
নেটফ্লিক্সে এক্সট্রাকশন সিনেমা নিয়ে চলছে ধুমধাড়াক্কা!
.
প্রথমে বলে রাখি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, এলিট ইউনিট , সোয়াতের পাশাপাশি ছাত্রলীগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিকা আনতে না পারা ছিলো এক্সট্রাকশনের গল্পের প্লটের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ৷
.
হলিউড ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস এঞ্জেলেস শহরের একটি এলাকা আর তথ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন 'আকাশ থেকে ঢাকাকে লস অ্যাঞ্জেলস মনে হয়' এখন তো প্রমাণ পাচ্ছেন ঢাকাতে হলিউডের মুভিও হয়!
.
বলা হচ্ছে হলিউডের ঢাকাকে কেন্দ্র করে এক্সট্রাকশন 'extraction' ছবিতে বাংলাদেশকে যা তা ভাবে অপমান করা হয়েছে,
.
তোমরা দেখলে না, মুভির কাহিনী শুরু ভারতের মুম্বাইয়ের এক ডনের ছেলেকে অপহরণ করে বাংলাদেশের এক ডন!
.
আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী বলা মহোদয়দের জন্য বেপারটা এখন আমরা ভারতের চেয়েও শক্তিশালী,
.
সিনেমাটির প্রাথমিক নাম রাখা হয়েছিলো ঢাকা পরে এটিকে পরিবর্তন করে এক্সট্রাকশন রাখা হয় সুতরাং বুঝেন ঢাকা এক্কান জিনিস মাইরি!
.
কঠিন বেপার হলো, রুশো ব্রাদার্সের ঢাকা কেন্দ্রিক ছবিতে মার্ভেল সুপারহিরো থরখ্যাত অভিনেতা ক্রিস হেমসওর্থের সাথে আরো দেখা গেছে রিক্সা, দেশী নাম্বার প্লেট, বুড়িগঙ্গার উপরের পোস্তগোলা ব্রিজ-১ এবং আমাদের পুলিশের চিরচরিত পোশাক ইত্যাদি ৷
.
আমাদের গরীবদের অনেকের-ই নেটফ্লিক্স নেই যাদের আছে তারা এদের পরিচালিত অভিনীত ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম’র টিকেটের জন্য গভীর রাত থেকে বসুন্ধরা শপিং মলের বাইরে হুড়োহুড়ি করেছিলেন এবং অবশেষে এক প্রকার মারামারিও ভুলে গেছেন?
.
ছবিতে দেখানো হলো ঘরে ঘরে পুরানা দিনে হিন্দী গান চলে আসলে যদি সেটা না দেখিয়ে জি বাংলা, স্টার জলসা চ্যানেলগুলো চলছে দেখালে বেপারটা গ্রহণযোগ্যতা পেতো ৷
.
দেখানো হয়েছে মশার মতো করে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মারা হচ্ছে, আসলে বেপারটা উল্টো দেখালে যুক্তিযুক্ত হতে পারতো, যে মশার মতো করে না মশাগুলো মুভির চেয়ে দুর্দান্ত গতিতে ঢাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত মেরে চলছে!
.
আমরা আছি কিয়েক্টাবস্থায়, গর্বের কারণ বাংলাদেশ ঘিরে হলিউড মুভি হয়েছে এবং দুক্কের বিষয় মুভিতে একদম আলু বর্তা বানাচ্ছে এখন কি আমাদের হাসা না কান্না করা উচিত তা নিয়ে,
.
র্যাব, সেনাবাহিনীকে ড্রাগ ডিলারের বডিগার্ড হিসেবে দেখানো অনুচিত হলেও পুলিশ তো আমাদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিতো মর্মে আমরা অতীতেও শুনতে পেতাম!
.
তারপর এতো দ্রুতো গাড়ি চলা কিংবা রাস্তায় ভীড় নেই অথবা জ্যামহীন একটি ঢাকার রাস্তা বলে দেয় এটা আমাদের চিরাচরিত ঢাকা না,
.
তবে সিনেমাটি যা পেরেছে তার জন্য ধন্যবাদ না দিলে নয় সেটি হলো নায়ক যাতে পালাতে না পারে সেই জন্য ঢাকাকে লক ডাউন করে দেখিয়ে দিয়েছে.... যা করোনাকালে সরকার এবং আমরা কেউ পারিনি বরং লক ডাউন হয়েছে কি না তা দেখার জন্য বারবার বের হয়েছি...!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

