চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ঐতিহাসিক ছাত্র সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীরকে জানতে তার জীবনী নিয়ে সাংবাদিক মোয়াজ্জেমুল হকের লেখা 'স্বপ্নের ফেরিওয়ালা' বইটি পড়া লাগে না,
.
পুরো চট্টলার দেয়ালে একটু কান পেতে থাকলে শুনা যায়
.
রাজনীতিবিদদের মধ্যে যে কয়জন প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তাদের মধ্যে মেয়র আনিসুল হকের ধাক্কা না সামলাতে সামলাতেই মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদে আমার যেটা মনে হলো রাজনীতি নিজেই ক্রমে ক্রমে নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ছে!
.
আমি রাজনীতি করিনি তেমন! যখন যেখানে সুযোগ পেয়েছি ওখানে একটু টেরায়(ট্রায়) করেছি!
.
জামায়াত, বিএনপি, জাসাস, জাসদ থেকে শুরু করে হালের জাতীয় পার্টির একাংশ আন্দালিব পার্থের দল পর্যন্ত করেছি তবুও বুকের ভিতর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি সব সময় একটা সফট্ কর্ণার ছিলো আছে থাকবে!
.
কাক্কু হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ যদি কখনো তার দলে আমাকে ডাকে আমি ছুটে যাবো! দেদারচ্ছে ছুটে যাবো!
.
আমরা হলাম পেট পার্টি!
.
তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বাস করি ভালো মন্দ বিচারে শেখ হাসিনার মতো একজন বিকল্প রাজনীতিবিদ্ দ্বিতীয়টি আর আসবে না!
.
আমি জানি তিনি বলেছিলেন এটি সংবিধান রক্ষার নির্বাচন তারপরেও নির্বাচন দেননি তবুও জনগন জনবিস্ফোরণ হয়নি কারণ হাজার হলেও তার প্রতি একটি সফট্ কর্ণার আছে!
.
ঈদের পর আন্দোলনও আর জমে উঠেনি
.
আমি রাজনীতিকে সব সময় বিবেচনা করি 'মন্দের ভালো' নামক একটি ট্রাম দিয়ে!
.
কার চেয়ে কে বেটার হবে তা দিয়ে
.
বেপারটা দোকানে এক গাদা ঝুলে থাকা চ্যাপ্টা পচা ল্যাংড়া আধা পাকা কিংবা পাকা কলার মধ্যে থেকে দশ টাকা দিয়ে দুটো কলা খুঁজে নেওয়ার মতো!
.
মহিউদ্দিন চৌধুরী সম্বন্ধে আমার গল্পগুলো শুনা কথা,
.
সন্দ্বীপে এক লোক গল্প করছে আরেক লোকের টাকা চিনতাই হয়েছে! সে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে তৎকালীন নেতা মহিউদ্দীনের কাছে গেলো! মেয়র মহিউদ্দীন সব চিনতাইকারীকে ডেকে বললো কে এই কাজ করেছিস্ সন্ধ্যার আগে টাকাসহ ব্যাগ নিয়ে তার বাসায় যাবি!
.
ঠিক সন্ধ্যা নামার বেলায় কোন এক চিনতাইকারী তার প্রফেশন ছেড়ে টাকা ফেরত দিতে যাচ্ছে!
.
গল্পগুলো এমন! দিনশেষে সব শ্রেণির মানুষ বলতো 'আমাদের মহিউদ্দীন'
.
মহিউদ্দীন চৌধুরীকে আমি মনে হয় সরাসরি একবারি দেখেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের কোন পোগ্রামে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এমন!
.
কিন্তু দেখা মানুষগুলোর মধ্যে তাকে আমি সব সময় দেখেছি! ব্যানার, দেয়াল, পোষ্টার, টোস্টার থেকে শুরু করে তার সকল কর্মীর ফেসবুক প্রোফাইলে!
.
আমি তাকে আরো বেশী চিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করা একজন ডিএলএফ কমান্ডার হিসেবে!
.
বর্ধিক কর বাদ দিয়ে পূর্বের হারে গৃহকর নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শেষ পড়া কথাটি আজ মনে পড়েছে, 'কী করতে হয়, মহিউদ্দিন চৌধুরী জানা আছে'
.
আজ থেকে আমরা নাগরিকদের নিয়ে এমন মন্দের ভালো চিন্তা করার একজন মানুষ হারিয়েছি!
.
যা অপূরণীয়!
.
উনি এমন একজন যে বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন করতে গিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে অনেকবার আটক হয়েছেন!
.
অন্তত এই কারণে হলেও তাকে নিন্দুকদের শ্রদ্ধা করা উচিত
.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তার গ্রেপ্তারের খবর বের হলে তার নামে 'শহীদ মহিউদ্দিন ক্যাম্প' খুলা হয়েছিলো!
.
তার বাবা ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিলো ভেবে ফাতেহা পর্যন্ত দিয়েছিলেন!
.
মৃত্যু তো তার আজ হয়নি সেদিন হয়েছিলো তবুও রাখে আল্লাহ মারে কে
.
এরপর তিনি মানসিক রোগীর অভিনয় করতে করতে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে ভারতে গিয়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধিনে সক্রিয় যুদ্ধ করেন!
.
দে আর রিয়েল হিরো! ফেসবুকে নেতার সাথে সেলফি দিয়ে নেতা হয়ে যায়নি!
.
হ্যালো বন্ধুরা ভাবতে পারো? আমরা কি হারিয়েছি! হারাচ্ছি! দিনকে দিন!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




