somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চৌধুরী জাফর উল্লাহ শরাফত এ লিজেন্ড

১৮ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা দুই ভাই সুমন এবং শরীফ ৷ তখন আমাদের শোভাকলোণীতে দুই একটা টিভি ছিলো তখন বাংলাদেশের খেলা নিয়ে আমরা আরো বেশী সিরিয়াস ছিলাম !
.
আমাদের লজিং স্যার ছিলো,
.
রাতে খেলা দেখার জন্য সুমনকে পাঠাতাম ! সে পস্রাব করার নাম করে হুমায়ুনদের বাসা থেকে এক ওভার দেখে এসে স্কোর রান রেট আস্তে আস্তে কৌশলে বলতো !
.
তারপর আমার পস্রাব ধরতো আমি গিয়ে দেখি দশ ওভার শেষ এবং কি দেখে এসেছি তার ধারাভাষ্য কাগজে লিখে তাকে দিতাম !
.
স্যার ও কিছুক্ষণ পর পর বের হয়ে বন্ধু প্রতীম বড় ভাইয়ের বাসা থেকে স্কোর দেখে আসতো
.
খেলা শেষ পর্যায়ে স্যারকে বলতাম স্যার বাথরুমে যাবো ! অথচ গিয়ে খেলা দেখছি তারপর একটু পর দেখি সুমনও চলে আসছে খেলা দেখতে ! বললাম স্যার কই ? বললো, স্যারও বের হয়েছে ঘুরতে সেই সুযোগে সুমনও খেলা দেখার জন্য দৌড় !
.
স্বপ্ন ছিলো একদিন বড় হবো আরামছে বসে বাংলাদেশের খেলা দেখবো ! আকরাম খান আরো বেশী ছক্কা মারা শিখবে আমার ও পেট বাড়বে আর পেটের উপর হাত বুলিয়ে আরামছে ছক্কা উপভোগ করবো ! একটা মানুষ এতো স্মার্ট আর কিউট কেমনে!
.
সত্যি আমি বড় হয়েছি কিন্তু সেই আকরাম, রফিক, দুর্জয়, বাশার নেই ! তাদের ব্যর্থতার স্বপ্নগুলোকে বুকে ধারণ করে একদিন পৃথিবীর পাছায় থাপ্পড় মেরে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হয়ে উঠলো সাকিব আল হাসান !
.
সাকিব যা করুক না কেনো ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু তাকে গালি দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই ! সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরফির হাত ধরে নাতী মোস্তাফিজসহ অনেকে আজ আমাদের আবেগের পতাকাটি ক্রিকেট মাঠে অনন্য উচ্চতায় গেঁথে দিয়েছে ! আমরাও পারি ! বাংলাদেশ পারে !
.
সেদিন কি ভাবতে পেরেছিলাম লাঠির মতো লিকলিকে কালো একটি ছেলে মোস্তাফিজ পুরো ভারতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিবে একদিন !!
.
দিনের পর দিন খেলা শেষে মন খারাপ হতো ! ওভার প্রতি বিশ রান লাগলেও মনে হতো আজকে জিতবোই ! ক্রিজে রফিক ভাই আছে এখনো কিন্তু একটু পর রফিক ভাইয়ের প্যাভিলিয়নে ফিরে আসা দেখা যেনো বুকের ভিতর শূল বিঁধার মতো অনুভূতি !
.
তারপর চোখ জলে টলমল করছে ! মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে ! চৌধুরী জাফর উল্লাহ শরাফত আবেগে বলে ফেলেছে,
'মেঘমুক্ত মাঠ, কর্দমাক্ত
আকাশ, মাঠ চলে গেল বলের বাইরে।
দুঃখিত দর্শকমন্ডলি, আমি একটু
আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম,
বল চলে গেল সীমানার বাইরে।'
.
মাঠে ছিলো ওরা এগারো জন আর বাহিরে ছিলাম আমরা পুরো দেশ তার সাথে আরো একজন আমাদের হয়ে খেলতো সে চৌধুরী জাফর উল্লাহ শরীফ..ত ও সরি শরাফত !
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×