আমার প্রিয় দু’ বোন নাসরীন ও লিমাকে উদ্দেশ্য করে কিছু লেখার জন্য বসেছি ।যারা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী।মাঝে মধ্যে দেশে এলেও বড় ভাই হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব পালন করা দরকার তা পালন করতে পারিনা।এর মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক দৈন্যতা।এই নিয়ে তাদের খেদেরও কমতি নেই।যেখানে আমারই নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে প্রিয় দু’বোনের যথাবিহীত পরিচর্যা কেমনে কুলোবে। এই প্রিয় দু’বোনকে নিয়ে লেখা কিভাবে শুরু করবো তা ঠিক করতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়।অবশেষে মাথায় যা এলো তাই লিখে দিলাম।পাঠকরা হয়তো লেখার আগাগোড়া বুঝতে কষ্ট হবে তবে যাদের জন্য এ লেখা তাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না নিশ্চয় ।
অনেক আবেগ কথায় প্রকাশ করা যায় না।কেউ কেউ পারে ।আমি পারি না।হয়তো আমি অত বাকপটু নই বলে ।অবশ্য যারা পারে তারা অনেক দূর যেতে পারে।এই পারাটা একটা যোগ্যতা।এই যোগ্যতা অর্জন না করার কারণে কথায় পটু হতে পারিনি কখনো।কালে কালে অনেক বেলা হলো।বিয়াল্লিশ বসন্ত পার করে তেতাল্লিশে পা দিলাম।তাও আট মাস হতে চললো।এই দীর্ঘ পথ চলায় কী পেলাম আর কী পেলাম না এই হিসেব করাটাও আমার কাছে একরকম দূরহ।কেননা স্মৃতি বড় বেশি ভোগায় আমাকে।মনে রাখার ব্যারোমিটারের স্তর দিনকে দিন যেন কমতে শুরু করেছে।ভয় পাই।যদি পুরোটাই ক্ষুইয়ে ফেলি।তাহলে জীবনটাই অর্থহীন হয়ে যাবে।যাই হোক,সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।ভাগ্য বিধাতার দোষ দিয়ে নিজের অক্ষমতা জাহির করার ক্ষুদ্রতা দেখানোর জন্য আমার এ লেখার উদ্দেশ্যও নয়।
প্রত্যেক মানুষই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে ।আমি ভাবি এক ,আরেকজন ভাবে আরেক।আমি দেখি ছয়,অন্যজন দেখে নয়।এই পরস্পরের উল্টো দেখার চিরন্তন স্বভাব কিভাবে বদল হবে আমাদের।আমরা কোন মহামানব নই যে একলাফেই কিংবা পর্যায়ক্রমে বদল করে ফেলবো অস্তিত্বহীন এ সত্ত্বাটিকে।ক্ষুদ্র নগন্য একজন সাধারণ আমির বেলায়তো একেবারেই নয়। সাদাকে সাদাই দেখি যেখানে, সেখানে কালো দেখার দিব্য দৃষ্টি কোথায়।রাগ এলে রাগ করি,আনন্দ এলে উল্লাসে ফেটে পরি । কোন রাখঢাক নেই। সদা প্রাঞ্জল থাকার চেষ্টা করি।বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি অন্তত কখনো কোন বিষয়ে কূট চালের আশ্রয় নেইনি।জ্ঞানতো কোন অন্যায় করিনি,যদিবা দৈবাৎ হয়েছে কখনো সখনো তা অজ্ঞানোতায় হয়েছে সব।
অর্থই যত অনর্থের মূল।কথাটার অর্থ সকলেরই জানা।তবে এই কথাটি আমার দৃষ্টিভঙ্গীতে উল্টোভাবেই যাপিত করছে।অর্থাৎ ‘অর্থ হীনই যত অনর্থের মূল’।অর্থ হীনতার প্রভাব প্রতিক্ষণ দংশন করছে।অর্থের জন্যে অতি আপনজনও বেমালুম ভূলে যায়।যখন সম্পর্ক নির্ণয় হয় অর্থের মাপকাটিতে তখন মানবিক মূল্যবোধ ধুলোয় গড়াগড়ি খায়।কে অক্ষম আর কে সক্ষম সে প্রশ্ন তখন অবান্তর।দুর্বলের প্রতি সবলের উপহাস হয় নিত্য দিনের সরস গল্প বলায়।
যাদের আশায় বাঁধিয়াছি বুক
তারাই ছিন্ন করিল আবরণ।
পথ পানে চেয়ে
স্বপ্নের মোহ ভেঙ্গে
হয় খান খান।
তবু আশা রয় বুকের ভিতর
ধরণী যদি ,একটু সদয় হয়।
বেঁেচ যাবে মোর
ডানা ভাঙ্গা পাখী
যেভাবে উড়িতে চায়।
শত কষ্টের দিনগুলো মোর
বিলাপ পারে দিনভর।
কখন দেখা মিলিবে তার
ধুলোয় গড়াগড়ি খাওয়া
হারানো সেই মূল্যবোধ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




