্মান যেয়ে লন্ডন কানাডা হয়ে নিউইয়র্ক এ বসত গেড়েছেন সেই কবে!

জানি না বাবুল ভাইয়ের কথা এই সিরিজের কোথাও এর আগে উল্লেখ করে ছিলাম না অন্য কোন পোষ্টে লিখেছিলাম। যাই হউক এ মুহূর্তে সে প্রসঙ্গে আর না যাই। মোর্শেদুল ইসলামের আগামী তানভীর মোকাম্মেলের হুলিয়ার ঠিক পর পরই বাবুল ভাই চাক্কি নামে একটি শর্ট ফিল্ম বানিয়ে ছিলেন। চাক্কি দেখেছিলাম সেই আশির দশকের গোড়াতে। এর পরে আর কখনো দেখিনি। বাবুল ভাইয়ের কাছেও কোন কপি নাই। সে দিন ফোনে বাবুল ভাইকে বললাম ভাইজান পেরেশানীতে আছি কথা বলতে ভালো লাগতেছে না। বাবুল ভাই বললেন কি হইছে মিঞা সমস্যাটা কি বলেন না! আমি খামোখা কথা বাড়াতে চাই না। উনি নাছোড় বান্দা, বলেন কি মিঞা আপনেরে দেশে যাইতে দিলাম কাম করবেন এই শর্তে। এখন দেশে গিয়ে ঝামেলা করছেন ক্যানো! চীয়ার আপ ম্যান, চীয়ার আপ! দুঃশ্চিন্তা না করে বলেন বলেন কি হইছে? বাবুল ভাইয়ের পিড়াপিড়িতে এক প্রকার বাধ্য হয়ে বললাম, ভাইরে অপরাজেয় বাংলার একটা মুভিং ফুটেজ খুজতে ছিলাম। আশির দশকের শুরুর দিকের। এই মিনিট খানেকের হলেই চলত। কোথাও পাচ্ছি না! হালায় এইটা একটা কথা হইল কন! খুইজা খুইজা মইরা যাইতাছি, কোন হালায় একটা ছবি ও তোলেনাই। ইশ্ একটু যদি ফুটেজ পাইতাম!


সেদিন বাবুল ভাই আমাকে আকাশের চাঁদ পেড়ে হাতে দিয়ে বললেন এইটা আপনে আমারে আগে বলেন নাই কেন? আমার চাক্কিতে সেই ফুটেজ আছে আপনে চাক্কি দেখেন নাই? আমি চাক্কি দেখছি সেই ৮৪ কি ৮৫ সালে অত ত মনে নাই! বাবুল ভাই তখন বললেন দাড়ান আমার ছোট ভাইরে ফোন করে দিচ্ছি চাক্কির প্রিন্ট আর্কাইভে জমা আছে ও আপনাকে চাক্কির একটা কপি বের করে দেবে। আমার মুখে আর কোন কথা সরে না, পরে সেই ফুটেজ দেখেত আমি পাগল হয়ে গেলাম। ঠিক যা খুজছিলাম, ঠিক যে রকমটি ভাব ছিলাম স্বপ্ন'র মত সে ছবি আমার জন্য যেনো তোলা হয়ে গেছে ২৫ বছর আগে। আমি তার ও সন্ধান পেলাম! আমার জন্য অরো বিশ্ময় বাকী ছিল যেন, চাক্কির ক্যামেরা চালিয়ে ছিলেন মিশুক মুনীর এবং সেটা ছিল তার জীবনে মুভি ক্যামেরার হাতে খড়ি! মিশুক ভাইয়ের জীবনের প্রথম স্টিল ক্যামেরার কাজ অপরাজেয় বাংলা নিয়ে, এবং তার জীবনের মুভি ক্যামেরার হাতেখড়ি ত হয়েছে অপরাজেয় বাংলা নিয়ে! স্রেফ অবাক হওয়া ছাড়া যেন আর কিছুই আমার বলবার নাই!

অপরাজেয় বাংলার সামনে নিয়মিতই মিছিল মিটিং মানব বন্ধন কিছু না কিছু ইভেন্ট হয়। খবর পেলেই অপরাজেয় বাংলার সামনে চলে যাই সে সব শুট করতে। কখন ও পতাকা বাঁধা কখন ও চোখ বাঁধা। তিনটি মূর্তি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ! কেউ বলে চলবে না, কেউ বলে মানবো না, কেউ বলে জ্বালিয়ে দাও কেউ বলে পুড়িয়ে দাও! ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে অবাক নয়নে দেখি আর ভাবি, ৩৮ বছর পরেও আমরা একে অপরকে কেন এমন জ্বালিয়ে দিতে চাই পুড়িয়ে দিতে চাই!

সকালে অর্থাৎ সকাল সাতটা সাড়ে সাতটার মধ্যে অপরাজেয় বাংলার সামনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ যায়গাটাতে দাড়ালে বেশ লাগে। এর পর বেলা চড়ার সাথে সাথে দ্রুতই বদলে যেতে থাকে সব। বিকেল নাগাদ অপরাজেয় বাংলার ঐ চত্তর জুড়ে মানুষের হাট বসে যায়। বুট বাদাম চিবাতে চিবাতে আর বিড়ি সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতেই বেলা ডুবে যায় নিত্য দিন। সন্ধ্যার আঁধারিতে প্রেমিক অবধারিত ভাবে ধরে প্রেমিকার হাত, শুরু হয় জীবনের নানান লেনদেন। কে রাখে খবর কার হয় ফুরসত জানতে অত শত? কবেকার কোন শিল্পী কত সকাল কত দুপুর কত সন্ধ্যা এক বেলা আধবেলা খেয়ে না খেয়ে গড়ে ছিলেন কোন দিন স্বাধীনতার এমন সোপান। যার তলে আজ আমরা জড়ো হতে পারি এমন আমাদের যাবতীয় আনন্দ বেদনা ক্ষোভ দুঃখ আর ভালোবাসার উৎসবে!


(ছলিবেক)


মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ১: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ২: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৩: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৪: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৫: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৬: অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৭ : অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৮ : অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ৯ : অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ১০ : অপরাজেয় বাংলা মূর্তি লইয়া আমার প্রামান্য কথন ১১ : অপরাজেয় বাংলা
ওয়েব ঠিকানা, অপরাজেয় বাংলা


ছবি: এনায়েত করিম বাবুলের চাক্কি ছবি থেকে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:০৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×