somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই দেলোয়ার সেই দেলোয়ার নহে ( এই দেইল্লা সেই দেইল্লা নহে )

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধ অপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জামাতীরা নিরাপরাধ বলে দাবি করছে এবং তারা এও দাবি করেছে -- তাকে নাকি প্রহসনমূলক বিচারে শাস্তি দেওয়া হয়েছে ।
এবার দেখা যাক প্রহসনমূলক মামলার ধরনটা কেমন হয় । যেহেতু মামলাটি মিথ্যা মামলা তাই মামলাকারিরা কতক গুলো পন্থা অবলম্বন করে । যেমন সাক্ষী রাখে ১ জন কি ২ জন এবং মামলা করে একটি । ঐ একজন বা দুজনকে ভালো ভাবে ট্রেন আপ করা হয় যাতে আদালতে বক্তব্যের সামজস্য থাকে এবং অপর পক্ষের উকিলের ক্রস জবানন্দিতে যেন ধরা খেতে না হয় । যেমন জর্জ মিয়ার কেস , ঐ একজনকে ধরে মগজ ধোলাই করে মামলা সাজানোর পায়তারা চলছিল । ঐ মামলার সাক্ষী একমাত্র জর্জ মিয়া ।
এবার আসা যাক দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে কয়টা মামলা ছিল ? ২২ টা এবং সাক্ষী কয়জন ছিল ৬০ এর কাছাকাছি । সাজানো মিথ্যা মামলা হলে কি এত গুলো মামলা হয় এবং এত গুলো সাক্ষী কি হয় এবং এত গুলো মানুষকে নিবিড় ট্রনিং দিয়েও কি জর্জ মিয়া বানানো যায় ?
তার মানি এই মামলা ছিল জেনুইন মামলা ।
১৯৭১ সালে যেই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে , তাকে ঐ এলাকার লোকজন দেইল্লা রাজাকার বলে ঢাকতো - তার পুরো নাম ছিল দেলোয়ার হোসেন সিকদার ।
জামাতিরা দাবি করে এই বিচার নাকি প্রহসন মূলক বিচার কিন্তু জামাতি আইণজীবিরা তো মেনে নিয়েছে দেইল্লা রাজাকার অরফে দেলোয়ার হোসেন সিকদার ঐ ২২ টা অপরাধ করেছে । তাহোলে দেলোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে ২২ টা মামলা কি করে মিথ্যা হয় , যখন জামাতীরা পর্যন্ত স্বীকার করেছে যে দেলোয়ার সিকদার একজন যুদ্ধ অপরাধি ।
জামাতী আইণজীবিরা বার বার প্রমাণ করতে চেয়েছে এই দেলোয়ার সেই দেলোয়ার নহে । দেলোয়ার হোসেন সিকদার আর দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এক লোক নহে ।
ঐ এলাকার লোকজন তো জানে ১৯৭১ এর দেইল্লা রাজাকার অরফে দেলোয়ার হোসেন সিকদার হোল বর্তমানের নাম পাল্টানো দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ।
জামাতীরা এই দেলোয়ার সেই দেলোয়ার নহে --- এই দাবি কোন ভাবে প্রমাণ করতে পারে নি কারন এলাকার মানুষরের চাক্ষুস সাক্ষী ।
জামাতীরা একমত দেলোয়ার হোসেন সিকদার যুদ্ধ অপরাধ করেছে, তাহোলে নাম পাল্টিয়ে ফেললে কি তার অপরাধ বাতিল হয়ে যাবে এবং তার বিচার কি প্রহসন মূলক হয়ে যাবে ?

আমি এখানে প্রসিকিউসনের আইণজীবি ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজের বক্তব্য পেশ করছি --

এখন তাহলে মূল প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কি দণ্ড নিরূপিত হয়েছিল? অবশ্যই ফাঁসি এবং এই রায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সমতুল্য তিনজন বিজ্ঞ বিচারক প্রদান করেছেন। তাহলে নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সেই ১০ জন প্রসিকিউটররা যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার শুনানিতে সব সন্দেহের ঊর্ধ্বে উঠে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অপরাধ প্রমাণ করতে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাহলে প্রসিকিউশনের ব্যর্থতার প্রশ্ন আসছে কেন? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম তো তাদের সুনির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব পালনে শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে। এখন যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলে কেন তার ‘মৃত্যুদণ্ড’ টিকেনি সেটা অন্য বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এর বিশ্লেষণ নিশ্চয়ই আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আমার বা আমাদের চাইতে বেশি ভালোভাবে করতে পারবে। আমরা সব কিছুরই নির্মোহ বিশ্লেষণের আশা রাখি। কিন্তু কোনো কিছু না জেনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম বা একজন ব্যক্তি-প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কি যুক্তি সংঙ্গত?

সবশেষে বলতে চাই, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা নিয়ে চক্রান্ত বহু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী উধাও, স্কাইপি কেলেঙ্কারি ইত্যাদি, ইত্যাদি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের অকারণ অযাচিত, নেতিবাচক প্রচারণা। আমাদের সবই মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে ঘরের ভেতরের শত্রুকেও দমণ করতে হয়েছে আমাদের। যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার তদন্তকালে যখন মামলার জোগাড়কৃত সকল গোপনীয় দলিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে কর্পূরের মতো উধাও হয়ে যায় তখন আমরা নিজেরাও কি ভীত হইনি? সাঈদীর এক অতি কাছের আত্মীয় যখন তদন্ত সংস্থায় সাঈদীর মামলার তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয় আর এই কাজটি করে, তখন আসলে প্রশ্নটা অনেক বড় এবং ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায় বৈকি। আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠে। কিন্তু তারপরও কি সেই বিতর্কিত নিয়োগের দায়িত্ব আজ পর্যন্ত কেউ নিয়েছে? কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কি আজ পর্যন্ত হয়েছে? আমরা ন্যায়ের পক্ষে গণ-আওয়াজ তুলতে ভালোবাসি, ছুতো পেলেই অন্যকে অভিযুক্ত করতে অসাধারণভাবে পারদর্শী হয়ে উঠি, কিন্তু প্রকৃত সমস্যা সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এত দীর্ঘসূত্রিতা কেন করি? আমরা কি সত্যকে মোকাবিলা করতে ভয় পাই? নাকি মিথ্যার বেসাতিতে আত্মতৃপ্তির বিলাসিতায় নতুন ভোরের অলীক স্বপ্ন দেখি?

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×