somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোড়া মাঠের স্নান….. ৩

১৬ ই মে, ২০১৬ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাগল গাড়ি !
নুপুরের দেয়া এই নাম/ ডেথ রেসের অনুপ্রেরনায় অনুপ্রানিত হয়ে এরা গাড়িকে ছোটায়/রাস্তায় এদের হরহামেমাই দেখা যায /উত্তরা . গুলশান , বারিধারা , লালমাটিযা আর ধানমন্ডিতে এদের দৌড়ঝাঁপ/গাড়ি ভর্তি থাকে টিনএজাররা/এরা কখনও নিজেরাই প্রানপনে চিৎকার করে গলা ফাটায় আবার কখনও এদের পাগলা গাড়ি জোরে জোরে চেচিয়ে গান ধরে/

এই গাড়িগুলোর বিকট আওয়াজ নুপুরের বুকে ভয়ের কাঁপন ধরিয়ে দেয়/ এদের আওয়াজ কানে আসতেই নুপুর চিৎকার করতে থাকে ,
এই তাড়াতাড়ি সাইড দাও….এই ভাই পাশে সরো ..পাশে সরো…

ছোটবেলায় মেঘ একটা গাড়ি গেইম খেলতো/ মেঘের সেই গেইম টা নুপুর একদম পছন্দ করতো না/কারন ওই গেইম ছিলো নিয়মকে না মানার প্রথম এবং সর্বশেষ্ঠ হাতেখড়ি/বড়ই বিপদজনক ভাবে ড্রাইভার গাড়ি চালায়, আর সেই ড্রাইভার হলো মেঘ/
সেই গেইমের মত বিকট শব্দে পাগল গাড়ির ছুটে আসা দেখে নুপুরের মনে হয় সময় থেমে গেছে, কিছুতেই পিছনের গাড়িটা আর ব্রেক করতে পারবে না,সব উড়িয়ে গুড়িয়ে নিয়ে যাবে/
শেষ মুহুর্তে রাস্তায় বিশ্রী আওয়াজ তুলে যখন ব্রেক করে তখন চেপে রাখা শ্বাস ছাড়ে নুপুর/
কিন্তু দুর্ঘটনা যে ঘটে না তা না / দুই/তিন মাস আগে মেঘের স্কুলের দারোয়ান ভাই তমিজ মিয়ার পায়ের উপর দিয়ে চলে গিয়েছিলো এই পাগল গাড়ি/
তাও রাস্তা ছেড়ে গাড়ি উঠে পড়েছিলো ফুটপাতে / দারোয়ান ভাই এখনও নাকি হাসপাতালে/
কয়েকদিন আগে পেপারে দেখেছে , সিগনালে ট্রাফিক পুলিশকে চাপা দিয়েছে এই পাগল গাড়ি/নুপুরের কাছে পাগল গাড়ি মানে চলন্ত যম/

নুপুর বোঝে না ভালোবেসে বাবা মা কেন যে এই পাগলগাড়ি বাচ্চাদের কাছে চালতে চেড়ে দেয়? আসলে গাড়ি তো প্রথমে পাগল থাকে না , নানা কারিগরী করে পাগল বানানো হয় /তারপর পাগলরা নিজেদের পাগলামী করে/ তারমানে যারা চালায় তারা পাগল/

জায়গামত রিক্সা এসে থেমে যায়/নুপুরের চিন্তার জালও ছিড়ে যায়/কিছু একটা শুরু হয়/বুকের ভেতর হঠাৎই ঢিব্ ঢিব্ শব্দটা বেড়ে যায়/ কেন জানে না নুপুর , এই গলির মাথায় আসার সাথে সাথে এরকম হয় নুপুরের/ মনে হয় পা দুটো অসশ্ভব ভারী হয়ে গেছে –হাঁটতেই পারবে না আর / কিন্তু কি এক সম্মোহনে সে আনমনে হেঁটে চলে/

মেঘ আছে এখানে/কোচিং পড়ছে/তো যাওয়া তো লাগবেই/
অন্য জায়গায়ও তো মেঘ কোচিং পড়ে , সেখানে তো এরকম কোনো কিছু হয না , এখানেই কেন এমন লাগে?এখানেই যেন সময় আর ফুরোয় না, নিজেরে কেমন কেমন লাগে/ নুপুর মনে মনে খুব লজ্জা পেতে থাকে/মনে হয় ওর মনের অবস্থা সবাই বুঝে ফেলছে/
হয়তো অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে সবাই/ ভাবছে, ‘ আন্টি !..... ওমা তাই কি করে হয়?”

গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বামপাশের নারিকেল আর তালগাছের দিকে তাকাতে তাকাতে সামনের দিকে হাঁটতে থাকে নুপুর/ হঠাৎই সামনের থেমে থাকা গাড়িটা বাধা সৃষ্টি করলে নুপুর মাথা নিচু করে মেঘের কোচিং রুমের বারান্দায় উঠে আসে/
বসে থাকা বেশ ক’জন মহিলা এক সংগে নুপুরের দিকে তাকায়/লজ্জ্বায় কুকড়ে যায় নুপুর আরও/ ওরাও বোধহয় ওর সমস্যাটা ধরে ফেলেছে , বুঝে ফেলছে সবকিছু/

ইসরে কোথাও বসার জায়গা খালি নেই/ বসতে হলে কোচিং রুমের একদম দরজা ঘেষে বসতে হবে / আর তারপর! কেন যে এরকম হয়? সব নুপুরের সাথেই কেন? শুধু নুপুরের সাথেই?

একটুক্ষন দাড়িয়ে থেকে আর ভালো লাগে না দাড়িয়ে থাকতে নুপুরের/দরজা ঘেষেই বসে পড়ে নুপুর/বেশী তো আর বাকী নেই / বিশ পচিঁশ মিনিট বাকী/তারপরে এখানে মেঘের ক্লাশ শেষ/
বাদ সব কিছু/ তার চেয়ে বরং এ সময়টুকু ভাবীদের নানা গসিপ শোনা যেতে পারে , আবার কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গানও শোনা যায়/
আজকে পরচর্চা বা পরনিন্দা শুনবে বলেই নুপুর ঠিক করলো /
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৬ রাত ৮:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×