somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নন্দন নন্দিনী তুমি-----------১

১৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ কয়েকদিন ধরেই পকেটে ঘুমের ঔষধ নিয়ে ঘুরছি / সময় এবং সুযোগ এলেই এগুলোকে গলঃধারন করার ইচ্ছা /কারন খালি পেটে খেলে আবার বমি হবার সমুহ সম্ভাবনা / কিন্ত কিছুতেই বমি করা যাবে না / বমি করলে মরার শেষ সুযোগও শেষ / চার পাঁচ দিন ধরে পকেট গড়ের মাঠ /টিউশনির টাকা পাইতে্ এখনও আরও ছয়দিন বাকি// অবশ্য এর মধ্যে মারা গেলে তো আর কোনো কথাই নাই , এমনি এমনি সমস্যার সমাধান /

কিন্ত মৃত আমাকে নিয়ে বিপদে পড়ে যাবে যার কাছে এই যে বিপদে আপদে লাট্টুর মত লেগে থাকি সে /
এখন দুপুর / মধ্য দুপুর /এই রোদটাকে কি বলে ? ঝাঁ ঝাঁ রোদ , না কাঠ ফাঁটা রোদ! অবশ্য আমার চব্বিশ বছরের জীবনে কখনও রোদে কাঠ ফাঁটতে দেখিনি /তবে অন্য জিনিস ফাঁটতে দেখেছি - শিমুল তুলা ! কি আশ্চর্য সেই আওয়াজ ! মনে হয় ছোট খাটো কামান দাগছে কেউ/

মাথার মধ্যে তুলা ফাঁটার আওয়াজ নিয়ে ধানমন্ডি এলাকায় হাঁটছি অনেকক্ষন / রোদের সংগে সমান ভাবে রং ছড়াচ্ছে জারুল আর কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলো /
এখন কতবেলা !! মনে হয় তিনটা /সকালবেলা শুধু চা আর মুড়ি খেয়ে নিরাময় মেস বাড়ি থেকে বের হয়েছি /এই ভরদুপুরে কোথায় যে মাগনা খাবার পাওয়া যাবে সেই চিন্তায় আছি /
ধানমন্ডির লেকের পাড়ের এই জায়গাটা এক আজব জায়গা / ব্যস্ত ঢাকাকে এখানে এক নজরে দেখা সম্ভব / বলতে গেলে বিনা পয়সায় ঢাকার প্রামান্য চিত্র দেখা যায় / কি না আছে এখানে ! ব্যবসা বানিজ্য , লেনাদেনা, পৌষপার্বন, জারিগান ডিসকো গান , এবং নানা রকমের ভালোবাসা /

ধুর্ পেটের মধ্যে খামচাখামচি শুরু হইছে /এখন আর হিমুর হন্টন নয় / গল্পের হিমু তো মহামানব , আমি তো না/ এই জায়গাটা মনে হয় একটু নিরাপদ এবং নিরিবিলি , বসা চলে /
বসা চলে কি ? ঘুমিয়েও পড়া যায় /
এ ভাবে বসা বা অম্বরমুখী হয়ে আমার শোয়া বসাটা নতুন কিছু না / এখানে যে ছেলেটা চা সিগারেট বিক্রি করে সে তো আমাকে দেখলে এক মাইল দুরে থাকে/ কারন আমিও হিমুর মত জোরজবরদস্তি করি, কিন্ত ওরাও জানে আমাকে বাকী দিয়ে কোনে ফলাফল নাই কারন আমি তো আর মহাপুরুষ না , ছ্যাচরা আমি/
এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলাম চায়ের এতবড় কেটলি আর সিগারেট হাতে সেই ছেলেটা এদিকেই আসতেছে /হইছে কাম! আজ আমার খবর আছে /
ছেলেটা কাছে এসে একটু দাড়ালো , তারপর পাশে বসে পড়লো / মনে হয় এও বুঝতে পেরেছে , আজ পাওনা আদায় না করতে পারলে সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে /আমিও কি পার্ট নেব তা ভাবতে ভাবতে ওর দিকে তাকাতেই ছেলেটা বলল,
ভাইজান ভ্যালা আছেন ?
ওমা কি বলে! সম্বোধনের এত উন্নতি !!
দুই তিন আগেও না আমারে বলছে ,
"ওই ব্যাডা আইজ পয়সা দেওনই লাগবো / "
হুম্ নিশ্চয় রহস্য আছে !
এদিক ওদিক তাকিয়ে খুজলাম, আটকিয়ে রেখে মাস্তান দিয়ে মার খাওয়াবে নাতো ?
কথাটা ভাবতেই হাসি এসে গেল /
আমি না আত্মহত্যা করবো বলে পকেটে ঘুমের ঔষধ নিয়ে ঘুরছি - তো মাস্তানের মার কে ভয় পাইতেছি কেন?
এ তো সেই লোকের মত যে কি না গাছে ঝুলে মরার জন্য পথ ধরে যাচ্ছিলো / পথে এক লোকের সাথে দেখা /
" ও মেদ্দার পো এত রাইতে কই যাও? "
" গলায় দড়ি দিতে / "
" ভ্যালা কতা , তয় হাতে হারিকেন কেন??"
"পাগল নাহি , শিয়াল সাপ আহে যদি ......"
হা হা হা ....
ছেলেটির চোখ বড় বড় হয়ে গেল/
সে উঠে দৌড় দিবে কিনা এরকম কিছু ভাবার আগেই বললাম,
কি রে ভালো আছিস ?
একটু সময় নিল উত্তর দিতে /
তাপর বলল,
জ্বে না /
কেন ?
মুখটা আরো যেন কালো হয়ে গেল / টলমল করে উঠলো যেন চোখ / শোনা যায় না এমন কন্ঠে বললো ,
তিন দিন ধইরা আমার বড় বইনটার কোনো খোঁজ নাই /
আচ্ছা .. বাকী টাকা না , অন্য ব্যাপার /
তোর বড় বোন ?
সুখী ! হইযে ফর্সা মাইয়াটা বেন্চির উপরে সন্ধার পর বইয়া থাকে , আর দিনত বেলা ব্রিজের গোড়ার ঘুমাইয়া থাকে , হেয় /
পড়ি পড়ি করেও মনে পড়লো না সুখীর মুখটা/ আমিও পাগল একটা , কি ভাবে মনে পড়বে ,সুখী তো নায়িকা না ? বা এখানে ছাত্তি টানাইয়া কখনও মডেলিংও করে নাই / যাই হোক হবে কেউ একজন /
ভাইজান আপনি তো অনেক হাঁটাহাঁটি করেন , একটু বইনটারে খোজনের ব্যবস্থা কইরবেন ?
আরে কয় কি !! মরার আগে পূন্যের কাজ !
আমার তো স্বর্গে যাওয়ার কোনো চান্সই নাই /
ইহ্জন্মে ভালো কাজ করেছি বলে মনে পড়ে না / আর অপঘাতে বা আত্মহত্যা করলে তো নির্ঘাৎ নরকবাসী এবং কন্দকাটা ভুত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০% সুযোগ যখন পাওয়া গেছে যাই একটা তো ভালো কাজ করি /আর যাই হোক চা সিগারেটের দাম হয়তো এই উছিলায় শোধ হবে /
ও ভাইজান ভাবতাছেন কি ? কন না কেমনে কইরা আমার বইনটার খোজ পাই /

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:০৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×