somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে: পর্ব ৩

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিচিতি পর্ব, অতঃপর চমকের পর চমক

হোটেলে ফিরেই অনেককে দেখতে পেলাম গলায় GCPএর ID ঝুলিয়ে ঘুরছে।আমিও তড়িঘড়ি করে জিনিসপত্র রুমে রেখে ছুটলাম রেজিস্ট্রেশন করতে। রেজিস্ট্রেশন শেষ হতে না হতেই দৌড় দিলাম ডিনারের জন্য। দুপুরে অভুক্ত থাকায় খিদেটা ভালই ছিলো।গিয়ে দেখি কাউকেই চিনি না! খাবার নিয়ে কোথায় বসি কোথায় বসি করতে করতে একটা খালি টেবিলেই বসে পড়লাম।একে একে আমার টেবিলে এসে জড়ো হলো আফ্রিকান, আমেরিকান এবং ইন্ডিয়ান participant রা।এখানে একটা মজার কান্ড হলো। ঐদিন ডিনারে ডেজার্টে ছিলো দুধসেমাই। তো আফ্রিকানরা এই খাবারের সাথে পরিচিত ছিলো না। বিধায় খাওয়ার পরের খাবার তারা খাওয়ার আগেই নিয়ে আসলো। আমাদের টেবিলে ছিলেন আমেরিকার কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর। তো এক আফ্রিকান participant ঐ প্রফেসর সাহেবকে বললেন, " তুমি কি স্যুপ পছন্দ করো না? স্যুপটা ভাল, নিতে পারো! " আমি চি চি করে একটু বলার চেস্টা করলাম যে, ঐটা স্যুপ না, ডেজার্ট!:-* কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রফেসর সাহেব আমার কথা না শুনেই স্যুপ আনতে চলে গেলেন এবং ফিরে এসে জানালেন যে সার্ভিং বয় রা তাকে জানিয়েছে যে সেটা আসলে ডেজার্ট! :|

খাওয়ার এক পর্যায়ে দেখলাম, ছিপছিপে লম্বা গড়নের মডেলদের মতো দেখতে খুবই স্টাইলিস একজন আফ্রিকান মহিলা সব টেবিলে ঘুরে ঘুরে গল্প করছেন। সবাইকে দেখলাম তার সাথে খুব আন্তরিকতার সাথে কথা বলতে। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় সে আমার পাশে চলে এলো এবং আমার হাত ধরে খুব স্বাভাবিকভাবে বললো," হ্যালো আরমিন, কেমন আছো? আমি এন ডিওপ।" আমিতো একই সাথে অবাক, মুগ্ধ এবং বিস্মিত হলাম! এই সেই এন ডিওপ?:-* GCPএর Capacity building এর team leader! আমিতো এর আমন্ত্রনেই এখানে এসেছি। আমি মনে মনে কল্পনা করে রেখেছিলাম এন ডিওপ একজন গম্ভীর আধাবুড়া ভূড়িয়ালা কোনো হোমরা চোমরা লোক হবেন!:P কিন্তু বাস্তবের এন ডিওপ আমার কল্পনার চাইতে একদম ভিন্ন হয়ে দেখা দিলেন! খুব ভালো লাগলো আর অনেক গর্ব হলো যে এন ডিওপের মত এতো অল্পবয়স্ক (দেখে অল্প বয়স মনে হয়) মহিলা এতো গুরুত্বপূর্ন পোস্টে আছেন। :)

ডিনারের পর এন ডিওপকে বললাম, আমি গ্রিসেল্ডার সাথে দেখা করতে চাই। তো এন ডিওপ বললো, গ্রিসেল্ডা রেজস্ট্রেশনের ওখানে আছে, সে নিজেও যাবে ওর সাথে দেখা করতে।এখানেও চমক! গ্রিসেল্ডাকেও আমি ভদ্রলোক ভেবেছিলাম, গিয়ে দেখি ভদ্রমহিলা!:P

পরদিন খুব ভোরে উঠে রেডি হতে হলো। কারন সকাল আটটায় ওপেনিং। তার আগেই ব্রেকফাস্ট সারতে হবে। যেকোনো বড় অনুস্ঠানে শাড়ি আমার পছন্দের পোশাক! আর আমি লক্ষ করেছি যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুস্ঠানে অংশগ্রহনকারীরা তাদের দেশীয় সংস্কৃতিটাই তুলে ধরে। তো অনোভ্যস্ততায় লাল টুকটুক শাড়ি পরে যখন নাস্তা করতে গেলাম, দেখি অনেকেরই খাওয়া শেষ! সকাল সকাল আরেকটা চমক! মেম পুতুলের মতো দেখতে নিতান্তই অল্প বয়স্ক একটা মেয়ে মায়াকাড়া হাসি দিয়ে বলে উঠলো," হ্যালো আরমিন, কেমন আছ? আমি জিলিয়ান।" এ্যা বলে কি এই মেম পুতুল? এই সেই জিলিয়ান? যে কিনা মিটিং এ আসার আগে পোস্টার দাও, রিপোর্ট দাও করে করে আমার মাথা খেয়ে ফেলেছিলো! আমি অসম্ভব বিরক্ত ছিলাম এর উপর। মনে মনে জিলিয়ানের যে ছবিটা একেছিলাম,তা অনেকটা এরকম , মুখে ভদ্রতার নকল হাসি ঝুলানো স্যুটেট বুটেট মাঝবয়সী কোন ভদ্রলোক। আবারো ধরা খেলাম! আসলে এই মিটিংএ যাবার আগে এন ডিওপ, গ্রিসেল্ডা আর জিলিয়ান এই তিনজনের সাথেই সবচেয়ে বেশী যোগাযোগ হয়েছিলো। আর আমি ৩জনকেই ছেলে ভেবেছিলাম। খুব ভালো লাগলো যখন দেখলাম GCPএর লিডিং পোস্টগুলিতে মেয়েদের জয়জয়কার!

সেদিন ব্রেকফাস্টে কি খেয়েছিলাম মনে পড়ছে না। শুধু মনে আছে পেস্ট্রি নিয়েছিলাম জিলিয়ানের দেখাদেখি। চমৎকার বন্ধুত্ব হয়ে গেলো প্রথম দিনেই।ও বলছিলো ও সকালে খেতে পারেনা, ওর পেট নাকি দেরীতে জাগে! হা হা!

মিটিংএর জন্য নির্ধারিত কনভেনশন সেন্টারে ঢুকে দেখি প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেছে! সব টেবিল ভরা! কাউকে চিনি না! কি করি! খুজতে খুজতে পেয়ে গেলাম আমার বাংলাদেশী কলিগকে।উনিও ফিলিপাইন থেকেই গিয়েছিলেন।মিটিংএ কি আলোচনা হয়েছিলো, সেটা লিখতে গেলে আরেক মহাভারত হয়ে যাবে! তার চেয়ে বরং কিছু ছবি দেখা যাক!






চা বিরতি


দুপুরের খাবারের লম্বা লাইন





কস্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ! :)

মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে

মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে: পর্ব ১

মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে: পর্ব ২
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৪৩
৩৩টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×