সামরিক আগ্রাসনের মতো বিশ্বব্যাপী আমেরিকার অর্থনৈতিক আগ্রাসন চলছে একই গতিতে। গ্যাট চুক্তির নামে আই.এম.এফ বিশ্বব্যাংক এর প্রেশক্রিপশন, বিশ্বব্যাপী বহুজাতিক কোম্পানীর স্বার্থে ধ্বংস করছে তৃতীয় বিশ্বের অথনীতি। তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোকে কৃষিখাতে ভর্তুকি তুলে নেয়ার জন্য নানারকম চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করছে অন্যদিকে উন্নত বিশ্ব নিজেদের দেশের কৃষিখাতে বিপুল পরিমানে ভর্তুকী দিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কৃষিখাতে একচেটিয়া বাজার দখলের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনায় তারা এগিয়ে যাচ্ছে।
সবুজ বিপ্লব এর নামে এসব পরিকল্পিত প্রকল্প বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হয়েছে আমেরিকানদের সরাসরী আর্থিক সহায়তায় এবং তত্বাবধানে। উন্নত বিশ্ব কয়েকগুন ভর্তুকী দিয়ে তাদের কৃষি টিকিয়ে রাখছে কেন? আর কেনইবা তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাধ্য করছে কৃষিতে ভর্তুকী কমাতে?
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যখন ভর্তুকী কমিয়ে নেয়া হচ্ছে তখন কৃষকেরা বেশী দামে সার ডিজেল বিদ্যুত কিনতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু, উন্নত দেশে সে ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কম হচ্ছে বিপুল ভর্তুকীর কল্যানে। ফসল আহরনের পর বাংলাদেশের কৃষকরা কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের কাছে কারন বাজার ব্যাবস্থাপনায় সরকারের নিয়ন্ত্রন কমানোর জন্য আই. এম. এফ. এর সুপারিশ রয়েছে অন্যদিকে বানিজ্য উদারীকরনের নামে উন্নত দেশ থেকে এসব খাদ্যশষ্য কম দামে আমদানী করা যাচ্ছে। ফলে কৃষকরা ফসল বিক্রি করে লাভ তো দুরের কথা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না।
যেহেতু অন্য কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই তাই ধীরে ধীরে কৃষকরা বেশী উতপাদনের আশায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ফসলের দিকে ঝুকছে। সবুজ বিপ্লবের শ্লোগানে হাইব্রিড বীজ বিক্রির প্রচারনা অনেক আগেই সুসম্পন্ন হয়েছে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- হাইব্রিড বীজের পুনঃউতপাদন ক্ষমতা নেই অর্থাত এর বীজ থেকে উৎপাদিত ধানের মাধ্যমে পরবর্তি মৌসুমে ফসল ফলানো অসম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে:
প্রথমত: বীজের জন্য বহুজাতিক কোম্পানীর প্রতি স্থায়ী নির্ভরতা তৈরী হবে এবং একসময় তাদের নির্ধারিত দামে বীজ কিনতে বাধ্য হবে কৃষকরা। কারণ তারাই হাইব্রিড বীজের বাজার একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রন করে এবং তাদের নামেই রয়েছে পেটেন্ট।
দ্বিতীয়ত: হাইব্রিড বীজের ব্যাবহারের ফলে একসময় দেশী প্রজাতীগুলো বিলুপ্ত হয়ে পড়বে (ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অনেক প্রজাতীর ধান বিলুপ্ত হয়েছে অনেক প্রজাতী বিলুপ্তপ্রায়) ফলে বহুজাতিক কোম্পানীর বীজ না পাওয়া গেলে কৃষি উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেশীয় চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যউৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্নতা নয় খাদ্যের জন্য বহুজাতিক কোম্পানীর প্রতি সম্পুর্ন নির্ভরশীলতা তৈরী হবে।
'সবুজ বিপ্লব' এর শ্লোগানে অধিক কৃষি উৎপাদনের নামে স্থানীয় কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করে বিদেশী বীজের প্রতি যে নির্ভরশীলতা তৈরী হচ্ছে তাতে লাভবান হচ্ছে বহুজাজতিক কোম্পানী, এসব বীজের পেটেন্ট শর্তে গ্যাট চুক্তির মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী রয়ালিটি পাচ্ছে আমেরিকা আর ধ্বংস হচ্ছে দেশী প্রজাতি এবং পরিবেশ। বেড়েছে সার কিটনাশক এর প্রয়োজন এবং ব্যবহার, জমি হয়ে পড়ছে নিস্ফলা। বেশী উৎপাদনের নামে বেড়েছে উৎপাদন খরচ; ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতি এবং তৃতীয় বিশ্বের কৃষক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



