somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে : ২ লাখ ১৫ হাজার ৬শ' টন তেল উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বোরো ও আমনের বাম্পার ফলনের পর এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সরিষার ক্ষেত হলুদ ফুলে একাকার হয়ে গেছে। এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকরা আশা করছেন এবার বাম্পার ফলন হবে। চলতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ২৯ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার হেক্টর। প্রতি হেক্টরে ১ টন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটনে শতকরা ৪০ ভাগ হিসেবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টন তেল উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

মানিকগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার দিগন্তজোড়া গ্রামের মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। আবার অনেক এলাকায় সরিষা গাছের পাতা হলুদ হয়ে গাছে ফলের ভারে গাছের ডগা হেলে পড়েছে। তেলজীব হিসেবে সারাদেশেই কমবেশি এর চাষ হয়েছে। ফলে সরিষা চাষের দিকে অধিক আগ্রহী হবার কারণে আগামীতে সয়াবিন তেলের আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। সরজমিনে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদা হচ্ছে ১২ লাখ টন। এর মধ্যে সয়াবিনের চাহিদা ৯ লাখ টন, পাম অয়েলের চাহিদা ২ লাখ টন এবং সরিষা তেলের চাহিদা ১ লাখ টন। এবার সরিষা তেলের চাহিদার ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টন বেশি তেল উৎপাদন হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান। ফলে সয়াবিন তেলের আমদানিনির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে।

অর্ধ শতাব্দী আগেও এদেশের মানুষের সঙ্গে সয়াবিন ও পাম্প তেলের পরিচয় ছিল না। প্রধানত খাবার তেলরূপে সরিষা তেলের প্রচলন ছিল ঘরে ঘরে। গত শতকের ষাটের দশকের শুরু থেকে এদেশে সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি শুরু হয়। দামে সস্তা থাকায় খুব দ্রুত সয়াবিন ও পাম তেলের ব্যবহার বিস্তৃতি লাভ করে এবং পিছিয়ে পড়তে থাকে দেশীয় সরিষা তেল। বর্তমানে নতুন করে সরিষার চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। এ বছর কমপক্ষে ৫ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এ থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টন তেল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষিকর্মীদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে রবি ফসলের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হ্রাস পেয়েছে। সামপ্রতিককালে কৃষকরা উপলব্ধি করতে পেরেছে বোরো জমিকে পতিত না রেখে একটি আগাম রবি ফসল ফলান যায়। যেমন সরিষা, পিঁয়াজ, মসুর, মটর, ডাল ইত্যাদি। কার্তিক মাসে বর্ষার পানি নেমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে জমির আগাছা পরিষ্কার করে কোন হালচাষ ছাড়াই নরম জমিতে সরিষা বপন করা যায়। গত বোরো ও আমনের বাম্পার ফলনের পর এ বছর তেলজীব হিসেবে সরিষার বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় সরিষার ফলন ভালো হয়। ৮০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পাকা সরিষা কৃষকরা ঘরে তুলতে পারে। এর পর জমি চাষ করে মাঘ মাসে বোরো রোপণ করতে কোন অসুবিধা হয় না। আমরা এ বছর শতকরা ১৬ ভাগ অর্থাৎ ৬৪৮ টন সরিষা বীজ সরবরাহ করেছি। ভালো বীজ এবং ভালো ফলনের জন্য বিএডিসি বীজের চাহিদা বাড়ছে। তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে সরিষার বীজ বেশি সরবরাহ করা হলে উৎপাদন ক্ষমতাও আরও বাড়ান সম্ভব হতো।

সরিষার মতো অতি স্বল্পসময়ের ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরিষার দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চাষীরা। গত কয়েক বছর ধরে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষার চাষ অনেক বেড়েছে । বগুড়া জেলায় গত ৪ বছরে সরিষার আবাদ সমপ্রসারণ হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৬ সালে জেলায় ১২ হাজার হেক্টর টার্গেটের বিপরীতে ১১ হাজার ৭শ' ২৫ হেক্টরে সরিষা চাষ হয়। ২০০৯ সালে এ আবাদ বেড়ে হয় ১৫ হাজার ৮শ' ৯৪ হেক্টর। চার বছর আগে উৎপাদন ছিল যেখানে ১৩ হাজার ৪শ' ৪২ মেট্রিক টন, গত মৌসুমে সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৮ হাজার ৮শ' ৯৪ মেট্রিক টন।

চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ১৭ হাজার ১শ' ৯১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চাষের আওতায় এসেছে ১৬ হাজার ৯শ' ৫২ হেক্টর জমি। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতীয় সরিষার চাষ হয়েছে ১৩ হাজার ৫শ' ২ হেক্টরে। স্থানীয় জাতের সরিষা চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৪শ' ৫০ হেক্টরে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার সরিষা চাষি ইসাহাক আলী গত মৌসুমে ৩ বিঘায় সরিষা আবাদ করলেও চলতি মৌসুমে আবাদ করেছেন ৪ বিঘা জমিতে। বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ খুবই কম। সার সেচ দেয়া নিয়েও কোন দুশ্চিন্তা নেই। তাছাড়া সরিষার আবাদ তুলেই লাগান যায় বোরো চারা। দাম বেশি পাওয়ায় চাষিরা সরিষা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

অনুকূল আবহাওয়া, কম সময়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও দাম বেশি হওয়ায় দিন দিন সরিষার চাষ বাড়ছে। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকে পড়ছে সরিষা চাষে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×