
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন অলরাউন্ডার। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই মূলত পরিচিত। পাশাপাশি অফ স্পিনার। বল হাতেও বিভিন্ন সময় জ্বলে উঠে হেরে যেতে যেতে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েছেন তরি। বহু ম্যাচে সঙ্কটসঙ্কুল পরিস্থিতিতে দলের জন্য ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন। বিশেষভাবে ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটির কথা মনে পড়ছে। বিরাট রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুচারটি উইকেট হারিয়ে যা তা অবস্থা অসিদের। এরকম সময় ব্যাট হাতে অগ্নিশর্মা সাইমন্ডস। তৎকালীন দারুণ শক্তিশালী পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন। ধূমধাড়াক্কা পিটিয়ে অল্প সময়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন দেশকে। সে আসরে পরবর্তীতে শিরোপা জয় করে অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচটা হারলে বড়ো রকমের বিপদ হতে পারতো অসিদের। সেমিফাইনাল মিস করার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিলো। এরকম সময় অবিশ্বাস্য ব্যাটিং এ্যন্ড্রু সাইমন্ডসের। ইন্টারনেটে নির্ঘাত বিশেষ সে ম্যাচের বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে! যতোদূর মনে পড়ছে ১৪০ রান করেছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের অধিনায়ক কিংবদন্তি পেস বোলার ওয়াকার ইউনিসও ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তার এ পারফরম্যান্সের। পাকিস্তানের নিশ্চিত জয়ের মুখে একাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাইমন্ডস। অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন দেশকে। এরকম আরও ম্যাচ আছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও একইভাবে বিভিন্ন সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জ্বলে উঠতে দেখেছি। নিঃসন্দেহে তার সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য যে, বিশ্ব সেরা দলের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়েছিলো। বরাবর স্ট্রাগলের মাঝে থাকতে হয়েছে মূল একাদশে জায়গা পেতে। অনেকসময় আরেকজনের ইনজুরি শাপে বর হয়ে দেখা দিতো। যেমন শুরুতে বিশ্বকাপের যে আসরের কথা বলেছি। সেখানেও দল ঘোষণার প্রাক্কালে জল্পনাকল্পনা চলছিলো তাকে দলে রাখা হবে কিনা তা নিয়ে। দোদুল্যমান ছিলো জায়গা পাওয়া। সুযোগ পেয়ে ঠিকই প্রতিদান দিয়েছেন দেশকে। তখন আসলে আরেক গ্রহের ক্রিকেট খেলতো অস্ট্রেলিয়া। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস ছাড়াও আরও বিভিন্ন খেলোয়াড়কে নিজেদের সেরা সময়েও রীতিমতো সংঘর্ষের ওপর থাকতে হয়েছে জাতীয় দলে জায়গা পেতে। অনেক খেলোয়াড়ের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হবার বয়স দেখলে চমকে উঠতে হয়।
সাউথ আফ্রিকান লিজেন্ড জ্যাক ক্যালিসের মতো দুর্ধর্ষ অলরাউন্ডার ছিলেন না অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। না। পরিসংখ্যানেও অনেকটাই পিছনে পড়ে থাকবেন। তার মতো সুযোগও পাননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে মেলে ধরবার এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা ছিলো তার। এই বিশেষ জায়গায় হয়তো জ্যাক ক্যালিসও ব্যর্থ হয়েছেন বহুবার।
অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আমার ও আমার মতো আরও অগুনিত শূন্য দশকের কিশোর তরুণদের ক্রীড়ার মাধ্যমে আনন্দ দেবার জন্য। বিদায়! ওপারে অনেক ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



