বর্তমান সরকার মনে হইতেছে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে বেশ সচেষ্ট। এক সময় আমরা পাট বিদেশে পাঠাইয়া অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করিতাম। যদিও পাকিস্তানের "শোষনামলে" সেই বৈদেশিক মুদ্রার সুবিধা বাংলাদেশের জনগণ ভোগ করিতে পারেনাই। পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরেও দেশের জনগণ কষ্ট করিয়া যাইতেছে। পাটের বাজার যেহেতু মন্দা তাই ইদানিং পাট এর চাষও কম হইয়া থাকে। এর পর আসিলো পোশাক শিল্প। আমরা ভালই করিতেছিলাম কিন্তু নিজেরাই হরতাল মিছিল করিয়া নিজেদের পায়ে কুড়াল মারিলাম।
দেশের চরম সময়ে ক্ষমতায় আসিলো এই সরকার। তাঁহাদের পিছনে আবার আছে উর্দি পড়া লোকজন। তাঁহারাই মূলত কল কাঠি নাড়িয়া সাধারন জনগণের মাথা আওয়ালাইয়া দিতেছে। তাহাদের কাজে জনগণ অতীতের সকল অপকর্ম ভুলিয়া ভাবিতে লাগিলো এই বার দেশ না আগাইয়া কোথায় যাইবে? দেশের সকল দূর্নীতিবাজ ধরিয়া কারাগার ভরিবার জন্য তাহারা ছোট খাটো সিচকা চোর এবং চুরনিদের কে মুক্তি দিলো। তাঁহাদের বুদ্ধিতে আমরা মুগ্ধ হইতে লাগিলাম। বড় চোরদের তাঁহারা ফসকা গেঁড়োর মত মামলা দিয়া কারাগারে সাধারণ কয়েদীদের সাথে থাকিতে দিলো। তারপর সরকারের মাথায় (কিংবা হাঁটুতে) বুদ্ধি আসিলো রপ্তানির জন্য নতুন কিছু আবিষ্কার করিতে হইবে। পাটের পরে পোশাক শিল্প আর পোশাক শিল্পের যেহেতু ছেড়াবেড়া অবস্থা তাই নতুন কিছু দরকার। এখন তাঁহারা যাহাদের কারাগারে ভরিয়া ছিলো তাঁহাদের রপ্তানি করিবেন। ভাগ্য ভালো বুদ্ধি করিয়া ফসকা গেঁড়ো মার্কা মামালা দিয়াছিলো। তা না হইলে রপ্তানি করিতে বাধার সৃষ্টি হইত।
নতুন এই রপ্তানি দ্রব্যের সুফল আমরা জনগণ কি পাইব? পাট বা পোশাক শিল্পের মত বৈদেশিক মুদ্রা যে অর্জন করিবনা তাহা বুঝিতেছি কিন্তু তাহাদিগকে বিদেশে পাঠাইয়া বাংলাদেশ কি পাইবে তাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


