গণসচেতনতা কিভাবে তৈরী করা যায় তা বাস্তবায়নে প্রথম দ্বায়িত্ব বর্তায় রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্রের ওপর।কিন্ত্ত রাষ্ট্রের প্রশাসনে যারা এ দায়িত্ব পালন করেন তাদের কার্যক্রম দেখে মনে হয় তারা মনে করেন দেশের সকল মানুষই তাদের অধিনস্থ কর্মচারী।একটি ঘোষণা ----আগামী মঙ্গলবার থেকে কেউ হেটে রাস্তা পার হবেন না।যদি হাটেন তাহলে জরিমানা করা হবে।এই ঘোষণাটা যেভাবে দিলেন তা যে অনেকে জানতেই পারেননি তা জেনে প্রশাসনের কেউ কেউ আকাশ থেকে গড়িয়ে পড়লেন।বলেন কী ?পত্রিকায় দেয়া হলো, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় দেখানো হলো...তারপরেও জানেন না।কেউ বললেন ভাই জানতে পারিনি ,কেউ বললেন আপনারা আমাকে জানাতে পারেননি।আমিতো আর আপনার কর্মচারী নই , যার কর্মচারী তিনি আমাকে এ ক’দিন টিভি দেখা বা পত্রিকা পড়ার সময় দেননি।প্রশাসনের একজন বললেন আপনি এদেশের নাগরিক।নাগরিক হলে এমন ঘোষণা শুনতে হবে ,জানতে হবে, না জানলে জরিমানা গুনতে হবে। উত্তরে একজন বললেন দেশের নাগরিক ঠিকই প্রশাসনের কর্মচারী নই। গণসচেতনতা তৈরীর কিছু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে এমন উত্তর নিশ্চয় কোন নাগরিকের কাছ থেকে পেতে হতো না।‘রাস্তা পারাপারে পথচারী নিষিদ্ধ ’করা হলে পথচারী রাস্তা পার হবে কোথায় দিয়ে। কেন ওভারব্রীজ দিয়ে। ওভারব্রীজেতো পথচারী বান্ধব নয়।একজন বললেন পথচারী বান্ধব করা হবে।কবে নাগাদ পথচারী বান্ধব হবে? প্রশাসনের এ উত্তর অবশ্য ঘোষণা হয়নি। যেহেতু এটি আমলা তান্ত্রিক ব্যাপার সেহেতু প্রশাসনের কোন নিন্মতম কর্মচারীর এখতিয়ারও নেই এর উত্তর দেয়ার।
নাগরিকরা আইন মানবে দেশের স্বার্থে সমাজের স্বার্থে।প্রশাসনের দ্বায়িত্ব নাগরিক স্বার্থ বজায় রেখে আইন প্রনয়ন করা।এবং তা হওয়া বাঞ্ছনীয় যথাযথ গণসচেতনতা তৈরীর পরেই ।নচেৎ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েও নাগরিকের মনে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে বলে অনেকেরই অভিমত।তিলোত্তমা নগর গড়ে ওঠুক এটা দেশের সু-নাগরিক হিসেবে সবার মত আমিও প্রত্যাশা করি।একইভাবে প্রত্যাশা করি রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করার জন্য ভাল প্রশাসন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




