somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্টারনেটের অগ্রগতিতে আমরা কোথায়!

২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে।অথচ খুব বেশীদিন আগের কথা নয়।২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালেও এমনটি ছিল না।২০০৬ সালের পর থেকেই একটা বৈপ্লবীক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়।সেই পরিবর্তনের ধারার রেশ ধরে চলতে চলতেই আজকের অবস্থানে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে যা সত্যিই যুগান্তকারী পরিবর্তনের উৎকর্ষতার সাক্ষ্য বহন করেছে ।এটাকে অন্য ভাবেও বলা যায় `অপার সম্ভাবনার দূয়ার খুলে গেছে'।প্রাত্যহিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেমন কম্পিউটার ব্যবহার অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে ঠিক তেমনি ইন্টারনেটের গুরুত্বও অপরিসীম হয়ে পড়েছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে এখন সময়ের দাবী রাষ্ট্র যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতা।সম্ভবত এখন অনেকেই মনে করছে- রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই মাধ্যমটি একটি বড় শিল্পে পরিনত হবে। এই মাধ্যমটির বিশালত্ব এক কথায় কিংবা কয়েক পাতায় লিখে প্রকাশ করা যাবে না।তবে ছোট একটা প্রচলিত গল্পের কথা মনে পড়ে।সে গল্পের মাধ্যমে ইন্টারনেটের গভীরতা বোঝান যাবে না হয়তো তবে বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দেশে এর অবস্থান কোথায় তার একটা চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো । এই গল্পটি সবার জন্য নয়। এটি রাষ্ট্র যন্ত্রের কর্তা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে।যারা অহর্নিশ স্বপ্ন দেখে এবং দেখায় বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ।তবে ভুল করেও যেন তারা এই গল্পটি না পড়ে ফেলে।আর কেউ যদি পড়ে ফেলেনও তবে তারা যেন অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা না করেন কিংবা গল্পের বিষয় বস্তুকে নিজেদের কাঁধে তুলে না নেন। এটা নিছক প্রাসঙ্গিক গল্প।

একটি পরিত্যক্ত কূয়োর মধ্যে বাস করতো একটি ব্যাঙ।কূয়োর মধ্যে তেমন পানি ছিল না।কূয়োর এই ছোট গন্ডির মধ্যে ব্যাঙটি ছোট বেলা থেকে বাস করে আসছে।কূয়োর তলায় মাটিটুকু ছিল ব্যাঙয়ের একমাত্র লীলাভূমী।এই লিলাভুমিতে বাস করতে পেরেই সে আতœহারা হয়ে থাকতো।একদিন কূয়োর পারে বসে ব্যাঙটি আরাম করছিল।এমন সময় সে সুদূর পূর্ব সাগর থেকে আসা একটি অতিকায় কাছিমকে দেখতে পেলো।সে কাসিমকে দেখে বললো ‘‘দেখো ভাই ,আমি কত আরামে আছি,যখনই খুশী কূয়োর পাড়ে লাফালাফি করতে পারি ক্লান্ত হয়ে পড়লে কূয়োয় নেমে ভেতরকার গর্তে যতক্ষণ খুশী বিশ্রাম করতে পারি। এখানে স্নানাহার ,আমোদ-ফূর্তি সবদিকদিয়েই ভারি সুবিধা।’’

কিছুক্ষণ পরে ব্যাঙ আবার কাছিমকে বললো ‘‘তুমি কূয়োর মধ্যে একবার এসো না,দেখো, কূয়োর ভেতর কত মজা।’’

কথাটা শুনে পূর্ব-সাগরের সেই বিরাট কাসিমটিরও একটু কৌতূহল হলো।সে কূয়োর মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করলো।কিন্তু বা পা কূয়োর মধ্যে ঢুকতে না ঢুকতেই তার ডান পা আটকে গেল কূয়োঘেরার ধারিতে।নিরুপায় হয়ে অতি-প্রকান্ড কাছিম পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো।তা দেখে ব্যাঙ অসন্তুষ্ট হলো বললো:‘‘তুমি যেখানে থাকো,সে জায়গা কী এর চেয়েও ভালো?’’কাছিম বললো :‘‘আমি সাগরে থাকি ,সেখানে....’’তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই কূয়োর ব্যাঙ অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো‘‘সাগর কেমন দেখতে?’’
ডাঙ্গায় একটানা কয়েক বছর অতিবৃষ্টি বা বন্যা চললেও সাগরের পানি কিন্তু একটুও বাড়ে না ,আবার ডাঙ্গায় একটানা কয়েক বছর অনাবৃষ্টি হলেও সাগরের পানি কিন্তু একটুও কমে না। তাই যখন যে অবস্থায় হোক না কেন ,মহাসাগর চিরকালই সীমাহীন এবং তরঙ্গ-সংকুল।সে জন্য আমি মহা-সাগরে থাকাটাই পছন্দ করি।’’

কাছিমের কথা শুনে কূয়োর ব্যঙের লজ্জা হলো,সে বুঝতে পারলো যে তার নিজের জ্ঞান খুবই সীমিত।ছোট কূয়োর মধ্যে থাকতে থাকতে সে বাইরের জগৎ সর্ম্পকে কিছুই জানতেপারেনি।:-*:


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×