somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণিতের পাগলা-জিনিয়াস

১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ভদ্্রলোকের নাম গ্রিগরি পেরেলম্যান। তুখোড় এক রুশ গণিতবিদ। ধারনা করা হচছে যে গণিতশাস্ত্রের সবচেয়ে পুরাতন ও জটিল সমস্যার তিনি সমাধান করে ফেলেছেন। পোয়াঁকারের তত্ব শতবর্ষ পুরানো। গণিতের সাতটি বড় ধাঁধার অন্যতম, যার সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক গণিত ইন্সটিটিউট 1 মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার ঘোষনা করে রেখেছে।

সমস্যা হচ্ছে যে ভদ্্রলোক নিজেই গায়েব।এবং তার পুরনো হিস্টরি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এই পুরষ্কারে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

টাকাটাও বড় কথা না। অংকশাস্ত্রে কোন নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় না। তার বদলে রয়েছে একটি পদক - ফিলডস পদক - যাকে গণিতের জগতে নোবেলেরই সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। তাও বছর বছর দেওয়া হয় না - প্রতি চার বছরে একবার মাত্র। সামনের সপ্তাহে মাদ্্রিদ শহরে এবারের পদক বিজয়ীর নাম ঘোষনা করা হবে। বলা হচ্ছে পেরেলম্যান অবলীলায় জিতে যাবেন। কিন্তু এই গণিত নোবেলেও তার কোন মাথা ব্যথা নেই। তিনি কোথায় আছেন এই মুহুর্তে সেটাই কেউ জানেনা। তাকে ই-মেইল করলে কোন জবাব মেলে না।

*

বিচিত্র তার কাহিনী। চল্লিশ বছর আগে রাশিয়াতে জন্ম । সেখানেই পড়াশোনা, সেইন্ট পিটার্সবার্গ শহরে । 16 বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ম্যাথ অলিম্পিয়াড শিরোপা জেতেন পার্ফেক্ট স্কোর নিয়ে! সেইন্ট পিটার্সবার্গ থেকে পিএইচডি লাভ করে চলে যান আমেরিকাতে শিক্ষকতা করতে। কিন্তু সেখানেও থাকেননি। রাশিয়াতে ফিরে যান নব্বইয়ের দশকে। তার সহকর্মিরা বলেন - তাকে এ দুনিয়ার মানুষ বলে মনে হতো না। লম্বা চুল, লম্বা নখ, ঠিক রাসপুটিনের মতো।একদমই একান্তচারী। সময় কাটাতে চলে যেতেন বনে বাঁদাড়ে। ব্যাংের ছাতা কুড়াবেন বলে।

*

2002 সালে তিনি হঠাৎ ইন্টারনেটের এক অংক বিষয়ক ওয়েবসাইটে ঘোষনা দেন যে তিনি পোয়াঁকারের তত্ব সমাধান করে ফেলেছেন।এবং গুটি কয়েক পেপার ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। তারপর আমেরিকায় একটা ছোট সফর দেন তার সমাধানটি নিয়ে আলাপ করার জন্য।

ব্যাস এতটুকুই। এতই সংক্ষিপ্ত তার সমাধান যে তা ঠিক আছে কিনা, সেটা প্রমান করতে গিয়ে অন্যান্য গণিতবিদরা হাজার হাজার পাতার পেপার বের করে ফেলেছেন।

কিন্তু কোন ভুল পাননি। সবাই আসতে আসতে মেনে নিচ্ছেন পেরেলম্যানের অর্জন। তাকে সম্মান জানাতে পুরো গণিত সমাজ ব্যাকুল।

কিন্তু তিনি নেই। সেইন্ট পিটার্সবার্গের স্টেকলোভ গণিত ইন্সটিটিউট, যেখানে গত কয়েক বছর গবেষনা ও অধ্যাপনা করেছেন, সেখানের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। সেখানকার ই-মেইল যায় না। তার ব্যক্তিগত ই-মেইলও অকেজো। ধারনা করা হচ্ছে যে তিনি মনুষ্য সমাজ ছেড়ে হয়তো দুরে কোথাও চলে গেছেন।

আজব এই লোকের পরিচয় পাওয়া যায় ছোট্ট এক ঘটনা থেকে। কয়েক বছর আগে ইউরোপের এক বড় ম্যাথ পুরষ্কার তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেটা প্রত্যা খ্যান করেন। তার কারন? তিনি বলেন যে, আমার কাজ আসলেই বোঝার ক্ষমতা এই পুরষ্কার কমিটির হয়নি!!!

*

ঘটনাটি পড়ে আমার দাবা জিনিয়াস ববি ফিশারের কথা মনে পড়লো। যাই হোক, গণিতের জিনিয়াস-পাগলা গ্রিগরি পেরেলম্যানকে নিয়ে আরো জানতে চাইলে এখানে পাবেন -

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:৫৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×