somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহবুবুল আজাদ
কেমন জানি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী,ভালবাসি বই পড়তে,তার চেয়েও বেশি ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে,আর কবিতা সে তো টানে আমায় অদৃশ্য সূতোয়।ঘুরেছি পৃথিবীর বহু দেশ, তবুও মন ভরেনি, আবার ও বের হব কোন একদিন পৃথিবীর পথে প্রান্তরে, আর হব আমার লেখা লেখির ফেরিওয়ালা।

যে পথ গিয়েছে মায়ের ঠিকানায়, যে পথ গিয়েছে বন্ধুর আড্ডায়, সে পথ হোক নিরাপদ

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কয়েকদিন আগে গুরুতর অসুস্থ ছোট ভাইকে সিলেট নিয়ে যাচ্ছি এম্ব্যুলেন্সে করে, আমার জীবনে এটা দ্বিতীয় বার এম্ব্যুলেন্সে উঠা। এর আগে উঠেছিলাম প্রায় ১২ বছর আগে মামীর জন্য, যিনি আমার আরেক মা, এপ্যোলো হসপিটালে মামীর অপারেশনের পরে একবার অবস্থা চরম মাত্রায় খারাপ হয়ে গিয়েছিল তখন সে এম্ব্যুলেন্সে আমি ও ছিলাম। কতটা আতঙ্কের হতে পারে সময়টা তা যাদের অভিজ্ঞতা আছে বুঝতে পারেন। যাই হোক এর পর মামী আল্লাহর রহমতে সহি সালামতে এখনো সুস্থ আছেন।

সকাল থেকেই আমার ভেতরে উৎকণ্ঠা যেভাবেই হোক আমি এম্ব্যুলেন্সে যাবনা, মামা আর আমার খালাত ভাইকে দিয়ে পাঠিয়ে দেব আর আমি বাসে করে যাব। এম্ব্যুলেন্সে আমার বিরাট ভয়। মনে মনে এই পরিকল্পনাই করতেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তা হয়নি, আমি সেই এম্ব্যুলেন্সেই যাচ্ছি, অগোছালো ভাবে যাত্রা। বাসা থেকে পানি ও নিইনি, গাড়ি ছাড়ার একটু পরে মামা বলল পানি নেয়া দরকার, তাই এক জায়গায় দোকান দেখে থামাতে বললাম, এক বোতল পানি নিয়ে পাঁচশ টাকা ভাংতি দিল দোকানদার, আবার জিজ্ঞেস ও করল রোগীর কি অবস্থা, যাই হোক পানি নিয়ে এম্ব্যুলেন্সে উঠতে যাব দেখি এক খোঁড়া ভিক্ষুক দাঁড়িয়ে আছে পাশে, আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করল, অনেক অসুস্থ কি? বললাম হ্যা, ভাবলাম ভিক্ষা চাইবে, কিন্তু না সে আমকে অবাক করে দিয়ে বলল, দোয়া করি যেন সুস্থ হয়ে যায় বলে সে ক্রাচ দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলে গেল।
ভাল লাগল এই আন্তরিক নিঃস্বার্থ মমত্ববোধ।

রাস্তার অন্যান্য যানবাহন যে যেভাবে পারে সাইড দিল। আমরা তখন নবীগঞ্জের রাস্তায় এদিক সেদিক গাড়ি, একটা কলেজের ছাত্র সামনে দাঁড়িয়ে গেল কিছু গাড়ি থামিয়ে কিছু পাস করে আমাদের রাস্তা করে দিল, হাতের ইশারায় যেতে বলল, তারপর আর পেছন ফিরে তাকালো না।
ভাল লাগল মানব সেবার এই মানসিকতা।

এই পথ জুড়ে কত মায়া মানবিকতা আর ভালবাসা এতচ এ পথেই প্রাণ যায় বেঘোরে, আরও সচেতনতা দরকার আমাদের, জীবন অনেক মূল্যবান।
আমাদের গাড়ি মোটামুটি গতিতে চলছে, ড্রাইভার কিছুটা সচেতন, তবে ফোন আসলেই কিছুটা সচেতনতার অভাব দেখা দিচ্ছে সেটা প্রকট না হলেও এমন টা করা উচিত না, একটু পর পর তার কল আসছে সবই হাসপাতাল রোগী সম্পর্কিত। কল আসতেই রিসিভ করেনা, রাস্তা একটু ফাঁকা দেখে তখন রিসিভ করে, যাই হোক দুর্ঘটনা বেশি সময় নিয়ে আসেনা, কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র, বেশি জরুরী হলে একটা হেডফোন ব্যবহার করলেই হয়, কিছুটা হলেও রক্ষা হবে, একহাতে তো আর ড্রাইভিং করা লাগবেনা, কয় টাকাই বা লাগে একটা হেডফোন কিনতে। নয়তো দেখা যাবে সেও কোন একদিন এম্ব্যুলেন্সের শায়িত যাত্রি।

সামনে দিয়ে একটা বাইক যাচ্ছে, চালক পড়ন্ত বয়সী এক মুরুব্বী। লুঙ্গি পরে বাইক চালাচ্ছেন, ভাল কথা, উনি ঘাড় বাকা করে চালাচ্ছেন কারন ফোনে কথা বলছেন। পিচ রাস্তা ছেড়ে ঘাসের মোলায়েম রাস্তায় নেমেছেন দু একবার ছাগলের সংসার ধ্বংস করতে করতে করেন নি ছাগলগুলো ম্যাহম্যাহ করতে করতে দৌড়। কতটা জরুরী এসব কল রিসিভ করা। সময় কম হিসেব করে আমরা জীবনের আগামী সময় নষ্ট করে দিচ্ছি তা টেরই পাইনা।
যে পথ গিয়েছে জীবিকার সন্ধানে, যে পথ গিয়েছে মায়ের ঠিকানায়, যে পথ গিয়েছে বন্ধুর আড্ডায়, যে পথ গিয়েছে সন্তানের হাসি মাখা মুখে, সে পথ হোক আনন্দের সে পথ হোক নিরাপদের।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আড্ডাঘরের বর্ণনা

লিখেছেন আনমোনা, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

সামু ব্লগে ছিলো এক সামুর পাগল
সারাদিন করে সে যে মহা হট্টোগোল। ।
খুলিলো আড্ডাবাড়ি আড্ডারি তরে।
জুটিলো পাগল দল তাড়াতাড়ি করে। ।
সরদার হেনাভাই, তার এক হবি।
প্রতিদিন আপলোডে মজাদার ছবি। ।
সকল পাগলে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×