আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলছে।অথচ খুব বেশীদিন আগের কথা নয়।২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালেও এমনটি ছিল না।২০০৬ সালের পর থেকেই একটা বৈপ্লবীক পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়।সেই পরিবর্তনের ধারার রেশ ধরে চলতে চলতেই আজকের অবস্থানে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে যা সত্যিই যুগান্তকারী পরিবর্তনের উৎকর্ষতার সাক্ষ্য বহন করেছে ।এটাকে অন্য ভাবেও বলা যায় `অপার সম্ভাবনার দূয়ার খুলে গেছে'।প্রাত্যহিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেমন কম্পিউটার ব্যবহার অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে ঠিক তেমনি ইন্টারনেটের গুরুত্বও অপরিসীম হয়ে পড়েছে। অবস্থার প্রেক্ষিতে এখন সময়ের দাবী রাষ্ট্র যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতা।সম্ভবত এখন অনেকেই মনে করছে- রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই মাধ্যমটি একটি বড় শিল্পে পরিনত হবে। এই মাধ্যমটির বিশালত্ব এক কথায় কিংবা কয়েক পাতায় লিখে প্রকাশ করা যাবে না।তবে ছোট একটা প্রচলিত গল্পের কথা মনে পড়ে।সে গল্পের মাধ্যমে ইন্টারনেটের গভীরতা বোঝান যাবে না হয়তো তবে বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দেশে এর অবস্থান কোথায় তার একটা চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো । এই গল্পটি সবার জন্য নয়। এটি রাষ্ট্র যন্ত্রের কর্তা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে।যারা অহর্নিশ স্বপ্ন দেখে এবং দেখায় বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার ।তবে ভুল করেও যেন তারা এই গল্পটি না পড়ে ফেলে।আর কেউ যদি পড়ে ফেলেনও তবে তারা যেন অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা না করেন কিংবা গল্পের বিষয় বস্তুকে নিজেদের কাঁধে তুলে না নেন। এটা নিছক প্রাসঙ্গিক গল্প।
একটি পরিত্যক্ত কূয়োর মধ্যে বাস করতো একটি ব্যাঙ।কূয়োর মধ্যে তেমন পানি ছিল না।কূয়োর এই ছোট গন্ডির মধ্যে ব্যাঙটি ছোট বেলা থেকে বাস করে আসছে।কূয়োর তলায় মাটিটুকু ছিল ব্যাঙয়ের একমাত্র লীলাভূমী।এই লিলাভুমিতে বাস করতে পেরেই সে আতœহারা হয়ে থাকতো।একদিন কূয়োর পারে বসে ব্যাঙটি আরাম করছিল।এমন সময় সে সুদূর পূর্ব সাগর থেকে আসা একটি অতিকায় কাছিমকে দেখতে পেলো।সে কাসিমকে দেখে বললো ‘‘দেখো ভাই ,আমি কত আরামে আছি,যখনই খুশী কূয়োর পাড়ে লাফালাফি করতে পারি ক্লান্ত হয়ে পড়লে কূয়োয় নেমে ভেতরকার গর্তে যতক্ষণ খুশী বিশ্রাম করতে পারি। এখানে স্নানাহার ,আমোদ-ফূর্তি সবদিকদিয়েই ভারি সুবিধা।’’
কিছুক্ষণ পরে ব্যাঙ আবার কাছিমকে বললো ‘‘তুমি কূয়োর মধ্যে একবার এসো না,দেখো, কূয়োর ভেতর কত মজা।’’
কথাটা শুনে পূর্ব-সাগরের সেই বিরাট কাসিমটিরও একটু কৌতূহল হলো।সে কূয়োর মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করলো।কিন্তু বা পা কূয়োর মধ্যে ঢুকতে না ঢুকতেই তার ডান পা আটকে গেল কূয়োঘেরার ধারিতে।নিরুপায় হয়ে অতি-প্রকান্ড কাছিম পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো।তা দেখে ব্যাঙ অসন্তুষ্ট হলো বললো:‘‘তুমি যেখানে থাকো,সে জায়গা কী এর চেয়েও ভালো?’’কাছিম বললো :‘‘আমি সাগরে থাকি ,সেখানে....’’তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই কূয়োর ব্যাঙ অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো‘‘সাগর কেমন দেখতে?’’
ডাঙ্গায় একটানা কয়েক বছর অতিবৃষ্টি বা বন্যা চললেও সাগরের পানি কিন্তু একটুও বাড়ে না ,আবার ডাঙ্গায় একটানা কয়েক বছর অনাবৃষ্টি হলেও সাগরের পানি কিন্তু একটুও কমে না। তাই যখন যে অবস্থায় হোক না কেন ,মহাসাগর চিরকালই সীমাহীন এবং তরঙ্গ-সংকুল।সে জন্য আমি মহা-সাগরে থাকাটাই পছন্দ করি।’’
কাছিমের কথা শুনে কূয়োর ব্যঙের লজ্জা হলো,সে বুঝতে পারলো যে তার নিজের জ্ঞান খুবই সীমিত।ছোট কূয়োর মধ্যে থাকতে থাকতে সে বাইরের জগৎ সর্ম্পকে কিছুই জানতেপারেনি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




