বিশ্বমানবতার সামনে আজ সবচেয়ে বড় হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন। মুসলিম আজ এমন এক আইডেনটিটি যাদের বিপেক্ষ পশ্চিমাদের হত্যাযজ্ঞ পূর্বের সকল সময়ের তুলনায় পরিকল্পিত এবং নৃশংস। তার মানে এই নয়, যে মুসলমানরাই এ যুদ্ধের প্রধান শত্র“ বা এটা আসলেই বুশের কথিত ধর্মযুদ্ধ; আমেরিকার এ আগ্রাসী মনোভাবের কারণ মুসলিম দেশগুলোর বিপুল তেলসম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাহীনতা। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৃতকর্মের জন্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং পর্যায়ক্রমিক আক্রমনের ছক করছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনীদের অত্যাচার আর লুন্ঠনের কারনে সেখানকার মুসলিম জনগনই আমেরিকার বিপেক্ষে প্রধান হুমকী। আফগানিস্তান এবং ইরাকে সামরিক আগ্রসন 'রথ দেখা আর কলা বেচা' সেই গল্পের মতই। একদিকে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিপক্ষ শক্তি মধ্যপ্রচ্যে মুসলিমদের সায়েস্তা করা এবং অন্যদিকে খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রন। বুশ কখনো বলেছে ক্রুসেড কখনো বলছে ওয়ার এগেইষ্ট টেরোরিজম, এ সবই মানুষকে ধোকা দেয়ার কৌশল আর নিজের দেশে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য প্রপাগান্ডা। বৃটেন এ দলে যোগ দিয়েছে লুটপাটের ধান্দায়, তাদের এ অভ্যাস বহু পুরোনো। ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকা-বৃটিশদের ঘৃন্যতম এ যুদ্ধ হল আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য ভয়কাতুরেদের যুদ্ধ; আমেরিকা শুনছে তাদের বিদায় ঘন্টা তার সে আর্তনাদ বৃটেনই বুঝতে পেরেছে কারন তাদের অভিজ্ঞতায় রয়েছে উপনিবেশ ছেড়ে আসার কষ্ট। আক্রমনের ভয়ে ভীত অপরাধীরাই নিরাপত্তা নিয়ে বেশী উদ্বিগ্ন থাকে এবং তারা কখনোই নিরাপত্তা পায় না বরং অন্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে তোলে; আমেরিকা তাই করছে সন্দেহভাজনকে আক্রমন করে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। আমেরিকা সহ ইউরোপের মদদপুষ্ট আর এক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল, মধ্যপ্রচ্যে মার্কিন নীতি এবং কৌশলের ঘনিষ্ট মিত্র। পরমানু শক্তিধর ইসরায়েল আরব রাষ্ট্রগুলোর সামনে ভয়াবহ হুমকি। ইসরায়েল নিরাপত্তার নামে গুলি করছে নিরিহ ফিলিস্তিনীদের আর মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালিয়ে রাখছে সহিংসতার বীজ। জাতিসংঘ এবং বিশ্বের তথাকথিত মোড়ল রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সন্ত্রাস দেখেও নিরবে তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েল আর আমেরিকা উভয়ই ভীতু এবং অপরাধী; মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক যুদ্ধাপরাধের হাত থেকে বাঁচতেই তারা আক্রমনের হুমকি দিচ্ছে ইরান, সিরিয়া, লেবানন, আবার বিপক্ষ শক্তি উত্তর কোরীয়া এবং চীন। মধ্যপ্রাচ্যে সবধরনের মার্কিনবিরোধী কর্মকান্ড মার্কিন সন্ত্রাসবাদের বিপেক্ষ মুক্তিকামী মানুষের নৈতিক দায়িত্ব এবং অধিকার। অথচ তাদেরই 'সন্ত্রাসী' আখ্যায়িত করছে পাশ্চাত্য মিডিয়া, একসময় সেভিয়েত রাশিয়াকে সন্ত্রাসী বলতে পছন্দ করত এসব মিডিয়া গং। বৃটেনে যারা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষেভ করেছে তারা নাকি সন্ত্রাসী! হাস্যকর এসব প্রপাগান্ডা এবং ইউরোপের তথাকথিত সভ্য(!) রাস্ট্রের দমননীতি আর বিশ্বব্যাপি প্রচারিত তথাকথিত মানবতাবাদ।
সমগ্র বিশ্বের মানুষ জানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একজন মিথ্যাবাদী এবং যুদ্ধাপরাধী। ইরাকে যুদ্ধাপরাধের হাত থেকে কোনভাবেই বাঁচতে পারে না বুশ এবং পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। এত কিছুর পরও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, নব্য ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন কেন জোরালো হচ্ছে না? কেন মানুষ আমেরিকার সামরিক কর্তৃত্ব অসহায়ের মতো অনিবার্য পরিনতি বলে ভাবছে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



