somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজিটাল সিংহ ও ইঁদুর

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই ছোটবেলা থেকেই সিংহ-ইঁদুরের গল্পটি শুনে আসছেন,তাই ওটা নতুন করে আর না বলি। যুগ পাল্টেছে,তাই গল্পটাকে যুগের সাথে মিলিয়ে যুৎসই রূপায়ন করা যুগের দাবীও বটে। যাই হোক, অযথা 'বকওয়াস' না করে গল্পের কাহিনীতে আসি।

ইঁদুরের কৃপায় বেঁচে যাওয়া সেই সিংহ মামা এখন বনের খাদ্য দফতরের মন্ত্রী।সেই ইঁদুরটাও এখন তার অফিসের পিয়ন।সিংহ প্রতিদিন দুপুরের লাঞ্চের পর তার এসি গুহায় মনের সুখে দিবানিদ্রা দেয়।সিংহের মেজাজ-মর্জি এখন বুঝাই দুস্কর।মন্ত্রী হওয়ার পর তার মাথাটা আগের চেয়ে একটু বেশিই গরম হয়েছে বোধ হয়! তাই দিবানিদ্রাকালীন তাকে কোনভাবে বিরক্ত করা কঠোরভাবে নিষেধ।সুতরাং ভুল করেও কেউ একাজ করতে আসে না।

একদিন দুপুরে ভূরিভোজ সেরে যথানিয়মে সিংহ দিবানিদ্রায় আচ্ছন্ন।এসময় জরুরী প্রয়োজনে ইঁদুর তার গুহায় ঢুকে পড়ে।কিন্তু দরজা খোলার শব্দে তার নিদ্রা টুটে যায়।সিংহ ইঁদুরকে খপ করে ধরে ফেলে হুংকার দিয়ে বললো, তোরে কতবার কইছি ঘুমের সময় ডিস্টার্ব করবি না!আইজ তোর একদিন কী আমার একদিন।তোর চাকুরি এখুনি “নট” কইরা দিমু।সিংহ রাগে গজরাতে থাকে।তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঠিকরে পড়ে।

বেচারা ইঁদুর হাতজোড় করে কাঁদতে লাগলো- স্যার গো,ভূল হয়া গেছে, এবারের মতো মাফ কইরা দ্যান।অভাবের সংসার।তিন পোলা,দুই মাইয়া সাথে আমার বউ- সবাই না খাইতে পাইয়া মইরা যামু।স্যার,এমনও হইতে পারে- একদিন আপনারে আমিই বিপদ হইতে বাঁচামু।
- হা হা হা,তুই আমারে বাঁচাবি?হাসতে হাসতে ইঁদুরকে ছেড়ে দেয় সিংহ।

এর কিছুদিন বাদের ঘটনা। দুর্নীতিবাজদের ধরতে বনে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিসাররা।সেই ফাঁদে আটকা পড়ে সিংহ।কঠিন জাল,ছাড়া পাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় সে,কিন্তু পারে না।এই বিপদের কালে হঠাৎ উদয় হয় ইঁদুরের।ফাঁদের নিকটে গিয়ে ভালো করে পরখ করে বললো,জাল বহুত শক্ত,স্যার।সিংহকে দেখেয়ি ইঁদুর একে একে বলতে লাগলো, এইটা আপনার বিদেশী ব্যাংক একাউন্টের ফাঁস,এইটা ঘুষ খাওয়ার ফাঁস, এইটা বনের সম্পদ অবৈধভাবে নিজের কাজে ব্যবহারের ফাঁস,এইটা জমি দখলের ফাঁস,এইটা পচা খাদ্য আমদানীর ফাঁস,এইটা নিরীহ পশুদের উপর অত্যাচারের ফাঁস…..।এতো ফাঁস গলে বের হওয়াটা 'ডিফিকাল্ট'।
তয় স্যার,আপনে কোন টেনশন লইয়েন না।আমি আপনারে মুক্ত কইরা দিতাছি।এই বলে ইঁদুর কুট-কুট করে ফাঁদ কেটে সিংহকে মুক্ত করলো এবং দাঁত বের করে বললো, স্যার,কইছিলাম না একদিন আপনারে আমিই বিপদ হতে বাঁচামু?এহন দ্যাখলেন তো?ছোট বইলা কাউরে অবহেলা করবেন না।

সিংহ ইঁদুরকে কাছে ডাকলো।ইঁদুর খুশির চোটে মনে মনে বগল বাজাতে লাগলো- এইবার প্রমোশন ঠেকায় কে!
কাছে যেতেই সিংহ ফিসফিস করে বললো, “তুই অনেক কিছু জাইনা গেছস রে,তোরে আর বাঁচাইয়া রাখা ঠিক অইবো না,গুড বাই..”।একথা বলেই বেচারা ইঁদুরকে খপ্ করে ধরে ট্যাবলেটের মতো গপ্ করে গিলে ফেললো!

মোরাল অব দ্যা স্টোরি: কারো উপকার করা ভালো কাজ,তাই বলে যার-তার উপকার করতে যাবেন না।কারন,খারাপ লোকের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা নেহাত বোকামো।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১১:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×