somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আংশিক ব্যবচ্ছেদ

১৩ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ এ বর্তমানে বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে এক মহা জগাখিচুরি। একদিকে চলছে ধুমছে চাপাবাজি অপরদিকে চলছে বিদ্যুতের জন্য মানুষের হাহাকার। এর মাঝে ক্ষণে ক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্তরা আমাদের কৌতুক শোনাতে ভুল করেন না।
বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনক্ষমতা কত এই তথ্য পিডিবি, বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় কেউই সঠিকভাবে দিতে পারবে না , কারন কারো কাছেই এই সত্য ডাটা নেই(বিশ্বাস না হলে একটু খোঁজ নিয়ে দখতে পারেন)।
উৎপাদন ক্ষমতা আর উৎপাদন কিন্তু এক কথা নয়। একটি যন্ত্র সেটা বানানোর সময় তার ক্ষমতা যা ছিলো সেটা হলো তার রেটেড উৎপাদন ক্ষমতা। আর কয়েক দেশ ঘুরে , অনেক বছর ব্যবহারের পর এখন তার যে উৎপাদন সক্ষমতা হলো বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা। এই শব্দগুলোর সাথে খুব আর একটা শব্দ খুব দরকার আর সেটা হলো কর্মদক্ষতা। ব্যয়িত শক্তির কি পরিমান কাজে পরিনত হচ্ছে সেটা বোঝা যায় এই কর্মদক্ষতা দিয়ে। ইনপুটের কি পরিমান আউটপুটে পরিনত হচ্ছে সেটাই কর্মদক্ষতা। বতমান বিদ্যুতের জগাখিচুরি এই কর্মদক্ষতার সাথে অনেকখনি সম্পর্কিত।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের হালচাল সংক্ষেপে এরকমঃ
সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট পাওয়ার প্লান্টঃ ৪৩ টি
পাওয়ার প্লান্ট (কামিং সুন): ১ টি
নিউক্লিয়ার প্লান্টঃ ১ টি
মার্চ ২০১৭ এর তথ্যমতে , বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (মেঃওঃ): ১৩,১৭৯
এ বছর ১৮ এপ্রিল ২০১৭ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃওঃ): ৯,২১২
সিস্টেম লস: ১৩.১০%
বিতরণ লস: ১০.৬৯%

সিস্টেম লস আর বিতরণ লস এর কোন মা বাপ নাই, এটা সবসময় থাকে , একে বাদ দিয়ে হিসাব করার কোন উপায় নেই।
২০০৯ সালে ৬ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহনের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিলো মাত্র ৩২৬৮ মেগাওয়াট । সেটাকে টেনে প্রায় ১৪,০০০ মেগাওয়াট এ নিয়ে যাওয়া অনেক বড় একটা সাফল্য বলতেই হবে।
কয়েকদিন আগে যখন প্রচণ্ড গরম সেই সাথে লোডশেডিং চরমে ছিলো তখন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী যে হিসাব দিলেন তাতে দেখা গেলো চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক (প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট) বেশি। অনেকেই হাসি ঠাট্টা করেছে এটা নিয়ে ।



একটু পিছনে ফিরে দেখি-- বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু আর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে। নসরুল হামিদ সাহেব মানবিক বিভাগ থেকে ঢাবি থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থিত University of Harvard এর John F. Kennedy School থেকে Certificate Program on Leadership সম্পন্ন করেন। আর এই মন্ত্রলানালয় এর লোকজন কেমন বিজ্ঞ তা তাদের ফেসবুক পেজ এর বিভিন্ন সময়ের তথ্যবহুল স্ট্যাটাস দেখেই বোঝা যায়।

চাহিদার থেকেও উৎপাদন বেশি , তারপরও কেন এত লোডশেডিং ?
একটা ঘোড়া তার যৌবনকালে যে পরিমান বোঝা বহন করতে পারে শেষ বয়সে তার পক্ষে আর সে পরিমান বোঝা বহন সম্ভব হয় না। ধরুন একটা ঘোড়ার পরিনত বয়সে সর্বোচ্চ ১০ মন বোঝা বহন করতে পারে। বৃদ্ধ বয়সে হয়ত পারবে সর্বোচ্চ ৫ মন। এখন কারো কাছে যদি ৩ টা বৃদ্ধ ঘোড়া থাকে আর সে যদি দাবি করে তার ৩ টা ঘোড়া মিলে একবারে ৩০ মন বোঝা বহন করতে পারবে । আর সে যদি সত্যি সত্যি ৩০ মন চাপায় তাহলে কি হবে ?

ঠিক একই ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। চায়না আর রাশিয়া থেকে পাওয়ার প্লান্ট এর যেসব যন্ত্র ক্রয় করা হয়েছে তার সবই ওই সব দেশে ব্যবহার করে তার কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করার পরই বাংলাদেশ এর কাছে বিক্রি করেছে। এতে করে এই সব যন্ত্রগুলো এখন তাদের রেটেড কর্মদক্ষতার চেয়ে অনেক কম উৎপাদন করতে সক্ষম । কোন কোন ক্ষেত্রে উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ২০-৩০ %। এর ফলে দেখা যাচ্ছে , যে মেশিন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পাওয়ার কথা , তা থেকে ১০০ মেগাওয়াট এর কিছু কম বা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এর সাথে অপছন্দের ব্যক্তির প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ না কেনা একটা অন্যতম একটা কারন।



বিদ্যমান প্লান্ট এর অনেক কম কর্মদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিতরণ লস, অপছন্দের ব্যক্তির প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ না কেনার দরুন উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৪,০০০ মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও এ বছর ১৮ এপ্রিল ২০১৭ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৯,২১২ মেগাওয়াট, নগদ ঘাটতি প্রায় ৫০০০ মেগাওয়াট(এটা অবশ্য কিছু কম হবে। গতকাল ১৩ জুন গ্রিডে নাকি আবার ৪০০ মেগাওয়াট যোগ হয়েছে) । বিনিময়ে দেশ লোডশেডিং এ ডুবে থাকে।

বিদেশ থেকে পুরাতন মেশিন কেনার মাধ্যমে ভালো পরিমান টাকা পাচার হয়েছে, কিছু কিছু মানুষ পাওয়ার প্লান্ট এর ব্যবসায় করতে গিয়ে রাতারাতি ধনী হয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিশেষ একটি দেশের পছন্দের মানুষদের হাতে চলে গেছে।

গলাবাজি তো অনেক হলো । এবার আর কিছু পুরাতন মেশিন কিনে আনো বাবা, আরো কিছু প্লান্ট স্থাপন করো। আরো কিছু টাকা পাচার করো, আরো কিছু মানুষকে ধনী বানাও, তাও অন্তত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আর একটু ভাল করে দাও। আমাদের টাকা তোমরা খাও ( তোমরাই তো খাবে ) তাও বিদ্যুৎটা ভালোমত সরবরাহ করো। আর পারলে একটা প্লান্ট এর জন্য না হয় ভালো মেশিন কিনে এনো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×