‘আমরা তোমাদের ভুলব না’
-আবছার তৈয়বী
বন্ধুরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি
তালেবানের পর এবার আই.এস.আই.এস জঙ্গী গোষ্ঠি সারা বিশ্বে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা ইয়েমেনের স্থানীয় 'হোতি' সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সাথে মিশে একাকার হয়েছে। ‘আউলিয়াদের দেশ’ নামে খ্যাত ইয়েমেনের জনগণ এখন সন্ত্রাসীদের হাতে পুরোপুরি জিম্মি। আর এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্প্রতি ইয়েমেনে আমিরাতের ৪৫ সেনা নিহত হয়েছে। সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশী, বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট এ জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনে যুদ্ধে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৪৫ জন সৈন্য শহীদ হবার ঘটনায় দেশটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা পাঠানো হয়েছে আমিরাত সরকারে কাছে। কারণ, এর আগে আমিরাতের এতো জন সৈন্যের একসাথে প্রাণ দিতে হয়নি।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকার একটি কাগুজে 'শোকবার্তা' পাঠানোর গরজও বোধ করছে না। বর্তমানে ইউ.ই.তে ১০ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছে। নানা কারণে দীর্ঘদিন থেকে ইউ.এ.ই'র সাথে বাংলাদেশের কূটনীতিক যোগাযোগ শিথিল রয়েছে। সেই কারণে ভিসা-জট এখনো খুলছে না। বাংলাদেশী প্রবাসী ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হবার পথে। বাংলাদেশে ২য় বৃহত্তম রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্ততঃ সে জন্য হলেও রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ‘শোকবার্তা’ প্রেরণ খুবই জরুরি। নিজের স্বার্থ নাকি পাগলেও বুঝে। ভাবতে অবাক লাগে- বাংলাদেশ সরকারের কি পাগলের বোধশক্তিও নেই?! কেন এ হীনমন্যতা?
আমি জানি- বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব এইচ এম মাহমুদ আলী একজন ঝানু কূটনীতিক। মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব শাহরিয়ার আলম একজন সজ্জন ও সাদা মনের রাজনীতিবিদ। এতোবড় একটি ‘হৃদয় বিদারক’ সংবাদ তাঁদের চোখে পড়ল না- ভাবা যায়?! পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ে ‘মিডলইস্ট ডেস্ক’ নামে আলাদা একটি বিভাগও রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন শতাধিক কর্মকর্তা। ‘পেটমোটা’ কেতাদুরস্ত এবং পাতলা চিকনী শিফন শাড়ীওয়ালী এই কর্মকর্তাদের কাজটা কী? মোটা অংকের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাই কি তাদের একমাত্র কাজ? নাকি সাদা চামড়াওয়ালীদের পেছনে ঘোরা আর মন্ত্রীর ‘ফুট-ফরমায়েশ’ খাটাই তাদের একমাত্র কর্মসূচী? না হয়, শতাধিক দেশে অবস্থানরত প্রায় এককোটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের একদশমাংশেরও বেশি লোক যে দেশে থাকে, সেই দেশের প্রতি এ রকম ‘অবহেলা’ করা কি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ কোন সরকারের পক্ষে মানায়? বলুন- মানায়? হুন্ডির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা যাওয়ার পরও ইউইএ প্রবাসীদের প্রেরিত টাকা কি বৃটেন-আমেরিকা থেকে আসা টাকার দ্বিগুণেরও বেশি নয়?
আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ১০ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি- 'বিশেষ দূত' মারফত ইউ.এ.ই সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি ‘শোকবার্তা’ পাঠান। আর তা আজ এবং এখনই। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি ইতোমধ্যে ‘শোকবার্তা’ পাঠিয়ে থাকেন- তো এটা ফলাও করে প্রচার করা হলো না কেন? 'বাংলাদেশ-ইউ.এ.ই' দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিন। ইউএই’র শীর্ষনেতাদের ‘দাওয়াত’ দেন। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়ণমূলক কাজে অংশগ্রহণের জন্য ইউএই’র শীর্ষ নেতাদের উৎসাহিত করুন। এমন কাজ করুন- যাতে ইউ.এ.ই’র সাথে সম্পর্কটা উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়- মজবুত হয়, জোরালো হয়। কারণ- সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র। আর ইউ.এ.ইর মতো বন্ধুরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
আবছার তৈয়বী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)- দুবাই, ইউ.এ.ই।
প্রতিষ্ঠাতা: আদর্শ লিখক ফোরাম (আলিফ), চট্টগ্রাম।
নির্বাহী সদস্য: আনজুমানে খোদ্দামুল মুসলেমীন, ইউ.এ.ই কেন্দ্রীয় পরিষদ, আবুধাবি।
তারিখ: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
আবুধাবি, ইউ.এ.ই।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


