somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাথায় কত প্রশ্ন জাগে!!

০৭ ই মে, ২০১৩ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওরা গরিব আর বেশির ভাগ ই এতিম, মাদ্রাসায় ২ বেলা কোন রকমে খেয়ে পরে কোরান শেখে। তাদের পরিবার একটা হাফিজিয়া মাদ্রাসা বা এতীমখানায় ওদেরকে দিয়াই নিশ্চিন্ত থাকে যাক, দু বেলা খেয়ে দুই আয়াত কোরান শিখে দীনের জন্য কিছু করছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ওদের কি দোষ ছিলো ? আপনারা তাদেরকে অবরোধ করতে দিলেন, ওদেরকে মিটিং করতে দিলেন এবং রাতের আঁধারে নির্বিচারে জানোয়ারের মত মারলেন – হূম, ওরা মরলে কার কি আসে যায়, গরিব বাপের গরিব পোলা, মোল্লাগিরি করে বেহেস্তে চলে গেল – আমিন।
ওরা তো আর দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ রাজীবের ভাগ্য নিয়ে জম্মায় নি, যে মাগীবাজী করে খুন হয় আর শহীদ হয়ে যায়। ঝড়ে বক মরে, ফকিরা কয় কেরামতি – আপনার আদ্র হৃদয় সহ্য করতে পারলো না ছুটে গেলেন নাস্তিক রাজীবের বাসায়, সান্ত্বনা দিয়ে এলেন মহান মুক্তিযোদ্ধা (!) রাজীবের পরিবারকে।

৬ ই মে শেষরাতে যা সংগঠিত হয়, তা একটি স্বাধীন দেশের ইতিহাসে ভয়ংকর কালো রাত্রীর ছেয়েও বেশি কিছু। নিরস্ত্র মানুষের উপর রাতের অন্ধকারে বৈদ্যুতিক প্রবাহ বন্ধ করে, মিডিয়া ব্ল্যাকাউটের মাধ্যমে ঠান্ডা মাথার গণহত্যা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, সব জনগণের এবং সবার – শাহবাগীদের ও, হেফাজতিদের ও। শাহবাগীদের হেফাজতের জন্য আপনার দলীয় ও প্রশাসন যেমন তৎপর ছিল, হেফাজতিদের জন্য নয়। আপনি বিজ্ঞজন, আপনি সবই জানেন, আপনার গোয়েন্দাবাহিনী যদি আগেই গণ্ডগোলের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে তবে কেন মতিঝিলের মত দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়াগায় আপনারা হেফাজতিদেরকে সমাবেশ করতে দিলেন ?

তা না হয় দিলেন, গণ্ডগোলের সূত্রপাত যেখানে – আপনাদের অফিসের সামনে দিয়ে আসার সময় কেন আপনার দলীয় কর্মীরা হেফাজতিদেরকে আক্রমণ করলো, আপনার পুলিশ বাহিনী কেন আপনার দলীয় কর্মীদেরকে থামালো না ! আর না থামাক, এটা ওরা করবে না, তাহলে হেফাজতিদেরকে কেন থামাল না ?

টিভিতে দেখলাম হেফাজতিরা খালি ইটের কনা ছুঁড়ে মেরেছে, এই সামান্য ইটের কনা থেকে বাঁচিয়ে আপনার পুলিশ বাহিনী নিজেকে কি রক্ষা করতে পারতো না? অল্প পুলিশ দিয়ে না পারলে সেখানে কেন তখন অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ পাঠানো হলো না?

সকাল ১১ টা থেকে শুরু হওয়া গণ্ডগোল যখন বেড়ে যাচ্ছিল, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগিয়েছিল, তখন ঐসব বাঁচাতে আপনার পুলিশ অ্যাকশনে যায়নি কেন? রাত ২.৩০ পর কেন মতিঝিলের বৈদ্যুতিক সাপ্লাই বন্ধ করে নিরস্ত্র মোল্লাদের উপর পুলিশ ঝাপিয়ে পড়ল? দিনের বেলা যখন ঘটনার সুত্রপাত হয় তখন বা তার একটু পর অ্যাকশনে না গিয়ে শেষরাতে কেন মানুষ হত্যা করা হল? দিনের বেলা যখন ঘটনার সুত্রপাত হয় তখন অ্যাকশনে গেলে কি মানুষের সম্পদ্গুলো রক্ষা করা যেতনা আর রক্ষা পেতনা নিহত মানুষগুলো ? আপনার পুলিশ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল আগুনের শিখা আর রাতে হত্যা করলো নিরীহ মানুষগুলোকে, কেন? আর এই ঘটনায় আপনার অবস্থান কি বিমাতাসুলভ ছিলোনা! নাকি এটা একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ছিল?

বুঝতে পারিনা কিছুইঃ

১. মতিঝিলের মত দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম বানিজ্যক এলাকায় কেন হেফাজতিদের মিছিল মিটিং করতে দেয়া হল ?

২. প্রশাসনের যদি হেফাজতিদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতেই হয়, তবে মধ্য রাতে কেন? সকাল থেকে শুরু হওয়া গণ্ডগোল মধ্যরাত পর্যন্ত জিইয়ে রাখা হল কোন স্বার্থে !

৩. পুড়ে গেল সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, দোকান ও মার্কেট ও যানবাহন - ১০,০০০ পুলিশের ১০০০ গেলেই হেফাজতিরা কি সরে যেত না বা ওদের তান্ডব থেকে রক্ষা পেতনা ?

৪. গণজাগরণ মঞ্চ যদি ভাংতেই হয়, আগে না ভেঙ্গে আজ কেন ভেঙ্গে ফেলা হল ?

৫. মঞ্চ ভাঙার পর গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা এখন চুপ কেন ? তবে কি হেফাজতিদের লাশ আর রক্ত পেয়ে ওনাদের প্রত্যাশা পূর্ণ হল ?

আমরা কারো পক্ষ নিতে চাইনা, কিন্তু কারো লাশ ও দেখতে চাইনা। দেশ আমার, আপনার আর সবার। কিন্তু আমাদের দেশের নেতারা ক্ষমতায় গেলে ভুলে যান এবং দেশটা তখন শুধু তাদের ই হয়ে যায়। হেফাজতিরা মাদ্রাসায় ই ভালো ছিলো, সরকারের ভুল ছালের ফল হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। দেশের নোংরা রাজনীতির প্রভাবে তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। আর যা শুরু হয়েছে তার পরিসমাপ্তি কোথায় তা কেউ ই জানেনা, মনে করার দরকার নাই যে মতিঝিলে গুলি মেরে দমন করল বলে সব হেফাজতিদের মূল এখানেই শেষ, তা কিন্তু নয় ।

আল্লাহ সকল অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৩ সকাল ১০:৫৯
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×