গাধাটাকে বিদায় দেয়ার আগে গাধাটাই বিদায় দিয়ে দিলো। তিথি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো হ্যান্ডশেক এর জন্য, গাধাটা ছাড়ছিলোই না। তিথির চোখে জল এসেই পড়লো বুঝি! তিথি সামলে নিতে পারে। গাধাটাও সামলে নেয়, সবসময়। কখনো বলে না, কিচ্ছু বলে না। একবার ভুল করে বলে ফেলেছিলো 'তোর পা দুইটা এত সুন্দর!' . . তারপর আর কিছু বলে নি। বিদায় নেয়ার সময়ও বলেনি 'তোকে ভালোবাসি' গাধাটার চোখে এত জলকনার ছাপ দেখে তিথি ভয় পেয়েছিলো। গাধাটা ঢাকায় পৌঁছে ভালো থাকবে তো? গাধাটাকে বলা হয়েছিলো গিটার নিয়ে আসতে। আনেনি, উল্টো ডায়লগ শোনালো 'তুইই তো আমার গিটার'
মানুষ কি গিটার হতে পারে? হয়তো পারে। তিথির ধারনা মানুষ হতে পারে জলজ্যান্ত কবিতা। যে কবিতাকে স্পর্শ করলে পৃথিবী হাসতে থাকে, যে কবিতার সাথে মস্তিষ্কের নয় হৃদয়ের সম্পর্ক। গাধাটার সামনে তিথির কবিতা মনে পড়ে না, তিথি বলতে পারে না 'তোমাকে স্পর্শ করতে গিয়ে কতবার যে গুটিয়ে নিয়েছি হাত/ সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন. . .'
শেষ লাইনটা তিথির মাথায় বাজছিলো বিদায়ের ক্ষণে,
"তারপর ঐ ঈশ্বরের মত একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য, শুধুই তোমার জন্য"
বাতাসের শব্দ আর আকাশের আবেগ ছাপিয়ে একটা কথায় তিথি শুনলো, "আমিও. ."

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




