somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবদুর রব শরীফ
আমার লেখা কারো ভালো লাগলে ০১৮১৫৩৩৮৩৭৫ নাম্বারে বিকাশ কিংবা লোড নতুবা ডাক বিভাগের সেবা নগদে মজুরি পাঠালে আমি গর্ববোধ করবো ৷ আমার জীবনের বেশীরভাগ সময় আমি লিখে কাটাতে চাই, আমার ফেসবুকের ঠিকানা, www.facebook.com/abdur.sharif

ছোট বেলার রবীরা...

২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিতে, আজিজ গাজী রবী

ছোট বেলার অনেক স্মৃতিময় ক্যারেক্টার থাকে তার মধ্যে কখনো ভোলা যাবে না এমন একটি চরিত্রের নাম রবি,
.
চবি শোভাকলোণীতে আমাদের বন্ধু রবি আস্তে কথা বললেও মনে হতো বক্তব্য চলছে ৷
.
তার থেকে সব সময় টাকা থাকতো, এমন কোন ঈদ কোরবান নেই যে সে খেলনার দোকান দিতো না,
.
এমন হয়েছে তাকে ঈদের সেমাই চিনি খাওয়ার জন্য ডাকতেছে সে খেলনা বিক্রী শেষ না হওয়ার কারণে আসতে পারে নি ৷
.
ঈদ গা শেষ হলে পাড়ার রাস্তার মোড়ে বসে যেতো, ছোট বেলায় দেখা সমবয়সীদের মধ্যে সে ই সেরা উদ্যোক্তা,
.
শিশু অবস্থা থেকে সে ছোট খাট এমন ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে বিবিএ এমবিএ ৷ আচার, পিস্তল, পুতুল, বেলুন, চিপস থেকে শুরু করে লটারী...!
.
তার লটারীতে সব সময় বলতো ঘড়ি পাবো কিন্তু দিনশেষে কেবলি দুই টাকা দিয়ে এক টাকার চকলেট ই পেতাম ৷
.
একবার আমরা ঘড়ি পাওয়ার আশায় সব লটারী কিনেও সেখানে কোন ঘড়ির দেখা পেলাম না, তার মতে, ছোট্ট টোকেন হয়তো আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে পরে গেছে কোথাও ৷
.
পরের কোরবানে সে দেয়াল ঘড়ি আবারো লটারীতে, কয়েক মাস পর তার বাসায় গিয়ে দেখি সেই ঘড়ি তার ঘরের দেয়ালে ই ঝুলছে ৷
.
ফেসবুকে সে ফ্রেন্ড রিকু পাঠানোর পর বুঝতে পারলাম তার আসল নাম আজিজ গাজী, তার আইডি দেখার পর আমি ফিরে গেলাম সেই বাল্যকালে, যেখানে আমাদের সবার ঈদের বকশীশ তার পকেটে যেতো ৷
.
কখনো তাকে কারো সাথে রাগ করে কথা বলতে দেখিনি ৷ খোঁচা দিলেও হাসতো, মারলেও... মনে কোন ধরণের প্যাঁচ ছিলো না ৷
.
সবার সাথে নিজ থেকে কথা বলতো, যেনো সবাই তার ঘরের মানুষ, আপন ভাই ৷ জীবনের প্রয়োজনে এলাকা থেকে দূরে সরে গেলেও আবার ফিরে আসলে সবার সাথে দেখা করে ফিরতো,
.
তার বিক্রী করা খেলনায় আমাদের শৈশব হয়ে উঠতো রঙ্গীন ৷ আমাদের একটা গ্যাং ছিলো তার খেলনা চুরি করার জন্য ৷
.
তার সজাগ দৃষ্টি থাকতো সব সময় সেই শিশু গ্যাংয়ের উপর, তবুও আমরা সুন্দর করে বসে পাছার নীচ দিয়ে তার খেলনা পাচার করতাম কিন্তু বেঁচা বিক্রী শেষ হলে আবার বন্ধুত্ব ৷
.
সে এখন প্রবাসী, তার প্রেরণায় পরবর্তিতে আমরাও এলাকায় দোকান দিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে লাগলাম কিন্তু আমাদের শরম করতো, এলাকার ছোট ভাইকে পাটি বিছানো দোকানে বসিয়ে দিয়ে, সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম ৷
.
কিন্তু দিনশেষে আমরা লসে থাকলেও তার ই জয়জয়কার ৷ সে আমাদের ছোট বেলার কোটিপতি, এতো অল্প বয়সে মসজিদে প্লাস্টিকের টুপি দান করে আমাদের চোখে সে হয়ে উঠেছিলো দানবীর ৷
.
সেই টুপি মাথায় দিয়ে নামায পড়ে ভুলে মাথায় করে বাসায় নিয়ে আসলে সে আবার খোঁজ করে মসজিদে দিয়ে আসতো,
.
এগুলো সত্যি তখন বিশাল সামাজিক সম্পত্তি ছিলো ৷ সে ছিলো ব্যতিক্রম ৷ আমরা সবাই শার্ট প্যান্ট পাঞ্জাবী পরিধান করে নামাযে গেলেও আজিজ গাজী চকচকে লুঙ্গী, পাঞ্জাবী, মাথায় লাল ফুলের সাদা পট্টি বেঁধে, কড়া আতর মেখে ঈদ গায়ে যেতো...!
.
ওকে দেখে আমরা মজা পেতাম, টিপ্পুনি কাটতাম, তখন নিজেদের ওর চেয়ে স্মার্ট মনে হলেও এখন স্মৃতির মানসপটে আমাদের চেয়ে ওকেই স্মার্ট মনে হয় ৷ সে ছিলো অন্যরকম ৷ স্রোতের বিপরীত ৷
.
আমাদের সমবয়সীরা বড় হয়ে মনে হয় তাকে খুব বেশী মিস্ করি ৷ এই মানুষগুলোকে কখনো ভোলা যাবে না ৷ আপনি জীবনে অনেক বড় কিছু হলেও দিনশেষে নীড়ে ফিরে রবীদের খোঁজ করার মধ্যে জীবন খুঁজে পাবো ৷
.
ভালো থাকুক আমাদের জীবনের রবীরা, সূর্য হয়ে জ্বলজ্বল করুক ৷
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৫
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হুমায়ূন ফরীদি স্মরণে জন্মদিনের একদিন আগে !!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:০১

ঘটনাটি এমন। প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন বসে আছেন। পাশের চেয়ারটি ফাঁকা। ফাঁকা চেয়ার পেয়ে আমি যখন বসতে গেলাম। পরিচালক খোকন ঘাবড়ে যাওয়া চেহারা নিয়ে বললেন ওটা ফরীদি ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যা করা উচিত আমাদের

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:২৫



৩১ তারিখ থেকে সাধারণ ছুটি শেষ।
ট্রেন, বাস, লঞ্চ সবই চলবে। সরকার বলবে স্বাস্থ্যবীধি মেনে, সীমিত আকারে। যদিও দেশের অসভ্য জনগন তা মানবে না। লকডাউন শেষে অমুক জায়গায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্বাসযন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের ব্যায়াম -ফুসফুস ভালো রাখার জন্য যে ব্যায়ামগুলো করবেন।ভিডিও সহ ।

লিখেছেন রাকু হাসান, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১১:৪০

বর্তমানে কভিড-১৯ মহামারিতে আমাদের শ্বাসযন্ত্রের উপর দিয়ে খুব দখল যাচ্ছে । এই অদৃশ্য শক্তির বিরোদ্ধে লড়াইয়ে মানব আজ
বুক চিতিয়ে লড়তে হচ্ছে। সে লড়াই অনেকটা আলোকিত পৃথিবী দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার ও মানুষের মাঝে কোন ধরণের বন্ধন নেই, দেশে এনার্খী চরমে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৯ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:১৩



মানুষ করোনায় সরকারের কোন নির্দেশ শোনেনি, মানেনি; তারা বরং সরকারের নির্দেশ অমান্য করেছে; কারণ, সরকারের প্রতি মানুষের কোন আস্হা নেই; সরকারের নির্দেশ না মানার ভেতরে লুকায়িত প্রতিবাদ আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা কারো কারো জন্য আশীর্বাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:২৪



দুলাল মিয়া দুষ্টলোক।
তার করোনা হয়নি। অথচ দুলাল মিয়া চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে তার করোনা হয়েছে। এখন তার পাওনাদাররা চুপ হয়ে আছে। বরং দুলাল তাদের ফোন দিয়ে, কাদো কাদো গলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×