somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনের কিছু ভাবনা

১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম ভাবনা:
***
সমাজের মানুষ ধনী লোকদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেয় তাদেরকে সম্মান প্রদর্শণের মাধ্যমে।
.
আর গরীব লোকদের কাছ থেকে কিভাবে কাজ আদায় করে?
.
সমাজের মানুষ গরীব লোকদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেয় তাদেরকে অসম্মান প্রদর্শণ, বা, অপমানিত করার মাধ্যমে।
.
যেমনঃ ধরুন, রহিম খুব ধনী একজন মানুষ। কোটি কোটি টাকা সম্পদ তাঁর। গরীব একজন মানুষের টাকার দরকার। সে রহিমের কাছে গিয়ে তার চরিত্রের খুব প্রশংসা করল। এবং, রহিম-ও খুশি হয়ে তাকে হাজার খানেক টাকা দিয়ে দিল।
.
এবার, গরীব লোকের উদাহরণ দিই। করিম নামের একজনের কথা কল্পনা করা যাক।
করিম খুব গরীব একজন মানুষ। তবে, সে যদিও গরীব, তারপরেও সমাজকে তার কিছু জিনিস দেয়ার আছে। সমাজেরও তার কাছ থেকে কিছু জিনিস নেয়ার আছে। সমাজ তার কাছ থেকে কি চায়? সমাজ চায়, সে যেন কামলা খাটে।
তো, এই জন্য সমাজের লোকেরা কী করবে?
সমাজের লোকেরা তাকে অপমান করার মাধ্যমে তাকে কামলা খাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে।
সমাজের কোন একজন লোক... ধরুন, তার নাম হচ্ছে মাহিন, সে করিমের কাছে গিয়ে বলবে, "তোর দিন ক্যামনে কাটে? তুই তো কোনো কাজ-কাম করস না।" মাহিন এরপরে করিমকে কয়েকটা কুৎসিত গালি দেবে। এসব অপমান জনক কথা শুনার পরে করিমের মন ছোট হয়ে যাবে। করিম ভাববে, এই অপমান সহ্য করা যায় না। তাকে অবশ্যই "সম্মান" অর্জন করতে হবে। তো, সে সম্মান অর্জন করবে কিভাবে? তাকে তো একটা পথ দেখিয়েই দেয়া হয়েছে। কামলা খাটা। হীনমন্যতাবোধে ভুগতে থাকা করিম এবার কামলা খাটার কাজ-এর খোঁজ করবে। এবং, করিম এরপরে কী করবে? করিম এবার কামলা খাটা শুরু করবে।
.
সমাজের লোকেরা এভাবেই আরেকজন লোকের কাছ থেকে কাজ/টাকা আদায় করে নিচ্ছে।
*******
গল্প/উপন্যাস অনুবাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে কয়েকটা পরামর্শ দেই।
১] সরাসরি কম্পিউটারে টাইপ করে অনুবাদ করবেন না। কারণ, গল্প/উপন্যাস অনুবাদের কাজ সরাসরি কম্পিউটারে টাইপ করে করলে মাথাটা ঠিক খেলে না। তাহলে কিভাবে করবেন? খাতা-কলম নিয়ে বসে যান।
২] হাতের কাছে একটা ডিকশনারি রাখেন। সেটা ডিকশনারি সফটওয়্যার হতে পারে। আবার হার্ড কপির ডিকশনারিও হতে পারে।
৩] গল্পের যেই বাক্যটি অনুবাদ করবেন, সেই বাক্যটি তিন বার পড়ুন। তিন বার পড়লে বাক্যটা আপনার আত্মস্থ হবে। বাক্যের যেই যেই ওয়ার্ডগুলো "অচেনা" লাগছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন। হাতের কাছে রাখা ডিকশনারিতে সার্চ দিন। সার্চ দিলে অচেনা শব্দের মানে জেনে যাবেন। অচেনা শব্দের মানে জেনে গেলে এবার বাক্যের অনুবাদ করা কোনো বিষয়ই না। আর এই সিস্টেমে একটা বাক্য অনুবাদ করতে পারলে, পুরো উপন্যাসই আপনি অনুবাদ করে ফেলতে পারবেন।
********
মধ্য বাড্ডা, আদর্শ নগর এলাকার মানুষগুলা বড্ড ভালো। রাস্তায় বের হলেই তারা আমার কানে নানান সুন্দর-সুন্দর "বাণী" বর্ষণ করেন।
তাদের ওই সব সুন্দর-সুন্দর "বাণী" শুনে আমি বুকে বল পাই। আহা! দুনিয়ায় এখনও ভালো মানুষ আছে?
********

সমাজে বৈচিত্র্য কেন দরকার?
.
যেই এলাকার মানুষের মধ্যে যত বেশি বৈচিত্র্য,
সেই এলাকা তত বেশি ভালো।
এই বৈচিত্র্য ধর্মের দিক দিয়ে হতে পারে,
ভৌগোলিক হতে পারে, আবার গায়ের রং দিয়েও হতে পারে।
.
কোনো এলাকায় যদি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একত্রে মিলেমিশে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে,
তাহলে ধরে নিতে হবে, ওই এলাকার মানুষ বেশ সহনশীল। তারা অন্য ধর্মের মানুষকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও তারা অন্য মানুষটিকে ছোট করে দেখে না।
.
তো, আমি থাকি মধ্য বাড্ডা এলাকায়। এই এলাকার মানুষ হচ্ছে সব মুসলমান। এখানে অন্য ধর্মের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। পথ চলতে গেলে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ... কিচ্ছু দেখতে পাওয়া যায় না। আমার মনে হয়, এই কারণেই এই এলাকার মানুষগুলা মন ছোট।
.
খিলগাঁও রেলগেট থেকে এক কিলোমিটার দূরে বৌদ্ধমন্দির এলাকা আছে। ওই এলাকাটা বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। ওই এলাকায় হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান মিলেমিশে বসবাস করে। আমার কাছে ওই এলাকাটাকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হয়। বাড্ডা এলাকাটা একেবারেই বর্বর একটা এলাকা। এখানকার মানুষগুলার কথা আর কী বলব? যাক, এই এলাকাতেই থাকি। গালাগালি না করি। গালাগালি করলে এদের সাথে আমার আর কী পার্থক্য থাকল?
*****
ম্যাটেরিয়ালিস্টিক মানুষ খালি ম্যাটেরিয়ালের পেছনে ছোটে।
আমি তো মানুষ হিসেবে ম্যাটেরিয়ালিস্টিক না। জীবনে ম্যাটেরিয়াল এর দরকার আছে। সেটা মানি। কিন্তু জীবনটা যে ম্যাটেরিয়ালময় করার কোনো দরকার নেই, সেটাও আমি মানি। ম্যাটেরিয়াল জীবনে থাকবে, তবে সেটা অপটিমাম পরিমাণে। ঠিক যতটুকু দরকার।
********
আমার যা মনে হয়,
অন্যকে সাহায্য করলে পরোক্ষভাবে নিজেকেই সাহায্য করা হয়।
ভাইস-ভার্সা...
অন্যের সাথে শত্রুতা করলে পরোক্ষভাবে নিজের সাথেই শত্রুতা করা হয়। এতে ক্ষতিটা নিজেরই। কেন শুধু শুধু নিজের ক্ষতি করবেন?
অন্যকে সাহায্য করুন। এতে আখেরে নিজেরই ভালো হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×