ইবিপিএম গবেষণা বাজেট প্রস্তাবনা
গবেষণার শিরোনাম
কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা প্রয়োগে উৎপাদন এবং আয় বৃদ্ধির উপায় হিসেবে শিক্ষাভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ কৌশল নির্ধারণ।
(এই গবেষণাপত্রটি প্রাতিষ্ঠানিক কোন গবেষণাপত্র নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নয়। গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় কোন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী প্রফেসর ছিলেন না। তবে এই গবেষণাপত্রটির রূপায়ণে কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং দেশকে নিয়ে যাঁরা ভাবেন এমন কিছু ব্যক্তিত্বের অবদান অনস্বীকার্য।
গবেষণা কর্মটি বাংলাদেশের পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিটি নাগরিকের উদ্দেশ্যে নিবেদিত)
কতিপয় টার্মের ব্যাখ্যা
ইবিপিএমঃ এডুকেশন বেজড প্রোডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং। শিক্ষা ভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ। শিক্ষার্থীরা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ, মূল্য সংযোজন, বিপণন ইত্যাদি শিখবে। আমাদের এনসিটিবি’র কারিকুলামে কৃষি শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষাসহ আরও অনেক প্রফেশনাল সাবজেক্ট ইবিপিএম পদ্ধতির আওতায় আসতে পারে।
ইএফএলঃ এমপ্লয়মেন্ট ফোকাসড লারনিং। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা। কর্মমুখী শিক্ষা নয় বরং কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা-ই আমাদের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা হতে পারে।
ইএফএলঃ এডুকেশন ফান্ড লিমিটেড। একটি অনলাইন ব্যাংক ব্যবস্থা এই ফান্ডটি নিয়ন্ত্রণ করবে।
ইএফএল বিডি লিমিটেডঃ যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত একটি সোশ্যাল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ যার শেয়ার মালিকানা থাকবে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক-লোকাল কমিউনিটির হাতে।
এলসিঃ লোকাল কারিকুলাম। স্থানীয় পণ্য কিংবা সেবাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত কারিকুলাম। স্থানীয় সম্পদ এবং সহায়তাকে কেন্দ্র করে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা সম্ভব।
এলএলইঃ লাইফ লং এডুকেশন। জীবনব্যাপী শিক্ষা। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীকে এর আওতায় এনে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা প্রদান সম্ভব।
ফ্রি ইনফরমেশন পেপারঃ এলসি এবং এলএলইতে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীদের সবার জন্য ফ্রি তথ্যপত্র। ঘরে বসেই এই ফ্রি ইনফরমেশন পেপার পেতে থাকবে। কি শিক্ষা সে লাভ করছে তার মূল্যায়নের ব্যবস্থাও থাকবে। এফএম রেডিও, ইন্টারনেট, মোবাইল ফ্রি ইনফরমেশনের বাহন হতে পারে।
এডুকেশন ব্যাংকঃ শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক-লোকাল কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে অনলাইন এডুকেশন ব্যাংক থাকবে। প্রত্যেকের নামে স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্ট থাকবে। হাতে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হবে।
বাংলাদেশ ভার্চুয়াল স্কুলঃ তথ্যপ্রযুক্তিকে সাধারণ জীবনমানে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্কুল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সেবা নিশ্চিত করা এই স্কুলের কার্যক্রম।
ভূমিকা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত “কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা প্রয়োগে উৎপাদন এবং আয় বৃদ্ধির উপায় হিসেবে শিক্ষাভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ কৌশল নির্ধারণ।” শীর্ষক স্টাডিটি একটি ধারণাগত স্টাডি। অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র এই দেশে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করবে পাশাপাশি উপার্জনও করবে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারকে কৃষিকাজে কিংবা অন্য যে কোন কাজে সহায়তাদানের পাশাপাশি পড়াশুনাও চালিয়ে যায়। অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী আছে যারা হস্তশিল্পে, রন্ধনশিল্পে পারদর্শী। তাদের এই দক্ষতাটুকু কাজে লাগিয়ে তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা যায়। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নে একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে শিক্ষাভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পদ্ধতি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনামূলক কার্যক্রমের কারণে (গরীব ও মেধাবী ছাত্রীদের উপবৃত্তি, প্রাইমারি স্কুলে টিফিন) স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা বাড়ছে বলে অনুমিত হয় কিন্তু শিক্ষার মানের কোন উন্নতি হচ্ছে কিনা তা বিবেচনার দাবি রাখে। প্রকৃত অর্থে শিক্ষার মানের তেমন উন্নতি ঘটেনি। জব মার্কেটের দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে যে যুগোপযোগী শিক্ষার অভাবে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিতে পারছে না। অন্যভাবে বলা যায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছি না, ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিবছর জব মার্কেটে এসে ভিড় জমায়। গুটিকয়েক মেধার জোরে চাকরি জোটাতে পারলেও অধিকাংশই তা পারে না। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা মতে প্রতিবছর প্রায় ২৫ লক্ষ বেকার তরুণ জব মার্কেটে প্রবেশ করে । আমরা প্রতিবছর এদের কতজনের চাকুরির নিশ্চয়তা দিতে পারি!
আমাদের শিক্ষাপদ্ধতিতে ব্যাপক কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন না করেই কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্ভব। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী একটি ভিশন দাঁড় করানো দরকার। সরকার প্রধানের কার্যালয় থেকে এই ভিশনটি বাস্তবায়নে কার্য পরিচালিত হবে। সরকার পরিবর্তন হবে কিন্তু ভিশনের কোন পরিবর্তন হবে না। এই ভিশনটি হতে পারে ২৫ বছর মেয়াদী। ২০১০ থেকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর সময়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পপুলেশন প্রজেকশন অনুযায়ী ২০৩৪ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১৯৬ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ। এই ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ লোককে ভিশনের অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন ছোট ছোট মিশন হাতে নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই মিশনগুলো বাস্তবায়িত হতে পারে।
শিক্ষাভিত্তিক উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ পদ্ধতি বিশ্লেষণঃ
আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন না এনেই আমরা এডুকেশন বেজড প্রোডাকশন অ্যান্ড মার্কেটিং বা ইবিপিএম ধারণাটি প্রয়োগ করতে পারি। মাইক্রো পাইলটিং দ্বারা শুরু হবে। গবেষণার মাধ্যমে এই ধারণার বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমাদের এনসিটিবি’র কারিকুলামে এরকম প্রফেশনাল বিষয় আছে। কৃষি শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক। নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ঐচ্ছিক। কৃষি শিক্ষা কারিকুলামে অনেক প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক শিক্ষা আছে কিন্তু তা প্র্যাকটিস করা হয় না। যদি যথাযথভাবে তা প্র্যাকটিস করা হতো বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই কৃষি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সস্তায় কৃষিপণ্য রপ্তানিকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারতো। সেই সাথে কৃষি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতো।
এখন একটি প্রশ্ন আসে, কেন এতদিন এই বিষয়টি প্র্যাকটিস করা হয় নি? শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সাধারণ উত্তর হচ্ছে অর্থের অভাব এবং দারিদ্র্যের কারণে। অপরদিকে শিক্ষা প্রশাসক এবং নীতিনির্ধারকরা ভাবছেন শিক্ষকরা যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছেন না। এটি সত্যি যে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ধারণাটির সাথে সবাই পরিচিত নয়। যদি তাঁদেরকে এই ধারণার সাথে পরিচিত করানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে একটি ইবিপিএম পদ্ধতির উন্নয়ন খুব সহজ হবে।
প্রস্তাবিত ইবিপিএম ধারণাটি বাস্তবায়নে বর্তমান কারিকুলামে ব্যাপক কোন পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। শুধু স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ করে তা ব্যবহারের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা পদ্ধতি আরোপ করে স্থানীয় সম্পদ এবং স্থানীয় দক্ষতাসমূহকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। এবং এভাবে আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে ইবিপিএম ধারণাটি বাস্তবায়ন ঘটাতে পারি। এই ধারণাটি দারিদ্র্য দূরীকরণের একটি চাবি হতে পারে। স্থানীয় উদ্যোগগুলোকে উৎসাহদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে ইবিপিএম। একজন উদ্যোক্তা আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এভাবে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
এনসিটিবি কারিকুলামে ব্যবসায় শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা, গার্হস্থ্য শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদি নামে আরও প্রফেশনাল অনেক বিষয় আছে। ইবিপিএম ধারণাটি এই বিষয়গুলো দ্বারাও প্রয়োগ সম্ভব। আলোচ্য স্টাডিটি শুধু কৃষি শিক্ষা বিষয়টিকে ভিত্তি ধরে করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে গবেষণার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে ইবিপিএম ধারণাটি বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্দেশ্যসমূহঃ
এই স্টাডির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইবিপিএম কিভাবে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে নিশ্চিত করবে তা হাতে কলমে দেখানো। এছাড়াও অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহ হচ্ছে-
১. ইবিপিএম ধারণার যৌক্তিকতা এবং ধারণাটি বাস্তবায়নে পরিকল্পিত ছক প্রণয়ন করা।
২. বাংলাদেশের শিক্ষা বাজেট বিশ্লেষণ করে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা।
৩. ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইবিপিএম বাস্তবায়নে পাইলটিং শুরু করা। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এটি ছড়িয়ে পড়বে।
৪. ২০৩৪ সালে অনুমিত ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ জনগোষ্ঠীর মাথাপিছু ১ টাকা বরাদ্দ ধরে ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বাজেট সংগ্রহপূর্বক পাইলটিং শুরু করা।
মেথডোলজি
গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নে একেবারে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
১। ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ, ফেনী- ১৮ জন উদ্যোক্তা শিক্ষার্থী সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে তাদের দ্বারা কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
২। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন, মজুচৌধুরী হাট, লক্ষ্মীপুর- ১০০ জন অবহেলিত জেলে শিক্ষার্থী এই স্কুলে কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় পড়াশুনা করছে।
ডকুমেন্ট স্টাডি
সেকেন্ডারি ডাটা অ্যানালাইসিস
গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টসমূহ যেমন বাংলাদেশ সংবিধান, পলিসি রিপোর্ট, পিআরএসপি, মাধ্যমিক শিক্ষা কারিকুলাম ইত্যাদি স্টাডি করে উপরোক্ত ধারণাটিকে সংগঠিত করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের বাজেট, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক রিপোর্ট, সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট এগুলো বিশ্লেষণ করে ইবিপিএম ধারণাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রাইমারি ডাটা অ্যানালাইসিস
ইবিপিএম ধারণাটি এমন যে সরাসরি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, লোকাল কমিউনিটি এবং কমিউনিটির নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এই ধারণাটি বাস্তবায়ন সম্ভব। পাইলটিং পর্যায়ে উপরোক্ত দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং লোকাল কমিউনিটির নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ দ্বারা ইবিপিএম ধারণার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমের তাৎপর্য এবং যৌক্তিকতা
১. কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ইবিপিএম ধারণা নিয়ে গবেষণা দ্বারা উদ্যোক্তা শিক্ষার্থী গড়ে তোলা সম্ভব।
২. এই ধারণা বাস্তবায়ন দ্বারা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যবসায় উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা সম্ভব।
৩. প্রয়োজনভিত্তিক পরিকল্পনা এবং বাজেট প্রণয়নপূর্বক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে ইবিপিএম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবায়ন দ্বারা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে এটি আরও কার্যকর এবং বেগবান করতে পারে।
৫. ইবিপিএম ধারণাটি পুরো দেশের কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহজ বিকল্প হতে পারে।
বাজেট প্রস্তাবনাঃ
এই ধারণাট বাস্তবায়নে একটি যৌথমূলধনী কোম্পানি কাজ করবে যার অনুমোদিত এবং পরিশোধিত মূলধন ১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। এই অর্থ সামাজিক ব্যবসায়ের আওতায় সরকারি, বেসরকারি কিংবা অন্য যে কোন উৎস থেকে সংস্থান করা যেতে পারে। সামাজিক ব্যবসায়ের আওতায় এই কোম্পানি পরিচালিত হবে বিধায় প্রচলিত অর্থে সুদ বহন করা হবে না। তবে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আসল অর্থ ফেরত প্রদান করা হবে। ৩ বৎসর মেয়াদে এই অর্থ কোম্পানির মূলধন হিসেবে গ্রহণ করে পাইলটিং পরিচালিত হবে। ৩ বৎসর শেষে গবেষণালব্ধ ফলাফল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য চুড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
গবেষণার সম্ভাব্য সুফল
পাইলটিং পর্যায়ে এই অর্থ দ্বারা কমপক্ষে ১৪ হাজার শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সম্ভব।
আগামী পর্বে থাকবেঃ বাজেট বিশ্লেষণ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

