আমি কিচ্ছু পারিনা দোস্ত বলে আক্ষেপ করা ছেলেটি 'মিথ্যে বলা মহাপাপ' টাইপ ভাবসম্প্রসারণে যখন দশে দশ নম্বর পেয়ে উল্লাস করে তখন 'বন্ধুত্বের প্রতিদান' বানিয়ে লিখে দশে দুই পাওয়া ছেলেটি বন্ধুকে খাতা না দেখালে অন্তত চার নম্বর পেতো!
.
গল্পগুলো জীবন থেকে দেখা!
.
এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের সেই ছেলেটাকে হিরো মনে হয় যে ছেলেটা একটা প্রশ্নের উত্তর না করে পাশের বন্ধুকে ফেইল থেকে রক্ষা করেছিলো!
.
কানের মাঝে এখনো বেজে উঠে, দোস্ত তুই না থাকলে নিশ্চিত ফেইল করতাম!
.
ঠিক সে সময়ে প্রথম সারির কোন বন্ধু আটানব্বই আনসার করে বাকী দুই মার্কস উত্তর না করার অক্ষেপ নিয়ে বাড়ি ফিরে!
.
মনে পড়ে তেত্রিশ পাওয়ার আনন্দে লাফ দিয়ে আকাশ মাহাকাশ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া সেখানে দেখি কে জেনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে! তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কাঁদছে কেনো? সে বললো, একশতে সাতানব্বই পেয়েছি! তিন মার্কসের শোকে....!
.
সারা জীবন দেখেছি প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয়ের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে! আর আমার একত্রিশ বত্রিশ তেত্রিশের মধ্যে.....!
.
শ্রদ্ধা সহকারে স্মরণ করছি পরম প্রিয় শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের যারা সারা জীবন আমাকে দুই দিন নম্বর গ্রেস দিয়ে পাশ করিয়ে বলতো দুই নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে পাশ করিয়ে দিলাম নেক্সট থেকে ভালো করে পড়ালেখা করবি!
.
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আমরা জ্যামিতিও বানিয়ে লিখতাম!
.
গরু ঘাস খাচ্ছে! লেজ দিয়ে মাছি মারছে! এই মাত্র রাখাল বালক গরুটিকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে! ধুত্তরি শালার রাখাল! তোর কারণে গরু রচনা শেষ করতে পারলাম না! ইয়াহু আরেক লাইন মনে পড়েছে গরু গোবর দেয়! গোবর লাঠিতে মেখে খাঁটি জ্বালানী তৈরী করা হয়!
.
সেই জ্বালানী দিয়ে ভাত রান্না করা হয়!
.
ঠিক তখনি মাথার মধ্যে আসলো, গরুর গোবর দিয়ে জ্বালানী তৈরী করা গেলে মানুষেরটা কি দোষ করেছে! আমরা তো আরো ভালো খায়!
.
যাকগে.... আমরা সবসময় এক শ্রেণির ক্রিয়েটিব প্রজাতী ছিলাম আছি থাকবো
.
পবলেম হলো বাথরুমে গেলে আমাদের ক্রিয়েটিবনেস্ দ্বিগুণ তিনগুণ বেড়ে যায় আর এক্সামের হলে,
.
সারা বছর একই প্রশ্ন পড়েও দুই তিন লাইন লিখতে পরিনা কিন্তু পরীক্ষার হলে পাশের বন্ধু দুইটা পয়েন্ট বললে দুই পৃষ্টা শেষে আবার জিজ্ঞেস করি তারপরের পয়েন্টগুলো কি কি?
.
সেদিন গোসল করতে করতে তুম হে হো, তুম হে হো, তুম কে হো হো হো হো হো ও ও ও বলে যে টান দিলাম তারপরে ভাবলাম আমি থাকতে এ আর রহমান কেমনে অস্কার পায়! এ হতে পারে না!
.
মাঝে মাঝে স্কুল শিক্ষকদের সাথে দেখা হলে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা মাস্টার্স পাশ করে ফেলেছে!
.
মাস্টার্স পাশ করেছে ভালো কথা বিয়ে পাশ করতে পারবে তো!!! কেমনে কি করবে! স্যারের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ!
.
মনে মনে বলি স্যার ভাববেন না! মেট্রিক ফেইল বন্ধুটি সেই কবে বিয়ে পাশ করে ফেলেছে আমিও পারবো!
.
চোখের ভাষা বুঝে স্যার বুকে শক্তি সঞ্চার করে বলতে থাকে, তুই অবশ্যই পারবি! আমার ছাত্র বলে কথা! অবশ্যই বিয়ে পাশ করতে পারবি! সম্ভব হলে আজও তোকে দুই নম্বর গ্রেস দিয়ে পাশ করিয়ে দিতাম!
.
কি যে বলেন স্যার! আপনার মেয়ে কেমন আছে? খুব ভালো মেয়ে!
.
সে তো তোমার কথা বলে প্রায় সময়! সেদিন বললো, তুমি নাকি ভালো লেখো!
.
স্যার বিয়ে পাশ করে ফেলেছি! আপনি একটু দোআ করে দেন! স্যাররর......!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




