
প্রিয় ব্লগবাসী,
আসসালামু আলাইকুম। অনেক দিন পর ব্লগে লিখতে বসলাম। আসলে যান্ত্রিক ব্যস্ততায় মনের ভাবগুলো ব্লগের পাতায় বন্দী করা হয়ে ওঠে না। আজ হঠাৎ করেই মনে হলো, নিজের কিছু অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি আর সংগ্রামের গল্প আপনাদের সাথে ভাগ করে নিই।
আমি মূলত আমার অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ ‘প্রিয় বরিশাল’ নিয়ে পুরোদমে কাজ করছি। আমাদের কনটেন্টগুলো মূলত সংবাদভিত্তিক (নিউজ কনটেন্ট)। আজ সেই পেইজের পেছনকার কিছু খণ্ড খণ্ড গল্প আপনাদের শোনাব।
---
### শুরুটা হয়েছিল ২০২৩ সালে...
২০২৩ সালের দিকে আমি যখন পেইজে ভিডিও কনটেন্ট পাবলিশ করা শুরু করলাম, তখন প্রতিদিন ব্যাপক ভিউ আসত। একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটায় ভিডিও আপলোড দিতাম। তখন ভিডিও এডিটিং আর আপলোডের জন্য আমার ছোট বোনের ল্যাপটপটা ব্যবহার করতাম। ভিডিওগুলো ৩ মিনিটের হলেও সাইজ অনেক বড় হতো, যা মোবাইল দিয়ে আপলোড করা অসম্ভব ছিল। এমনকি কাজ আরও দ্রুত করার জন্য আমি ল্যাপটপটার কনফিগারেশনও নিজের টাকা দিয়ে বাড়িয়ে নিয়েছিলাম।
কিন্তু হঠাৎ করেই বোন ওর ল্যাপটপটা নিয়ে যায়। ল্যাপটপটা চলে যাওয়ায় মনের ভেতর কেমন যেন একটা অভিমান দানা বাঁধে। সেই অভিমান থেকেই জেদ করে ভিডিও আপলোড দেওয়া একদম বন্ধ করে দিই।
---
### ফটোকার্ডের নতুন জোয়ার (২০২৫-২০২৬)
দীর্ঘ বিরতির পর, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আবার সক্রিয় হই। এবার ভিডিওর বদলে শুরু করি ‘ফটোকার্ড’ বা ছবির কনটেন্ট দেওয়া। শুরুতে তেমন একটা সাড়া বা ভিউ না পেলেও, আস্তে আস্তে রিচ বাড়তে শুরু করে। এখন ফটোকার্ডগুলোতে ব্যাপক রিচ হচ্ছে।
এদিকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ায় গত জুন মাসে আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালো ডলার ইনকাম করেছি। কিন্তু এই চলতি মাসে এসে দেখছি রিচ কিছুটা কমে গেছে।
---
### বর্তমানের সংগ্রাম ও মেটা অ্যালগরিদমের গোলকধাঁধা
আজ প্রায় সাত-আট দিন ধরে আমি আবার ২০২৩ সালের মতো নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট দিচ্ছি। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, আগের মতো রেসপন্স বা ভিউ পাচ্ছি না! অথচ আগের চেয়ে আমার ভিডিওর ভয়েস ওভার এখন অনেক বেশি স্পষ্ট এবং সুন্দর হচ্ছে। হ্যাঁ, ভিডিও বা ছবির রেজুলেশন হয়তো কিছুটা কম, কিন্তু কন্টেন্টের মান অনেক ভালো। তবুও কেন যেন ভিডিওতে সাড়া পাচ্ছি না, যেখানে ফটোকার্ডে অনেক বেশি সাড়া মিলছে।
আপনারা যারা এই লাইনে কাজ করেন তারা জানেন, একটা ভালো ভিডিও বানাতে কতটা সময় আর শ্রম লাগে! ভয়েস ওভার দেওয়া, ফুটেজ রেডি করা, এডিটিং করা—সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ। আবার ফটোকার্ড বানাতেও কম কষ্ট নেই, ছবি ডিজাইন করা আর আকর্ষণীয় ক্যাপশন লেখার পেছনেও ভালোই সময় দিতে হয়।
সংবাদভিত্তিক পেইজ হওয়ায় প্রতিনিয়ত আপডেটেড থাকতে হয়। এখন আমার দিন-রাতের হিসাব উল্টে গেছে। রাত জেগে কনটেন্ট তৈরি করি, দিনের বেলা জেগে থাকতে হয় আর একটু বিশ্রামের জন্য বেছে নিতে হয় বিকেল বেলাকে। কষ্ট হচ্ছে প্রচুর, কিন্তু কাজের প্রতি ভালোবাসাটুকু রয়ে গেছে আগের মতোই।
---
### আমার ২১ দিনের অবচেতন মনের চ্যালেঞ্জ
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ২১ দিন আমি ভিডিও এবং ছবির কনটেন্ট দুটোর ওপরই আমার সর্বোচ্চ সময় ও শ্রম দেব। মনস্তত্ত্বে একটা কথা প্রচলিত আছে—মানুষ যদি অবচেতন মনে কোনো কাজ টানা ২১ দিন নিষ্ঠার সাথে করে, তবে সেখানে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সেটি অভ্যাসে পরিণত হয়।
আমি বিশ্বাস করি, আমার এই ২১ দিনের চ্যালেঞ্জ আর সততা আমাকে আবার সফলতার চূড়ায় নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
---
ব্লগে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ আছেন। হয়তো আমার এই সংগ্রামের গল্প বা মনের কথাগুলো কারো কাছে খুব তুচ্ছ বা সস্তা মনে হতে পারে। যদি ভুল কিছু বলে থাকি, তবে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আসলে কেবল নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো প্রকাশের একটা মাধ্যম হিসেবেই আজকের এই পোস্ট।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার ‘প্রিয় বরিশাল’-এর জন্য দোয়া রাখবেন।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


