somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মৃত্যু সংবাদের অপেক্ষা

০৬ ই জুন, ২০১১ রাত ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনারা সবাই কবির জন্য দোয়া করবেন
কবি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন
আপনাদের সকলের দোয়া কাম্য
-প্রেস রিলিজের মত কথাগুলি বলে চলে গ্যালেন
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়।
উপস্থিত সকলেই যার যার মত করে
নীরবতা ভেঙে বললেন
এ ক্ষতি অপূরণীয়;
বাংলা সাহিত্য আজ তার নক্ষত্র হারালো;
তিনি ছিলেন আমাদের অগ্রদূত;
তিনি ছিলেন অমুক, তিনি ছিলেন তমুক
বলতেই থাকলেন
মানুষটা মারা যাবার আগেই, স্তাবকতার ভীষন চাপে
শুভাকাঙ্খি দর্শনাথীগন তাকে ''ছিলেন'' বানিয়ে দিলেন
উপস্থিত সকলেই আবারো শব্দ করে উঠলেন
একজন রুমাল চেপে ধরলেন তার ফোলা ফোলা চোখে
দুর ছাই পানি আসেনা কেন,
একজন পাথরের মত মুখ করে বসে রইলেন নরম সোফায়,
একজন ভাবলেন এ নিয়ে এখনই একটা কবিতা লিখে ফেলতে পারলে
কালকের সাহিত্য পাতায় ছেপে যাবে নির্ঘাত,
খুব কাছের বন্ধুমত একজন সাংবাদিকদের কাছে বর্ণনা করছিলেন
সকালে নাস্তার পর সিগ্রেট ধরাতে গিয়ে, কিভাবে অসুস্থ হলেন কবি,
কেউ কেউ দোষারোপ করলেন তার বাড়াবাড়ি ধুমপান।
কবিপত্নীকে ঘিরে আছে কয়েকজন ত্রিশ-পঁয়ত্রিশোর্ধ মহিলা
চল্লিশোর্ধও হতে পারে
পার্লার ফেরত মহিলাদের বয়স নির্ধারন বেশ কঠিনই
এরা সবাই হাই সোসাইটির, সমাজসেবা আর ক্লাব নিয়েই ব্যস্ত সবাই
সমস্ত সমাজসেবা মুলতুবি ঘোষনা করে আজ তারা শোকাহত
কবি বা তার কবিতা সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান
পাঠ্যপুস্তকের বাইরে না হলেও
কবির অন্তিম শয়নে উপস্থিত থাকার কথা বলতে পারা যে
প্রতিবেশীর ঈর্ষার কারন
এতটুকু জ্ঞান তাদের আছে।

শাদা বিছানায় শুয়ে থাকা, শীর্ণ চেহারার
দরবেশের মত লোকটার
আজ অন্তিম সময়,
নানা রকম যন্ত্রপাতি এখন শরীর চালায় তার
অথচ গত চল্লিশ বছর এই শরীর চালিয়েছে কলম
ক্ষুরের চেয়ে তীক্ষ্ণ কলম,
বারবার কলম তার
হাতিয়ার হয়েছে আম জনতার,
শাণিত অক্ষরগুলো বারবার কাঁপিয়েছে
যুবকের হৃদয়, কখনো রাজপথ
আবার কখনো বা আর্দ্র করেছে প্রেমিকের হৃদয়।
সেই আঙুলে আজ নানা রঙের
তারের বেষ্টনী
মনিটরে ধরার চেষ্টা চলছে কবির হৃৎস্পন্দন,
ওরা জানেনা কবির হৃদয় কবির শরীরে থাকেনা
টুকরো টুকরো হৃদয়ের কণা তার
প্রচন্ড ছোঁয়াচে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়ে
হৃদয় থেকে হৃদয়ে, বুক থেকে বুকে
শুধু কাঠামোটাই নিজস্ব তার এই যা,
তাই তো ডাক্তার যখন বললেন,
ফুসফুসের ক্যান্সারটা পরোপুরিই সারবে
শুধু প্রয়োজন লাখ দশেক টাকা
তখন আর কিইবা করার ছিল মধ্যবিত্ত কবির,
কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো সৌম্য চেহারার যে লোকটার
সন্ধে মেলালেই দেখা মিলত রুস্তমের টি-ষ্টলে,
সে লোক আজ প্রচন্ড রোদে ঘোরে
তার গাড়ী হাকানো বন্ধুদের অফিস পাড়ায়
উদ্দেশ্য,
ধারের অর্থ যোগাড়
আর্দ্র হৃদয় ব্যাবসায়ী বন্ধুর হৃদয় ভিজলেও
মগজের হিসেব ভেজেনা;
হিসেবের ভুল ব্যবসায়ী করেনা।
সেই থেকে শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস
সবাই চায় কিছু একটা ব্যবস্থা হোক,
কিন্তু সেই কিছু একটার জন্য সময় নেই কারও,
সবাই ব্যস্ত;
কবি বন্ধু, ব্যাবসায়ী বন্ধু, সংগ্রামী বন্ধু, অভিনেতা বন্ধু
কে করবে সেই কিছু একটা,
সরকারী সাহায্যের আবেদনের মেয়াদ বাড়তে বাড়তে
ফুসফুসের মেয়াদ গেল কমে ।
আজ সবাই সমাগত
আজ কবির অন্তিম শয়ন,
একটি মৃত্যু সংবাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে সবাই
আসে না কেন?
অনেক ব্যস্ত সময় বের করে আজ এসেছে সকলে
সময়টা নষ্ট হোক চায়না কেউই,
অপেক্ষা শুধু একটি মৃত্যসংবাদের
আজ তারা কেউ খালি হাতে ফিরে যেতে চায়না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১:৪৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×