somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাগত, হিজরী নববর্ষ ১৪৩৮

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিজরত ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্বের ইতিহাসেও সবচে’ তাৎপর্যবহ ও সুদূরপ্রসারী একটি ঘটনা। দ্বীন ও মানবতার বৃহত্তম স্বার্থে ত্যাগ ও বিসর্জনের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। মক্কার পৌত্তলিক মুশরিকদের আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দেয়ার ফলস্বরূপ রাসুল (দ.)সহ নওমুসলিমরা মক্কার কাফেরদের ভয়াবহ পাশবিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবরোধে অমানবিক অবস্থায় দিনাতিপাত করতে থাকে। এরি মধ্যে মুশরিকরা মহানবীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। আল্লাহ পাক তাদের এই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে রাসুল (দ.)কে মদিনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন। ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনকারী এই ঘটনার স্বারক হিজরী সন।


হিজরি সনের ইতিহাস :

হিজরি সন মুসলিমদের সন। এর সাথে মিশে আছে মুসলিমদের ইতিহাস-ঐতিহ্য। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ই সেপ্টেম্বর আল্লাহ্‌র নির্দেশে মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি কুবায় পোঁছেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মদিনায় পোঁছেন। মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ বা ১৫ জুলাইয়ের সূর্যাস্তের সময়কে হিজরি সন শুরুর সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কেউ কেউ এটাকে ১৬ই জুলাইও বলেছেন। ১৭ হিজরি সন (৬৩৮ খ্রি.) হতে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের শাসক হযরত ওমর (রা.)র শাসনামলে হিজরি সন গণনা শুরু হয়। হিজরী সন প্রণয়নের কারণ হিসেবে একটি ঘটনা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তা হলো- হযরত ওমর (রা.)র নিকট ইরাক ও কুফার প্রশাসক আবু মুসা আশয়ারী (রা.) এক চিঠিতে লিখেন, “ আমিরুল মু’মিনিন, আপনার পক্ষ থেকে আসা শাসন সংক্রান্ত উপদেশ, পরামর্শ এবং নির্দেশ সংবলিত বিভিন্ন চিঠিপত্র ও দলিলে কোন সন-তারিখ না থাকায় আমরা তার সময় ও কাল নির্ধারণে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হই। অধিকাংশ সময় এসব নির্দেশাবলির মধ্যে পার্থক্য করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে বলে আপনার নির্দেশ ও উপদেশ পালন করতে গিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।” এ পত্র পাওয়ার পর হযরত ওমর (রা.) মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এক পরামর্শ সভার আয়োজন করেন। সভায় হযরত আলী (রা.)র প্রস্তাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মদিনায় হিজরতের ঐতিহাসিক দিন থেকে একটি সন তৈরী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হিজরতের মাধ্যমেই মুসলিমরা একটি নতুন দেশ লাভ করে, স্বাধীনতা পায় এবং ইসলাম গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এটাকে স্বরণীয় করে রাখার জন্য বর্ষপঞ্জি তৈরির ক্ষেত্রে হিজরতকে বেছে নেয়া হয়। -(উমদাতুল কারী : ১৭/৬৬)

মুহাররমকে প্রথম মাস ধরার কারন :

রাসুল (সা) মদিনায় আসেন রবিউল আউয়াল মাসে। কিন্তু হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস ধরা হয় মুহাররমকে। এর মধ্যে নিগুঢ় রহস্য রয়েছে। যদিও রাসুল (সা) রবিউল আউয়াল মাসে হিজরত করেছিলেন, কিন্তু তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিলো আরো আগেই। নবুওয়াতের ১৩তম বছরে জিলহজ্জ মাসে আকাবার ২য় শপথে একদল মদিনাবাসী ইসলাম কবুল করেন এবং তখন থেকেই রাসুল (দ.)র মদিনায় হিজরতের ক্ষেত্র তৈরী হয়। আর মুসলিমদের প্রথম হিজরতকারী দলটি মদিনায় পোঁছায় মুহাররম মাসে এবং এটাই ছিল রাসুল (দ)র হিজরতের প্রস্তুতি পর্ব।
আল্লামা শাওকানী বলেন, “ চান্দ্রমাসের ধারাবাহিকতা এবং এগুলোর নাম আল্লাহ পাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এগুলো কোন মানুষের তৈরী নয়।”
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “ নিশ্চয় আল্লাহ্‌র বিধান ও গণনার মাস বারোটি ” – তাওবাহ : ৩৬

হিজরী সনের গুরুত্ব :

মুসলিমদের জীবনে হিজরি সন-তারিখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানের ইবাদতের তারিখ, ক্ষণ ইত্যাদি চান্দ্রমাসের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- রোযা, হজ্জ, যাকাত ,ইদ্দত ইত্যাদি। ফকীহগণ চান্দ্রমাসের হিসাব রাখাকে ফরযে কিফায়া বলেছেন।

হিজরী বারো মাসের নাম :

১. মুহাররম
২. সফর
৩. রবিউল আউয়াল
৪. রবিউস সানী
৫. জমাদাল আউয়াল
৬. জুমাদাস সানী
৭. রজব
৮. শা’বান
৯. রমযান
১০. শাওয়াল
১১. জিলকদ
১২. জিলহজ্জ

শেষকথা হচ্ছে হিজরী সন মুসলমানদের ইতিহাস-ঐতিহ্যর নিদর্শন এবং আমলী জিন্দেগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ বিষয়। তাই মুসলমানদের জন্য এর প্রসার ও ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হওয়া জরুরী।

-আজহারুল ইসলাম

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×