somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আফসোসের গল্প…

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাখে আল্লাহ মারে কে…!
হায়াত,রিযিক,মৃত্যু সকল কিছু মহান আল্লাহতালার হাতে,আল্লাহ যখন যা চাই তা হবে এবং হয়।এই পৃথিবীর সৃষ্টির সর্ব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানব জাতি।
আল্লাহ সুবাহানাতালা একজন মানবকে সৃষ্টি করার পর তার আয়,উন্নতি,রিযিক,হায়াত নির্ধারন করে রাখেন।
একজনের কথা বলি,একজন মানুষের সমস্ত কিছু নির্ভর করের তার কর্মের উপর কর্মের ফলাফল অনুযাযি উন্নয়ন ও সফলতা।
উন্নয়নের ফলে একজন লোক অনেক সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
অনেক সম্পত্তির মালিক লোকটি,
ক্রমানয়ে উনার বয়স বেড়ে চলছে। বয়স অনুযায়ি বিবাহ সম্পূর্ণ করেছে,আল্লাহর রহমতে চার সন্তান দুই কন্যার জনক হয়েছেন।
সন্তান কন্যাদের যথা সম্ভব চেষ্টায় শিক্ষিত করেছে,তাদের বিবাহও সম্পূর্ণ করেছে।
উন্নয়নের অবস্থায় কেনা জমি গুলো বিক্রয় করে,ভাড়া দিয়ে প্রতি নিয়ত খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বয়সের কারণে,ঐ লোকটির এক মহা রোগ ধরা পড়েছে।
ব্যাপার একটাই চিকিৎসার নিতে চাইলে অনেক টাকার প্রয়োজন।
ছেলেরা মোটামুটি চলে দুজন ব্যবসায়ী,বাকীরা বাবার টাকায় চলে মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়েছে ভাল পাত্র দেখে।বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন ঐদিকে উনার স্ত্রীও তেমন সুস্থ নয়।
সম্পত্তির কোন অংশ কোন ছেলেকে ভাগ করে দেয়নি।
পরিবার জায়গার সব হিসাব নিকাশ নিজেই পরিচালনা করে আসছে,অসুস্থের খবর পেয়ে নিজে একটু হ্যাঁপিয়ে উঠলেন,ভয় পেলেও মনোবল হারান নি।আমাকে বাঁচতে হবে কঠোর পদক্ষেপ নিলেন উন্নত চিকিৎসা নিতে,প্রয়োজনে বিদেশ যাবেন।
এখন ছেলেদের কাছ থেকে আর্থিক ভাবে কোন ব্যাক আপ পাবে না বাবা ঠিকই জানেন।
নিজেই সিধান্তে নিলেন টাকা যোগার করতে হবে,
উনার ক্যাশ টাকা নেই তেমন কোন ব্যাংক ব্যালেন্সও নেই।উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে উপায় একটা,জায়গা বিক্রয় করা লাগবে।
অনেক পরিচিত লোকের কাছে টাকা চাইলেন সবাই ফিরিয়ে দিল,টাকার অংক বড় তো প্রথম ধাপে লাগবে দশ লাখ টাকা।
তিনি নিজেই চিন্তা করতে লাগলেন কারো কাছে হাত না পেতে নিজের সম্পত্তি গুলো বিক্রয় করে দি এতে চিকিৎসার টাকা মিলে যাবে, চিকিৎসা নিয়ে অন্তত আমি কিছুদিন সুস্থ থাকতে পারব।
জায়গা বিক্রয় করতে চুড়ান্ত সিধান্ত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দিতে লাগলেন।
ল্যন্ড ব্যবসায়ী কোম্পানী গুলো অতি দামে জায়গা ক্রয়ের ফলে সাময়িক ক্ল্যু সৃষ্টি হয়,ফলে জায়গার দাম কমে গিয়েছে।
প্রতি শতকে জায়গা অনুযায়ী ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে না।এদিকে মানুষে হাতে টাকা পয়সাও নেই,বিজ্ঞাপন খতিয়ে যে ক্রেতাগণ আসছে তারা উপযুক্ত দামের চেয়ে কম দাম কষাচ্ছেন।
এদিকে উনার অবশ্যই চিকিৎসা নিতে বাইরে যেতে হবে।
একজন ক্রেতার থেকে উপযুক্ত দামের চেয়ে একটু কম দামে জায়গা বিক্রয় করার চুক্তি সম্পাদন করেন।বাজারের মৌজা মূল্যের চেয়ে কম দিয়ে বিক্রয় করে দিলেন অনেক জায়গা,ক্যাশ টাকা হাতে নিয়ে নিলেন।পাড়ি জমালেন চিকিৎসা নিতে।
আল্লাহ উনার প্রতি সহায় ছিলেন চিকিৎসা সেরে মোটামুটি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলেন।
দেশে ফেরার পরঃ নিয়মিত ঔষুধ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন পর দেখলেন ভূমির চড়া দামে বাড়তে শুরু করেছে।
উনার ৩য় ছেলে বাবাকে প্রশ্ন করলেন,বাবা তোমার তো এতো সম্পত্তি আছে আমাদের ভবিষ্যৎ এর জন্যে তুমি আমাদের কি কি দিয়ে যাবে…?
কিছুদিন আগে চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক জমি বিক্রয় করে দিয়েছো অনেক সস্তা দামে আজ যদি তা বিক্রয় করতে তা অনেক মূল্যে বিক্রয় করতে পারতে।
ছেলেটি প্রতি নিয়ত আফসোস করে যাচ্ছে…
বাবা ছেলেকে মুছকি হেঁসে বললো বাবা এই সম্প্ত্তি মালিক কে…?
ছেলে বলল তুমি।
বাবাঃ আমার জমি যা করার আমি নিজেই করবো,এতে তোমার মাথা ব্যাথা কেন…?
আমি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম তখন তো তুমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করো নি,এখন আমার সম্পত্তি নিয়ে চিন্তা করছো কেন…?
আফসোস করছো কেন…?

আমার সম্পত্তি আমার চিকিৎসার কাজেই ব্যবহার করছি এতে তোমার ক্ষতি কি?
আফসোস করো না,আমি সুস্থ হলে তুই অনেক সম্পত্তির মালিক হতে পারবি।
কোন বাবা-মা চায় না তার ছেলে মেয়ে কষ্ট পাক, আশা করি তোরাও কষ্ট পাবি না।
আমি সব মিটিয়ে দিব তোদের,তোরা কষ্ট পারি না,যদি আল্লাহ তোদের উপর সহায় থাকে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×