বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় দু’ডজন চ্যানেল ।এসব দেশীয় টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানগুলো কেমন লাগে?এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল আমার পরিচিত এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রের কাছে ।নির্বিকার ভঙ্গিমায় কলেজ ছাত্র উত্তর দিল টিভি অনুষ্ঠান না টিভি বিজ্ঞাপন, কোনটির কথা বলবো।বললাম, টিভি অনুষ্ঠান। চট জলদি উত্তর, ‘অনুষ্ঠানের কথা যদি বলেন তাহলে বলবো তাতো দেখাই হয়না’।বললাম, কেন?সরস উত্তরে বলেন,লবন বেশী থাকে তাই খেতে পারিনা।বিস্মিত হয়ে আবার প্রশ্ন, মানে!মৃদু হেসে বললো এটাও বুঝতে পারছেন না!মাথা নাড়ালাম, বললাম- না।এবার কলেজ ছাত্রটি লবন তত্ত্ব বোঝাতে আরাম্ভ করেন।দেখুন,কোন সু-স্বাদু খাবারে যদি অতিরিক্ত লবন পড়ে যায় তাহলে খাবারটি নিশ্চয় সু-স্বাদু হবে না, হবে অ-খাদ্য। অর্থাৎ বেশী লবনাক্ততায় খাবারের স্বাদকে নষ্ট করে । সীমাহীন সমুদ্রে অসীম পানি থাকলেও যেমন খাওয়ার উপযোগীতা না থাকায় তা কিঞ্চিত পরিমানেও পান যোগ্য হয়না, তেমনি টিভি অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপনগুলো আমার কাছে বরাবরই অতিরিক্ত লবনাক্তের মত। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ভারে টিভি অনুষ্ঠানগুলো একরকম পিষ্ট হচ্ছে।কলেজ ছাত্রের এমন উপলব্দীকে আরো একটু জোরালো করার প্রচেষ্টা চালায় তার সঙ্গে থাকা সমবয়সী বন্ধুটিও। ছাত্রের বন্ধুটির অধৈর্যের ব্যরোমিটার এতটাই ওঠানামা করে যে কোন চ্যানেলেই দু’মিনিটর বেশী কোন অনুষ্ঠান দেখতে পারেননা মনোযোগ দিয়ে।খবর আর টক শো ছাড়া অন্য কোন অনুষ্ঠান দেখতে গেলেই বাজে বিপত্তি।বিজ্ঞাপনের প্রপাগান্ডায় রিমোটের বাটন টেপাতে হয় অনবরত।আর ধারাবাহিক নাটকগুলোর অবস্থা আরোও করুন।নাটকের কাহিনী শুরু হওয়ার আগেই বিজ্ঞাপন।যাওবা ধৈর্য নিয়ে কিছুদুর এগিয়েছে নাটকটি দেখার জন্য কিন্ত কিছু বোঝার আগেই নাটকের পর্বের সমাপ্তি ঘটে। হরহামেশাই এমন অভিযোগ অনেক টিভি দর্শকের কাছেই শুনতে পাওয়া যায়।বিজ্ঞাপন প্রচারে কোন শৃঙ্খলা নেই কোন চ্যানেলেই।এত চ্যানেলের ভীড়ে মাত্রারিক্ত বিজ্ঞাপনের জন্যে খুব কম দর্শকই আছেন যারা নিয়মিত টিভি অনুষ্ঠান দেখেন। চ্যানেল ওয়ালারাও এসব শুনতে পান ,তবে তাদের কাছে এসব কথা অপ্রিয় লাগে। কেননা যেখানে বিজ্ঞাপনগুলোই তাদের বেঁচে থাকার রসদ যোগাচ্ছে সেখানে এমন বহুদা কথা বার্তা কার ভালো লাগে!কিন্তু এর থেকে পরিত্রানের উপায় কী?দর্শকরা এমন বিরম্বনা সহ্য করবেন আর কতকাল?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




