somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজব চিকিৎসা

২২ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দূর সম্পর্কের এক আত্নীয়ের সাথে হঠাৎ দেখা।দূর সম্পর্কের হলেও একটা সময় বেশ যোগাযোগ ছিল।ব্যস্ততা আর সময়ের অভাবে এখন আর তেমন একটা যোগাযোগ হয় না। তাই সেদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়াতে বেশ ভালোই লাগছিল।কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেই ভাল লাগা উবে গেল।তার বড় ছেলের ডিভোর্স হয়ে গেছে। ছোট একটা বাচ্চা রেখে বউ চলে গেছে।সমস্যা কি জানতে চাইলে তিনি বলবেন কি বলবেন না ভেবে কিছুক্ষণ ইতস্ত করছিলেন।পরে বললেন,আসলে আমার কপালটাই খারাপ,তা না হলে একটার একটা খারাপ আমার সাথেই কেন হবে?
আমি জিজ্ঞেস করলাম,কি হয়েছে? আমি যতটুকু জানতাম ওনার ছেলেটা খুবই ভদ্র ,সুদর্শন এবং মেধাবী।সেই ছেলের ঘর ভাঙ্গার খবর আমার জন্য কিছুটা অবাক হওয়ার মতোই।পরে বিস্তারিত যা শুনলাম,তা হলো ওনার ছেলেটা হঠাৎ করেই কেমন যেন বদলে যেতে লাগল।কারো সাথে কথা বলতো না, কোথাও যেতে চাইত না, এমনকি শেষ পর্যন্ত একদিন হঠাৎ করে চাকরিটাও ছেড়ে দেয়।বউয়ের সাথেও তেমন একটা কথা বলতো না। বউয়ের কথাও শুনতে চাইত না। আর এসব নিয়ে প্রতিদিনই বউয়ের সাথে অশান্তি লেগেই থাকতো।ব্যস তারপর একদিন রাগ করে চলেই গেল।এর বেশ কিছুদিন পর ডিভোর্সের জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।
এর অনেকদিন পর আমি আমার সেই আত্নীয়ের আরেক নিকটজন থেকে জানতে পারলাম ওনার ছেলেটা নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ।ওর চিকিৎসা চলছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম,কখন থেকে অসুস্থ?
সেই নিকটজন বললেন,অনেক দিন ধরেই অসুস্থ।কিন্তু প্রথম দিকে ওনারা লোকলজ্জার ভয়ে ছেলের চিকিৎসা করান নি। বরং মানুষের কথা ধরে অসুস্থ ছেলেটাকে বিয়ে করিয় দিলেন। আর এখন কি হলো,ছেলের ঘর তো ভাঙলই ,মাঝখান থেকে একটা ছোট বাচ্চার কত কষ্ট! আর বউটা! তাকে তো একরকম প্রতারিতই করা হলো।
মনটা স্বাভাবিক ভাবেই খারাপ হলো।আর মনে হলো আমরা মানুষ কেবল লোক লজ্জার ভয়েই এমন কিছু কাজ করি সেগুলো আদৌ করার দরকার আছে কিনা তা ভাবি না। লোকলজ্জাকে বেশি গুরুত্ব দিলে জীবনে সমস্যা বাড়া ছাড়া কখনো কমেছে বলে আমার মনে হয় না।
সেই ঘটনার কয়েকদিন পর আমাদের এক প্রতিবেশির ছেলেটা হঠাৎ করে কেমন অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। সুস্থ একটা ছেলে যখন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যায় সেটা মেনে নেয়া যে কোনো বাবা-মায়য়ার জন্য বেশ কঠিন বিষয়। আর সেই অসুস্থতা যদি হয় মানসিক তাহলে তো জীবনটা মুহূর্তেই ছাই হয়ে যাওয়ার মতোই যন্ত্রণাদায়ক হয়। আমাদের এই প্রতিবেশির ছেলেটার বয়স ও খুব বেশি না ।মাত্র অনার্স এ ভর্তি হয়েছিল। পড়া লেখায় মোটামুটি ভালোই ছিল।নিয়মিত নামাজ পড়তো।সেই ছেলেটা হঠাৎ যে কি কারণে এমন অসুস্থ হয়ে গেল বুঝতেই পারছি না। ছেলের বাবা-মা,আপন জনেরা চিকিৎসার কোনো ত্রুটিই রাখছে না। ডাক্তার রা বলেছে,ভাল হতে সময় লাগবে।তবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।এর মধ্যে শুনলাম সেই ছেলেটাকে নাকি বিয়ে করানো হচ্ছে।
অসুস্থ ছেলেটার বিয়ের কথা শুনে অবাক না হয়ে পারলাম না ।ছেলের বাবা-মাকে নাকি কারা পরামর্শ দিয়েছে ছেলেকে বিয়ে করিয়ে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।এরকম কত পাগল নাকি নিমিষেই ভাল হয়ে গেছে।আর তাই ছেলের বাব-মাও খূঁজে খূঁজে ঠিক ই ছেলের জন্য পাত্রী বের করে ফেললেন।
আমি ভাবছিলাম সেই মেয়েটার কথা।যে সারা জীবনের জন্য বলি হয়ে যাচ্ছে অথচ সে তো জানে না কোন পাপে তার এই শাস্তি।আর ভাবছিলাম মেয়েটার বাবা-মা ,আত্নীয়-স্বজনের কথা।ছেলের বাবা-মা তো ছেলের ভালোর জন্য সব করছিলেন।তাদের সেই চেষ্টার কারণে যে আরেকটা মেয়ের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনটা মুহূর্তেই নরকে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবার মতো হিতাহিত জ্ঞান আর তাদের অবশিষ্ট নেই।কিন্তু মেয়ের বাবা-মায়ের এই হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাওয়ার কারণটা কি???
উত্তরের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না আমাকে।কারণ দারিদ্র্যের মতো বিশাল সামাজিক ব্যাধি তো আগে থেকেই আমাদের সমাজের একটা বড় অংশকে আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। জীবন বহতা নদীর মতো।আর তাই তো কেউ কেউ এটাকে শুধুই বয়ে চলতেই দেয়। বয়ে যে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে এসব ভাবার মতো ফুরসৎ কোথায়??
অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা হওয়া জরুরি।কিন্তু এমন আজব চিকিৎসা আসলে কতটা যৌক্তিক সেটা নিয়েই প্রশ্ন আমার। একটা অসুস্থ জীবনকে সুস্থ করতে গিয়ে আরেকটা সুস্থ জীবনকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া কতটা মানবিক সেটা বোধ হয় আমাদের সবারই ভাবা উচিত
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ের অবস্থা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেয়া দরকার

লিখেছেন অপলক , ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫



পাহাড়ীদের হাতে এখন প্রচুর টাকা। সে টাকার যোগান প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমরা সমতলের জনগন দিয়েছি। পাহাড়ীরা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাদের মাঝে প্রচুর উচ্চ শিক্ষিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×