
খবরের কাগজ খুললেই বা অনলাইনে চোখ রাখলেই আজকাল একটা শিরোনাম চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে— মা ইলিশ রক্ষা অভিযান। বছরের এই সময়টা এলেই উপকূলের নদীগুলোতে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। জালের বান্ডিল ঠিক করা কিংবা নৌকা রঙ করার চঞ্চলতা হারিয়ে চারপাশ কেমন যেন থমথমে হয়ে যায়।
মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তা তো দেশের স্বার্থেই। এই নিয়ে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার হিসাবটা যখন মেলাতে যাই, তখনই কিছু কঠিন প্রশ্ন মনের ভেতর ভিড় করে।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আজ প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার জেলে কর্মহীন। ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া তীর থেকে শুরু করে পটুয়াখালী বা বরগুনার নদী পাড়ের মানুষগুলোর দিন কাটছে এক চরম অনিশ্চয়তায়। নিয়ম অনুযায়ী জেলেদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণের কথা থাকলেও, মাঠের বাস্তবতা বড় করুণ। অনেক এলাকাতেই এখনো চালের মুখ দেখেনি অসহায় পরিবারগুলো।
একজন জেলে যখন বলেন, "তিন দিন ধরে মাছ ধরা বন্ধ, পেটে চাল নাই, খামু কী?"— তখন বিবেক নড়ে ওঠে। শুধু কি চাল দিলেই সংসার চলে? সাথে একটু তেল, একটু নুন আর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রয়োজন হয় না? চার-পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে একজন মানুষ এই দিনগুলো কীভাবে পার করবেন? মাথার ওপর কিস্তির চাপ তো আছেই। পেটে ক্ষুধা থাকলে আইনের কড়াকড়ি দিয়ে তো আর পেট ভরে না।
প্রশাসন তাদের জায়গায় শতভাগ কঠোর। মৎস্য বিভাগও বলছে বরাদ্দ বিতরণের কথা। কিন্তু মাঠের চিত্র আর খাতার হিসাবের এই ফারাক কেন ঘুচবে না? মাছ তো বাঁচবে, কিন্তু সেই মাছ ধরার মানুষগুলো যদি অনাহারে দিন কাটায়, তবে সেই সুরক্ষার মানে কোথায়? এই সরল প্রশ্নটার উত্তর কি কেউ কখনো খুঁজবেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



